কাশ্মীরে সেনা ছাউনিতে হামলায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬

nagrota-terror-attack-video_305_113016120758 ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীরে কাছে নাগরোটায় সেনাছাউনির ওপর মঙ্গলবার ভোরে সন্ত্রাসবাদীরা হামলা ছালায়।এখন অবধি প্রাপ্ত খবরের সুত্র বলছে যে কমপক্ষে ২জন অফিসার সহ ১৬ জন ভারতীয় সেনার এই হামলায় মৃত্যু হয়েছে।ভারতীয় সেনার পাল্টা হামলায় ৩-৪ জন জঙ্গি মারা গেছে।সেনাছাউনির মধ্যে  এখনও অবধি কতজন জঙ্গি লুকিয়ে অবস্থান করছে বা সব জঙ্গিকে নিকেশ করা গেছে কি না সেই সংখ্যাটা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি সেনাবাহিনীর অফিসারেরা।জঙ্গিদের সন্ধানে চিরুনি তল্লাশি চলছে।চলতি বছরে পাঠানকোট উরির পর নাগরোটায় সেনাছাউনির ওপর জঙ্গি হামলার ঘটনা দ্বিতীয়।ভারতী সেনাছাউনির ওপর দ্বিতীয় বড় ধরনের জঙ্গি হামলাই বলে দিচ্ছে যে আগামিদিনে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক কোন খাতে বইতে চলেছে।

উত্তেজনার পারদ আরও বাড়বে বই কমবে না।হামলার ধরনটা যদি আমরা লক্ষ করি তাহলে নাগরোটায় হামলা আর উরির হামলার মধ্যে কোন তফাত খুঁজে পাব না।নাগরোটা কাশ্মীরে চারটে আর্মি কম্যান্ড সেন্টারের অন্যতম।ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৬ কোরের সদর দফতর নাগরোটা।এক হাজারেরও বেশি সেনা অফিসারেদের বসবাস এই সেনাছাউনিতে।ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে একদল ফিদায়ে হামলাকারী গ্রেনেড ও গুলি ছুড়তে ছুড়তে সেনাছাউনির ভেতর ঢুকে পড়ে এবং অফিসার মেস লক্ষ করে এলোপাতারি গুলি ও গ্রেনেড ছুড়তে থাকে।আচমকা হামলায় সেনাবাহিনী হতচকিত হয়ে পড়ে এবং সেই সুযোগে সন্ত্রাসবাদীরা একটি ভবনের মধ্যে আশ্রয় নেয়।প্রায় সারাদিন ধরে দুপক্ষের ভেতর গুলির লড়াই চলে।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মনীষ মেহতা বিবৃতি দিয়ে জানান সন্ত্রাসবাদীরা ভারিভারি অস্ত্র নিয়ে ছাউনির মধ্যে   প্রবেশ করে।ঠিক কতজন সন্ত্রাসবাদী ছাউনিতে প্রবেশ করেছে ঐ মুহূর্তে সেনাবাহিনীর পক্ষে আন্দাজ করা মুশকিল ছিল।ঘটনার দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেই উত্তরও মনীষ মেহতা দিতে পারেনি।

নাগরোটা সেনাছাউনির বাইরে বসবাশকারী মানুষজনদের বয়ান মোতাবেক ভোরবেলা থেকেই আওয়াজ শুরু হয়।প্রথমে ছোটখাটো আওয়াজে বাসিন্দারা তেমন গুরুত্ব দেয়নি পরে বেলা যত বাড়তে থাকে শব্দের তীব্রতা বাড়তে থাকে।এর পরেই বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে যে যার ঘর থেকে বেড়িয়ে আসে।শব্দের তিব্রতাকে স্থানিয়রা বজ্র বিদ্যুতের সঙ্গে তুলনা করে।

সেপ্টেম্বরে উরি হামলার ঠিক দশদিন পর ভারত পাকিস্থানের অভ্যন্তরে ঢুকে জঙ্গি আস্তানাগুলোর ওপর হামলা চালায় বা সারজিকাল স্টাইক করে,উরির ঘটনার পর ঠিক দুমাষের মাথায় নাগরোটার ঘটনা ঘটল।আরও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল,হামলার দিন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান রাহিল শরিফ পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিলেন এবং বিদায়কালে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিলেন “পাকিস্তানের ধৈর্যকে ভারত যেন তাদের দুর্বলতা বলে না ভাবে”।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *