কবি,বাগ্মি,আদ্যোন্ত গনতন্ত্রপ্রেমী বাজপেয়ীজীর জীবনাবসান

947062_567981529912517_2139128610_nভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী আর আমাদের মধ্যে নেই। বিগত ৯ সপ্তাহ ধরে কিডনি সংক্রামণ, মূত্র ত্যাগে জটিলতা, শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার কারণে দিল্লির এইমস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত ডায়াবেটিকে ভুগছিলেন। একটি কিডনির সহায়তায় চলছিল তার শরীর। ২০০৯ সালে স্ট্রোকে, ডিমনেশিয়া রোগে আক্রান্ত হন। ১৬/৮/১৮, বৃহস্পতিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।কিন্তু চিকিৎসকদের প্রানপন প্রচেষ্টা অবশেষে বিফলে যায়। তিনবারের ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীর মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

১৯২৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন অটল বিহারী বাজপেয়ি। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলনে অংশ গ্রহনের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। কবি, যুক্তি শানিত অসামান্য বাগ্মিতা, আদ্যন্ত গনতন্ত্রপ্রেমী বাজপেয়ীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। ১৯৯১, ১৯৯৬, ১৯৯৮, ১৯৯৯, ও ২০০৪ সালে লহ্মনৌ লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির সাংসদ নির্বাচিত হন। রাজ্যসভারও সাংসদ ছিলেন।

১৯৯৬ সালে মাত্র ১৩ দিনের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। এরপর ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৪ পর্যন্ত প্রাধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বাজপেয়ীজি একমাত্র অ-কংগ্রেস রাজনীতিবিদ যিনি ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পুরো মেয়াদ শেষ করেছেন। এ ছাড়া ভারতের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি জাতিসংঘে হিন্দিতে ভাষণ দিয়েছিলেন।

২০১৫ সালের ২৭ মার্চ, ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ভারতরত্ন’ পুরস্কারে বাজপেয়ীকে সন্মানিত করা হয়। ২০১৪ সাল থেকে বাজপেয়ীর জন্মদিনটিকে ভারত সরকার ‘গুড গভর্নেন্স ডে’ হিসেবে পালন করে আসছে।

একবিংশ’র পক্ষ থেকে এই মহান রাজনীতিবিদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *