“এটা রাজনীতির যুদ্ধ নাকি যুদ্ধের রাজনীতি”??

indiaa-5c74c9aa14018পাকিস্তানের আকাশ সীমা অতিক্রম করে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে অবস্থিত জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালালো ভারতীয় বিমানবাহিনী।

সোমবার রাত সাড়ে তিনটের সময়  ১২টি মিরাজ জেট ফাইটার বিমান হামলা চালায়। ১০০০ কেজি বোমাবর্ষণ করে জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে উড়িয়ে দেয়।

ভারত,পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এই অভিযান চালিয়েছে। বালাকোট সেক্টর থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রায় ৮০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে হামলা করে ভারতীয় যুদ্ধবিমান। বালাকোট, চাকোটি এবং মুজফরাবাদে জইশ-ই-মহম্মদের তিনটি লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় জইশের কন্ট্রোল রুম আলফা-৩।

চকোটিতে টানা বোমাবর্ষণ চলে রাত ৩ টা ৫৮ মিনিট থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত। মুজফরাবাদে বোমাবর্ষণ চলে রাত ৩ টা ৪৮ মিনিট থেকে ৩ টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত।

ভারতের এই অভিযানের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর জানিয়েছেন, ভারতীয় বিমান বাহিনী নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করেছে।

বারংবার পাকিন্তান দ্বারা ভারতের ওপর হামলায় বহু জান-মালের লোকসান হয়েছে। ভারতের সহিষ্ণুতাকে পাকিস্তান দুর্বল মনে করছিল। পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর ১৩০ কোটি ভারতবাসী মনে প্রানে কামনা করছিল যে ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে একটা মুতোড় জবাব দেওয়া উচিৎ। আমিও তাই কামনা করেছি।

কিন্তু একজন সাধারন ভারতবাসী হিসাবে আমার মনে কিছু প্রশ্নের উদয় হয়েছে। ২১ মিনিট ধরে গোয়ালিয়র বিমান ক্ষেত্র থেকে ১২টি যুদ্ধ বিমান পাকিস্তানের দিকে উড়ে যায়। বিমানের ভারতীয় নাম বজ্র্য, যাকে আমরা ফরাসি ভাষায় মিরাজ ২০০০ বলে জানি। ভারতীয় যুদ্ধ বিমানের সঙ্গে একটি AWAX বিমান ছিল, যার কাজ শত্রুপক্ষের র‍্যাডারকে জ্যাম করে দেওয়া এবং তার সঙ্গে রিফুয়েলিং বিমান সমেত মোট প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি যুদ্ধ বিমান পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে গেল, যার স্বল্প দুরেই অবস্থান করছে স্বরগদা ও মুজাফরাবাদ বিমান ক্ষেত্র যেখানে পাক বিমান বাহিনীর এফ১৬ যুদ্ধ বিমান মজুদ থাকা সত্ত্বেও ২১-২২ মিনিটের বিমান হানার বিরুদ্ধে পাক বাহিনী কেন প্রত্যাঘাত করলো না, এর উত্তর আমি খুঁজে পাচ্ছি না।

ভারতীয় সেনা বাহিনীর শৌর্য ও বীর্যকে আমি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সন্মান দিয়েই বলছি, এই বিমান হামলায় দাবি মত ৩০০ জন জঙ্গি প্রান হারায় তাহলে তার ছবি এখনো প্রকাশ পেল না কেন, এরও উত্তর আমি এখনো খুঁজে পাচ্ছি না।

জইস- ই- মহম্মদের আলফা-৩ ক্যাম্প, যা পাক অধিকৃত কাশ্মীরে হলেও পাক আন্তজার্তিক সীমান্ত রেখার খুবই কাছে। সেখানে ভারি মাত্রায় পাক সেনা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে অথচ পাক বাহিনীর পক্ষ কোনও জবাবী হামলা আমরা দেখতে পেলাম না। এই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজে পাচ্ছি না।

ভারতীয় বিমান হামলার বেশ কিছুক্ষণ পরে,সকালের দিকে, কচ্ছ এবং কাথিয়াবাড় সিমান্তে  পাকিস্তানের ড্রোনকে গুলি করে নামানো হোল। এই ঘটনাটির খবরও আমরা দু পক্ষের থেকে পাই নি। এরও উত্তর খুঁজে পাচ্ছি না।

এই প্রশ্নগুলো আমাকে চিন্তিত করেছে এই কারনেই যে, তবে কি পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পরে ভারতের দিকে দায় এসে পড়েছিল একটা মোক্ষম জবাব দেওয়ার। যে জবাবটা চাইছিল ১৩০ কোটি ভারতবাসী- “এখন নয়তো, জবাব তবে কবে”?

পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার দুদিন পরেই হটাৎ করে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সের পাকিস্তানে আসা এবং ২০ বিলিয়ন ডলার বিনা উদ্দেশ্যে দান খয়রাতি করা, কেন? এর উত্তর খুঁজতে হবে। যেখানে সারা পৃথিবীর সমস্থ অর্থনৈতিক সংস্থাগুলো পাকিস্তানকে অর্থ বরাদ্ধ কাটছাঁট করছে, কারন সব সংস্থার কাছেই পরিস্কার হয়েছে যে পাকিস্তানকে উন্নয়নের উদ্দেশ্যে দেওয়া অর্থ সাহায্যের সিংহভাগ টাকা পাকিস্তান তার দেশে অবস্থিত জঙ্গি বাহিনীর পেছনে খরছ করছে। সেখানে সকলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ক্রাউন প্রিন্সের অর্থ সাহায্যের পেছনে উদ্দেশ্য কি?

তার ঠিক একদিন পরেই সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স যখন ভারতে আসলেন তখন ভারতের প্রধান সেবকের প্রিন্সের গলা জড়িয়ে ধরাটাকে অনেক কিছু ভাবতে উপাদান যোগাচ্ছে। যদি এভাবে ভাবি, ক্রাউন প্রিন্স “লিমিটেড ওয়ারের” দুত হয়ে আসেন নি তো?? যেখানে তিনি দু পক্ষকেই শান্ত করতে চেয়েছেন মুখ রক্ষার তাগিদে।

এই প্রশ্নগুলো তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় এই কারনে, যে আন্তজার্তিক জলসীমা লঙ্ঘন চুক্তি কোনও দেশ এককভাবে করতে পারে না। তাছাড়া সিন্ধু নদী ও বিয়াস নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণটা আজকের প্রকল্প নয় দীর্ঘদিনের প্রকল্প। সেই প্রকল্পের মাধ্যমে নদী পথকে অন্যদিকে চালিত করা ভারতবর্ষে নতুন কোনও সংযোজন নয়। যদি নাই হয় তাহলে জল নিয়ে অস্তিন গোটানোর প্যাঁয়তারা কেন? তাহলে কি সমস্থটাই যুদ্ধ রাজনীতির কৌশল?

আমার মনে হয় এই প্রশ্নগুলো শুধু আজ নয় আগামী দিনেও আমাদের তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *