জলদস্যুতার সেকাল একাল.. (শেষ পর্ব) (লেখক- অনির্বাণ ভট্টাচার্য)

2কেবল ছেলেরাই নয় কয়েকজন নারী জলদস্যুর কথাও জানা যায়।এঁদের মধ্যে দুজন পৈশাচিক অত্যাচার আর নিষ্ঠুরতায় পুরুষদেরকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল।মেরি অ্যান ছিল তেমনই এক জলদস্যু।ইনি আবার জাহাজে পুরুষের ছদ্মবেশে থাকতেন।আইরিশ মহিলা অ্যান বনিও পুরুষের ছদ্মবেশে জলদস্যুতা করতেন।ক্যাপ্টেন জ্যাক র‍্যাকহ্যামের জাহাজ ‘রিভেঞ্জ’এও এক নারী দস্যু ছিল বলে শোনা যায়।তাঁর নাম ছিল মেরি রিড।এঁরা ধরাও পড়েছিলেন।তবে মৃত্যুদণ্ড হয়েছিলো বলে শোনা যায়না।

ক্যাপ্টেন হেনরি স্টিল এক বছরের মধ্যে একশোটি জাহাজ লুঠ করে খবরের শিরোনামে এসেছিল।

1

জলদস্যুদের গল্প অসম্পূর্ণ থাকবে,যদি ব্ল্যাক বেয়ার্ডের প্রসঙ্গে একটি কথাও না বলা হয়।ইংরেজ বুক্কানীর ছিলেন ব্ল্যাক বেয়ার্ড।পুরো নাম এডোয়ার্ড টেক।১৭১৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ছিলেন বৃটিশ নৌবাহিনীর এক সাধারন সৈনিক।ছ ফুট ছ ইঞ্চি লম্বা এই মানুষটির মুখ কুচকুচে কালো লম্বা দাড়ি আর গোঁফ।সেই দাড়িতে আবার রঙীন ফিতে দিয়ে অগুন্তি বিনুনি বাঁধা।টুপির দু পাশে থাকত সরু সরু দুটো কাঠি।এহেন দশাসই মানুষটি নজরে পড়ে যান একচোখা বেঞ্জামিন নামক এক দস্যু সর্দারের।তাপ্পি মারা পোষাক আর বেল্ট বাঁধা প্যান্ট।কোমর থেকে তিন তিনটে পিস্তল ঝুলত।একটা লোহার শিকল কাঁধ থেকে আড়াআড়ি ভাবে ঝুলত।মুখে ক্রুর ভঙ্গীমা।সঙ্গে পৈশাচিক হাসি।তার জাহাজের নাম ছিল “কুইন অ্যান্স রিভেঞ্জ”।

1

অভিযানের সময় জাহাজের মাস্তুল থেকে উড়ত জলদস্যুদের পতাকা ‘জলি রজার্স'(এই পতাকার উত্তরাধিকার নিয়ে অবশ্য অনেকগুলি মত প্রচলিত আছে।কেউ কেউ বলেন খুলি আর ক্রশ করা হাড় চিত্রিত এই পতাকাটা প্রথমে জলি রজার নামক এক জলদস্যু ব্যবহার করত।কারুর মতে এটা ব্ল্যাক বেয়ার্ডের তৈরি)।অভিযান শুরুর ঠিক আগে মাথার ঠক মাঝখানে গাঁজার দড়ি চুন জলে ভিজিয়ে কুণ্ডলী করে রাখা হত।তারপর সেই দড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হত।টুপির ওপর দিয়ে,দু পাশ দিয়ে ধোঁয়া বেরোত।প্রতি এক ঘন্টায় দড়ি একফুট করে পুড়ত।অন্ধকারের মধ্যে ঐরকম বীভৎস মূর্তি সামনে এসে দাঁড়ালে এমনিতেই আক্রান্ত পক্ষের মানুষ ভয়ের চোটে ভিরমি খেত।প্রচন্ড মদ্যপ এই দস্যু সর্দার এক সঙ্গে এক পিপে মদ খেতে পারত।তার শাস্তি দেবার ধরনটাও ছিল বড় অদ্ভূত!খেলাচ্ছলে কাউকে পিপের মধ্যে পুরে দিয়ে পিপের নিচে আগুন ধরিয়ে দিতেন।কিম্বা গুলি চালাতে থাকতেন।বন্দীর আর্তনাদ শুনতে তার খুবই ভালো লাগত।১৭১৮ তে মাত্র আটত্রিশ বছর বয়সে এক যুদ্ধ জাহাজের তরুন ক্যাপ্টেন রবার্ট মেনার্ডের সঙ্গে লড়াইএ ব্ল্যাক বেয়ার্ড মারা যায়।

ধারাবাহিকটি কেমন লাগলো, দয়া করে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানান কমেন্টস বক্সে বা আমাদের মেল আইডি তে- media.ekabinsha@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *