Hariye Jaowa Boi..’Thakurmar Jhuli’

Thakurmar_Jhuliআজকের ছোটরা হয়তো ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ নামক বইটির নামই শোনেনি। শুনবেই বা কি করে,  আমাদের ছোটবেলায় একান্নবর্তী পরিবারে দাদু- ঠাকুমার কাছে গল্প শোনার বায়না করলে, কোলে দোল খেতে খেতে পরিচয় হয়েছিল ‘লালকমল- নিলকমল, ব্যাঙ্গমা- ব্যাঙ্গমীর’ সঙ্গে। বই হাতে এসেছিল অনেক পরে। বর্তমান অনু পরিবারিক জীবন যাপনে ছোট্ট ফ্ল্যাটের স্বল্প পরিসরে দাদু- ঠাকুমাদের স্থান পরিবর্তন হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে।বাবা- মায়ের ব্যাস্ততা কেড়ে নিয়েছে আবেগ, ছেলে-মেয়েরা, গল্প শোনার আবদার করলে কোলে দোল দিয়ে ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র গল্প শোনাচ্ছে, এই দৃশ্য! এক কথায় ভাবতে পারছি না।বরং বাবা-মা,রা আজকাল  টিভির সামনে কার্টুন- কমিক্সে অবসর সময় কাটাতে বলেন। কোণ অজ্ঞাত জাদুবলে হাঁদা- ভোঁদা,নন্টে- ফন্টে বা স্বপন কুমার হারিয়ে গেল, বর্তমান প্রজন্ম, টের-ই পেল না। শৈশব আনন্দের বড় প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত থেকে গেল। ইংলিশ মাধ্যম স্কুলের সিলেবাশের চাপে আজকের ছেলে-মেয়েরা পরীক্ষার খাতায় শতাংশ তোলার যন্ত্র মাত্র। সত্যি এদের শৈশবটা কিভাবে হারিয়ে গেল!

drmm

‘ঠাকুরমার ঝুলি’ বাংলা শিশু সাহিত্যে জনপ্রিয় রূপকথার সংকলন। ১৯০৬ সালে বইটি প্রকাশ করে কলকাতার ভট্টাচার্য এন্ড সন্স প্রকাশনা সংস্থা।অবিভক্ত বাংলায় ময়মনসিংহ সহ আরও অনেক জেলায় গ্রামগঞ্জে ঘুরে ঘুরে গল্পগুলি সংগ্রহ করেন লেখক দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার। সংকলিত রুপকথার গল্পের বইটার নাম দিয়েছিলেন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’। সংকলিত বইটি পড়ার পর স্বয়ং রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর মুখোবন্ধ লিখে দিয়েছিলেন।আমরা প্রায়শই চর্চা করি ভারতীয় সমাজকে চিনতে রবিন্দ্রনাথের লেখা পড়া জরুরী অথচ একই মানুষটি যখন কোণ বইয়ের গুনমান বিষয়ে প্রশংসা করে মুখবন্ধ লেখেন তখন সেই বইটিকে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে পারি না।

rokimg_20140314_22036

আজকাল শিশু মনবিজ্ঞানীরা অভিভাবকদের নজর রাখতে বলেন,ছেলে-মেয়েরা রুপকথার গল্প যেন না পড়তে পারে।কিন্তু কার্টুন- কমিক্স টিভিতে দেখতে বা পড়তে মানা করেন না। এই দ্বিচারিতা কাদের স্বার্থে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *