মহান সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক “কালী প্রসন্ন সিংহ” আজকের দিনে জন্মগ্রহন করেন।

200px-Kali-prasanna-sinhaকালী প্রসন্ন সিংহ– সমকালীন সমাজে কালীপ্রসন্ন সিংহ শিল্পসংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক, বিধবাবিবাহের একনিষ্ঠ প্রবক্তা, অনন্যসাধারণ সমাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।মাত্র ১৩ বছর বয়সে নাটক ও যাত্রার মাধ্যমে সামাজিক জ্ঞান বৃদ্ধির মানসে তিনি  ‘বিদ্যোৎসাহিনী সভা’ও ‘বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৫৭ সালে তিনি কালিদাসের সংস্কৃত নাটক বিক্রমোর্বশীয় অনুবাদ করেন এবং ১৮৫৮ সালে তিনি রচনা করেন সাবিত্রীসত্যবান নাটক। বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চে উভয় নাটকই মঞ্চস্থ হয় এবং তিনি দুটিতেই প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। তৎকালীন তিনি পর্যায়ক্রমে তিনটি সাময়িকী প্রকাশ করেন: বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা (১৮৫৫), সর্বতত্ত্ব প্রকাশিকা (১৮৫৬) এবং বিবিধার্থ সংগ্রহ। তিনি কিছুদিন পরিদর্শক নামে একটি দৈনিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন। প্রসিদ্ধ ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট  পত্রিকা’ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বন্ধের উপক্রম হলে কালীপ্রসন্ন প্রচুর অর্থ সাহায্য দিয়ে তাকে দীর্ঘ সময় বাঁচাতে সহায়তা করেন। এ ছাড়াও তিনি দাতব্য চিকিৎসালয় ও অবৈতনিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন এবং দুস্থ ছাত্র ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থ দান করেন। ১৮৬৩ সালে কালীপ্রসন্ন ‘জাস্টিস অব দি পিস’ পদ লাভ করেন। তিনি কলকাতার ‘এশিয়াটিক সোসাইটি’ এবং এগ্রিকালচারাল ও হর্টিকালচারাল সোসাইটির সদস্য ছিলেন।

নাটক, প্রহসন,উপন্যাস, নকশা, প্রবন্ধ ও অনুবাদ মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা নয়। ইংরেজিতে দি ক্যালকাটা পুলিশ অ্যাক্ট-ও (১৮৬৬) তাঁর রচনা। প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম  হুতোম প্যাঁচার  নকশা(১৮৬২) এবং পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।বাংলা সাহিত্যে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।সতেরো খন্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি,এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। বিস্ময়ের ব্যাপার মাত্র ত্রিশ বছরের জীবিতকালে  কালীপ্রসন্ন  এ সকল কৃতিত্ব অর্জন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *