শেষ কথা কার সঙ্গে বলেছিলেন????

Indira-Gandhi-Feroze-Gandhiবিখ্যাত মানুষদের নিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা বই লিখেছেন, এরকম উদাহরণ অনেক আছে। এমনই একটা বই লিখেছিলেন মাও সে তুংএর চিকিৎসকও। বইটি  বই বাজারে পাওয়া যায়।প্রায় হাজার পাতার বইটি পড়লে মনে হতে বাধ্য যে  এটা পর্ণোগ্রাফি ছাড়া আর কিছুই নয়।

সম্প্রতি আর একজন বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শ্রী মতি ইন্দিরা গান্ধীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাঃ কে পি মাথুরের লেখা দি আনসিন ইন্দিরা গান্ধী’ নামক বইটি পড়লামবাজারে ম্যাডাম সম্পর্কে বইএর অভাব নেই।তাই এই বইটিতে নতুন কি আছে জানার আগ্রহে কাল বিলম্ব না করে পড়তে শুরু করলাম।মাঝারি সাইজের বই।সুন্দর ও ঝরঝরে ইংরাজিতে লেখা।নিটোল গল্প বলার ঢঙ।

প্রধানমন্ত্রীর আবাসে ইন্দিরা গান্ধী সকাল বেলা নিজেই ঠিক করতেন সারা দিন কি কি রান্না হবে।সোনিয়া গান্ধী সংসারে আসার পর এই বিষয়টি তাঁর হাতেই ছেড়ে দিয়েছিলেন। ঘরে কি হবে, সে বিষয়ে বহুরানীসোনিয়াকে জিজ্ঞাসা করার জন্য কাজের লোকদের বলতেন ইন্দিরা।এসব ব্যাপারে মানেকাকে তিনি জড়াতেন না।
বাড়ির সকলের সঙ্গে দেওয়ালী পালন করতে ভালোবাসতেন।একবার রাজীব ও সঞ্জয়ের দুন স্কুলে দেওয়ালির  ছুটি ছিল না। ইন্দিরা গান্ধী সবাইকে নিয়ে চললেন সেখানে।কিন্তু স্কুলের কড়া নিয়ম।সন্ধ্যের আগে হস্টেলে ফিরতে হবে। সেই কারণে দিনের বেলাতে বাজি পোড়ানো এবং খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা হল। সন্ধ্যার আগেই তাদের হোস্টেলের সুপারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হল।
ডাক্তার মাথুর বলেছেন, ফিরোজ গান্ধীর সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল। ফিরোজ কোনও দিন প্রধানমন্ত্রীর আবাসে থাকতে আসেননি। তবে ফিরোজ যখন রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি তখন প্রতি বিকেলে ইন্দিরা সেখানে গিয়ে তাঁকে সঙ্গ দিতেন।তাঁর মৃত্যুর পরেও ফিরোজের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেননি।একবার ফিরোজের পারিবারিক অনুষ্ঠানে গিয়ে মুম্বইতে সবার সঙ্গে কাটিয়েছিলেন।
তিনি তখন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধের পর জুলফিকার আলী ভুট্টো এলেন ভারতে। সিমলাতে বৈঠক হবে। ভারতেরও তাগিদ ছিল। হাজার হাজার পকিস্তানী বন্দীকে তো ফেরত পাঠাতে হবে! ভুট্টোর জন্য সব ব্যবস্থাপনা ইন্দিরা নিজের হাতে করেছিলেন।হটাত একটা সমস্যা হল, প্রতিনিধি দলে যাঁরা ছিলেন তাঁরা সবাই নিরামিষ খাবার অর্ডার দিচ্ছেন।এত ব্যবস্থাপনা, সব জলে যাচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলে পাকপ্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলছেনবাড়িতে রোজই তো আমিষ খাই,তাই এখানে না হয় নিরামিষ খেলাম! কথাটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ভারতের উৎকৃষ্ট বিরিয়ানি কেউ খাবে না সেটা হতেই পারে না।সমস্যা সমাধান দিলেন মহম্মদ ইউনুস।ইউনুস ইন্দিরার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সবাইকে ডেকে বললেনওরে বোকার দলহালাল না ঝটকা বুঝতে পারছে না, তাই খাচ্ছে না। হালাল বলে দা‍ও। দেখো কি হয়!  তাই করা হল।আর যায় কোথায়। ইন্দিরা নাকি এরজন্য ইউনুসকে একটা পুরস্কার দিয়েছিলেন। তবে সেটা কি, তা অবশ্য ডাঃ মাথুর জানেন না।একটা কারণে বইটা অসম্পূর্ণ বলে মনে হয়সিমলা কান্ডে বেনজির ভুাট্টোর কোনও উল্লেখ নেই।
পিসি বিজয়লক্ষ্মী পন্ডিতএর সঙ্গে  ইন্দিরার সম্পর্ক বরাবর খারাপ ছিলইন্দিরাকে তিনি অশিক্ষিতবলে মনে করতেন। ইন্দিরাও ততোধিক অপছন্দ করতেন তাকে। রাষ্ট্রসঙ্ঘে বিজয়লক্ষ্মীকে স্থায়ী প্রতিনিধি করে ইন্দিরা তাকে দূরে সরিয়ে দেন। ডাঃ মাথুরের উপর তিনি খুব চোটপাট করতেন।একেবারেই ঘরোয়া কোন্দল। তা না হলে, ডাঃ অশোক মিত্র যখন বিজয়লক্ষ্মীর বাল্য প্রেম নিয়ে একটা প্রবন্ধ লিখেছিলেন, তা দেখে ইন্দিরা বলেছিলেনঅশোক লেখার আগে একবার আমার সঙ্গে কথা বললো না! তাহলে আমি তাকে আরও তথ্য দিতে পারতামযা লেখাটিকে আরও চমকপ্রদ করে তুলতে পারত।ঝগড়াতে কি না বলে!
ইন্দিরা যে অসম্ভব স্মার্ট এবং ম্যানেজারভদ্রমহিলা ছিলেন সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। দক্ষিণের উঠতি নেত্রী জয়ললিতাকে নিজের চেয়ার ছেড়ে বসতে দিয়েছেন। কানে নেওয়া যায় না, এমন ভাষায় বৃদ্ধ কংগ্রেস নেতাদের গালাগালি দিয়েছেন। কাউকে পাত্তা দেননি। রাতে এক সিদ্ধান্ত করেছেন সকালেই তা পাল্টে দিয়েছেন। কিন্তু সঞ্জয়ের মৃত্যুর পর মাএর আসল রূপ বেরিয়ে পড়েছে। আমার ডান হাত কাটা গেলবলে মন্তব্য করছেন। একথা সবার জানা যে রাজীব গান্ধী রাজনীতি সম্পর্কে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু ইন্দিরা তাঁকে জোর করেই এব্যাপারে যুক্ত করেন। তারপরের ইতিহাস সকলের জানা। সোনিয়ারাজীবইন্দিরা একটি অদ্ভূত ত্রিকোন তৈরি করেছেন ডাঃ মাথুর। যা গড়পড়তা বইতে পাওয়া যায় না।
মৃত্যুর আগে কার সঙ্গে শেষ কথা বলেছেন ইন্দিরা গান্ধী।এটা আজও বড়চর্চার বিষয়। ডাঃ মাথুরের সঙ্গে বলছেন তিনি অন্যান্য দিনের মতো সেদিনও প্রাত্যহিক চেকআপ শেষ করেছেন।তার আগেই ইন্দিরা তার সকালের খাবার খেয়ে তৈরি। তাড়াতাড়ি করছিলেন। কারণ, একটা ইন্টারভিউ দেবেন। লন দিয়ে পাশের বাড়ি যাবেন। ডাক্তার প্রেশার মাপলেন, হার্টবিট দেখলেন, চোখ টানলেন। সব একেবারে কাঁটায় কাঁটায় ঠিক। একসঙ্গে দুজনে বেরোলেন। ডাক্তার তাঁর গাড়িতে উঠলেন। তার আগে দুজনই দুজনকে বললেন হ্যাভ এ নাইস ডেডাক্তার বেরিয়ে গেলেন এইমসএর দিকে। আর ইন্দিরা গান্ধী এক ঝাঁকগুলির সামনে।
Mathur-l

Dr K P Mathur

সুত্রঃ- The Unseen Indira Gandhi,

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ইন্দিরা যে অসম্ভব স্মার্ট এবং ম্যানেজারভদ্রমহিলা ছিলেন সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। দক্ষিণের উঠতি নেত্রী জয়ললিতাকে নিজের চেয়ার ছেড়ে বসতে দিয়েছেন। কানে নেওয়া যায় না, এমন ভাষায় বৃদ্ধ কংগ্রেস নেতাদের গালাগালি দিয়েছেন। কাউকে পাত্তা দেননি। রাতে এক সিদ্ধান্ত করেছেন সকালেই তা পাল্টে দিয়েছেন। কিন্তু সঞ্জয়ের মৃত্যুর পর মাএর আসল রূপ বেরিয়ে পড়েছে। আমার ডান হাত কাটা গেলবলে মন্তব্য করছেন। একথা সবার জানা যে রাজীব গান্ধী রাজনীতি সম্পর্কে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু ইন্দিরা তাঁকে জোর করেই এব্যাপারে যুক্ত করেন। তারপরের ইতিহাস সকলের জানা। সোনিয়ারাজীবইন্দিরা একটি অদ্ভূত ত্রিকোন তৈরি করেছেন ডা. মাথুর। যা গড়পড়তা বইতে পাওয়া যায় না।
মৃত্যুর আগে কার সঙ্গে শেষ কথা বলেছেন ইন্দিরা গান্ধী। এটা এক সময় বড়চর্চার বিষয় ছিল। ডা. মাথুরের সঙ্গে বলেছেন। ডাক্তার প্রাত্যহিক চেকআপ শেষ করেছেন। তার আগেই ইন্দিরা তার সকালের খাবার খেয়ে তৈরি। তাড়াতাড়ি করছিলেন। কারণ, একটা ইন্টারভিউ দেবেন। লন দিয়ে পাশের বাড়ি যাবেন। ডাক্তার প্রেশার মাপলেন, হার্টবিট দেখলেন, চোখ টানলেন। সব একেবারে কাঁটায় কাঁটায় ঠিক। একসঙ্গে দুজনে বেরোলেন। ডাক্তার তাঁর গাড়িতে উঠলেন। তার আগে দুজনই দুজনকে বললেন হ্যাভ এ নাইস ডেডাক্তার বেরিয়ে গেলেন এইমসএর দিকে। আর ইন্দিরা গান্ধী এক ঝাঁকগুলির সামনে।
সুত্রঃ- The Unseen Indira Gandhi

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *