(পর্ব – পঞ্চম) কেন্দুলি মেলা (প্রসঙ্গ- অনুষঙ্গ- অপ্রাসঙ্গিকতা )

65

“ব” (ব্যাখা নিস্প্রয়োজন) এর সাধনায় যিনি “উল” (পারদর্শী) তিনিই হলেন বাউল। তাঁরা বিশ্বাস করেন যা আছে দেহভান্ডে তাইই আছে ব্রহ্মান্ডে। প্রেম বা পরমানন্দকে উপলব্ধি করে, পুরুষ ও প্রকৃতির মিলনকে ভাব জগৎ থেকে বস্তুজগতের প্রত্যক্ষণের সাধনা করেন। ‘আনন্দাদ্ধেব্য খম্বিমানি ভূতানি জায়ন্তে’ (আনন্দ ছাড়া কোন জীবই বাঁচতে পারে না)- এইই তাদের জীবনের লক্ষ্য। কেউ কেউ বলেন “বাউল” হল বাউন্ডুলে বা ভবঘুরের সংক্ষিপ্ত রূপ। কোন মানুষ যখন নিজের অস্তিত্ব ভুলে আত্মহারা হয়ে ভগবানে বিলীন হতে পারে তখনই সে প্রকৃত বাউল পদবাচ্য হয়। জয়দেব ছিলেন ‘মহাবাউল’। অবশ্য কোথাও কোথাও ‘শৈব্’ বলেও তাঁর কথা জানা যায়। আদতে শৈব থাকলেও হয়ত বৈষ্ণব প্রভাবে পরবর্তীকালে প্রভাবিত হন। রচনা করেন বিখ্যাত কাব্য “গীতগোবিন্দ”। লিখিত হয় সেই অমর পদটি- “স্মরগরল খন্ডনম ত্বমসিরসী মন্তলম/ দেহি পদপল্লব মুদরম” (হে প্রিয়ে কাম বিষের নাশক আমার শিরোভূষণ তোমার ওই দুটি সুঠাম চরণ আমাকে আমার মাথায় নিতে দাও। আমার চিত্তমদনানলে দগ্ধ। তোমার পাদস্পর্শে তার জ্বালা জুড়োক), তুর্কী আক্রমন উত্তর বাংলার সূচনা লগ্নের শ্রেষ্ঠ রচনা “গীতগোবিন্দ”। জয়দেব যে শুধু একজন রসিক পদকর্তা ছিলেন, তাইই নয়, তিনি সম্ভবত একজন বিজ্ঞানিও ছিলেন। তাঁর রচনায় ‘দশাবতার’ তত্বের উল্লেখ রয়েছে। যা ডারউইন তত্বের (১৮৫৯) ও বহু আগে থেকে বিবর্তনের ইতিবৃত্ত ছন্দে-গীতিতে-রূপকে তুলে ধরেছে।

জেলার মধ্যে যে সব নদীগুলো রয়েছে তার বেশ কয়েকটি বর্ষার সময় ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে। যার মধ্যে অজয়্নদও আছে। তবে বর্তমানে নানান ভূ-তাত্বিক ও ভূমিরূপগত পরিবর্তনে, বছরের বেশির ভাগ সময়েই নদী জলশূন্য থাকে। ফলের নদীর দু-পাড় ক্রমশ এগিয়ে আসছে পরস্পরের মুখোমুখি। পলি পড়ে নদীর মধ্যবর্তী অংশ হয়ে উঠেছে অনাব্য। নদী থেকে বালি তোলার কাজও চলছে পুরো দমে। ফলে অজয় আজ পরাজয় মেনেছে।

(লেখক- অনির্বাণ ভট্টাচার্য)
(ধারাবাহিক)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *