(চতুর্থ পর্ব) কেদুলি মেলাঃ- লেখক- অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য

45

বহু বিখ্যাত বাউল উঠে এসেছে এই কেদুলি মেলা থেকে। যাদের মধ্যে অনেকেই জাতীয় ও আন্তজার্তিক খ্যাতিসম্পন্ন উঠেছেন পরবর্তীকালে। যেমন রয়েছেন নবীন দাস বাউল (কবিগুরুর খুব প্রিয়পাত্র এই বাউলের আখড়াতে শক্তি চট্টোপাধ্যায় থেকে অ্যালেন গিনসবার্গের মত বিখ্যাত মানুষদের দেখা যেত), শিবশম্ভু দাস বাউল প্রভৃতি। এছাড়াও আছেন সুধীর ক্ষ্যাপা, গৌড় ক্ষ্যাপার মত বাউলগন। লক্ষ্মণ দাস বাউল, বিপদতারন দাস বাউল, তারক ক্ষ্যাপা, পবন দাস বাউলের নাম আজকাল আন্তজার্তিক লোকসঙ্গীত শিল্পীদের সঙ্গে একসঙ্গে উচ্চারিত হয়। যাদের বছরের বেশির ভাগ সময়ই কাটে বিদেশে।

আগে হরেক রকমের ভক্তিগীতি ও আধ্যাত্মিক গান পরিবেশনের অনেক আখড়া ও মঞ্চ হত। কয়েক বছর হল সরকারীভাবে একটি মঞ্চ নির্মাণ করে সেখানে তিনদিন ধরে বিভিন্ন রকম ভক্তিমূলক লোকসঙ্গীত পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কংক্রিটের মঞ্চ, সামনে অনেকটা জায়গা নিয়ে রড- টিন দিয়ে তৈরি মঞ্চটি হওয়াতে সহজেই নজরে পড়ে যাবার সুযোগ আরও বেড়েছে। অবশ্য অন্যান্য আখড়া গুলোতে বাউল, কীর্তন, ভক্তিগীতির আকর্ষণ তাতে বিন্দুমাত্র কমেনি। পাশাপাশি চলে গীতগোবিন্দ পাঠ, ভগবৎ পাঠ প্রভৃতি। ভক্তিবাদ ও ভগবৎবাদের এমন অপূর্ব সংমিশ্রন ভূ-ভারতে আর কোথাও দেখা যায় বলে তো শোনা যায় না। মানবপ্রেমিক জয়দেব আর এক প্রেমের মানুষ শ্রীকৃষ্ণকে এখানের প্রতিটি ধুলিকনাতে খুঁজে পাওয়া যায়।

তবে যে কেদুলি মেলাকে আজ আমরা দেখছি যে মেলার বয়স যত বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, যত বৃদ্ধ হয়েছে মেলার জেল্লা তত বেড়েছে। তবে সভ্যতার পাশাপাশি অসভ্যতা। প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে কলুষতা অযৌক্তিক ভাবে বেড়েছে। সবটুকুর জন্য অজয় নদের শুকিয়ে যাওয়া বা ভক্তিভাবের ক্ষয়িষ্ণুতা দায়ী নয়। মেলার অসুখ আরও গভীরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *