(পর্ব- তৃতীয়) কেন্দুলি মেলা (প্রসঙ্গ- অনুষঙ্গ- অপ্রাসঙ্গিকতা ) (লেখক- অনির্বাণ ভট্টাচার্য)

সপ্তদশ শতকে কেদুলি মেলার অধিকার ছিল জানুবাজার গ্রামের দত্ত পরিবারের ও কেদুলির মহন্তদের। পরে মহন্ত ফুলচাঁদব্রজবাসীর পূর্ণ তালুকদারি পেয়ে সম্পূর্ণ মালিকানা পেয়ে যায়। তখন থেকে মহন্তরাই মেলা পরিচালনা করত, তার পরিবর্তে সেবা (খাওয়া) ও আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করত। অতীতে চট্টরাজদের ১২বিঘার মাঠে চাষীদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মেলা বসত। পরে নবরত্ন মন্দির সংলগ্ন অঞ্চল জুড়ে এক বিশাল আড়ম্বর পূর্ণ মেলায় পরিণত হয়। ১৯৮১ সাল থেকে মেলা পরিচালনার ভার গ্রহণ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
‘কেদুলি’-কে ঘিরে অসংখ্য বাউল, বৈষ্ণবরা তাদের আখড়া- আশ্রম স্থাপন করে বসবাস করে আসছে। ইতিহাসবিদদের মতে এখানে প্রাকগৌড়ীয় ও গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের আখড়া ছিল। জয়দেব বৈষ্ণব কবি হলেও সকল সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয়মূলক আদর্শের ভিত্তিতেই রচনা করেছিলেন- ‘গীতগোবিন্দ’। বৈষ্ণবরা ছাড়াও এখনে সহজিয়া, দরবেশ, নেড়া-নেড়ি, কর্তাভজা , আউল (ইসলামী বাউল সাধক সম্প্রদায়) প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মানুষরা ভিড় জমান। তবে এদের মধ্যে বাউলদের আধিক্যই বেশি, বাউলরা কবিরাজ জয়দেবকে ‘মহাবাউল’ আখ্যা দিয়ে এই স্থানকে পরম তীর্থ রূপে গন্য করে থাকে। এখানকার সুধীর ক্ষ্যাপার আখড়ার লাগোয়া তমালতলীতে সঙ্গীত পরিবেশন করে বাউলরা নিজেদের সাধনার পূর্ণতার পথে অগ্রসর হয়। জয়দেব মেলায় ফকির সাঁইদেরও সমাবেশ ঘটে।

মেলায় আসা অসংখ্য অস্থায়ী আশ্রম-আখড়া ছাড়াও অসংখ্য স্থায়ী আশ্রম ও আখড়া রয়েছে। যেমন ‘কদম্বখন্ডী’ মহা শ্মশানে রয়েছে তন্ত্র সাধনা করা কাঙাল ক্ষ্যাপার আশ্রম। পঞ্চমুন্ডি সিন্ধাসন সহ বটগাছের কোটরে বসবাসকারী সাধু কোটরে বাবার আশ্রম, মনোহর ক্ষ্যাপার বেদনাসা আশ্রম, মাকিও কাজুমির মনের মানুষ আশ্রম প্রভৃতি।

(ধারাবাহিক)

Ekabinsha's photo.

23

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *