(পর্ব-২) কেন্দুলী মেলাঃ- (প্রসঙ্গ- অনুষঙ্গ- অপ্রাসঙ্গিকতা)

কবিবর সেই জলে স্নান সেরে নিত্যপুজো সারতেন, তবে দক্ষিণায়নের শেষ এবং উত্তরায়নের শুরুর এই মাহেন্দ্রক্ষণে কেন এই স্নানের মাহাত্ম, সেটা নিয়ে আরও দু-একটি মত শোনা যায়, আবার শোনা যায়, পৌষ সংক্রান্তির দিন গঙ্গা স্বয়ং কবিকে দেখা দিয়ে কবির মনোবাসনা পূর্ণ করেন। ষোড়শ শতাব্দী (১৫০০ খ্রীষ্টাব্দ)-র কিছু আগে থেকেই অজয়ে গঙ্গার জোয়ারের জল আসা বন্ধ হয়ে যায়, তবুও আজও লক্ষ লক্ষ নর-নারী গঙ্গার অববাহিকা জ্ঞানে, অজয়ের শীতল জলে আপাদমস্তক অবগাহন করে।

কবি জয়দেবের আবির্ভাবের অনেক আগে থেকেই কেদুলি মেলার সূচনা হয়। জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষণ সেনের সভাকবি। দ্বাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের সূচনার দিকেই জয়দেবের জন্ম । বাবার নাম ভোজদেব। মা ছিলেন বামা দেবী। লক্ষণ সেনের কাছে তিনি ‘কবিরাজ’ উপাধি লাভ করেন। ‘সেখ শুভোদয়া’ গ্রন্থ থেকে জানা যায় লক্ষণ সেনের সভায় সঙ্গীত পারদর্শী কলাবিদকে সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় হারিয়ে (সে যুগের রিয়েলিটি শো) জয়দেব শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা অর্জন করেন। এ সব থেকে বলা যায় কবিরাজ শ্রী জয়দেব গোস্বামীর জন্ম বীরভূমের কেন্দুবিম্ব গ্রামে। তবে ভুবনেশ্বর মিউজিয়ামের কিউরেটার শ্রী কেদারনাথ মহাপাত্র দাবি করেন যে, মিথিলাতেও কেন্দোলি নামে একটি গ্রাম আছে। মিথিলারাজ জয়দেবকে তিরহুত বা তিরভুক্তি অর্থাৎ মিথিলাভুক্ত বলে দাবি করে, তবে জন্ম যেখানেই হোক না কেন পরবর্তীকালে তিনি গৌর ও বৃন্দাবনে বেশ কিছুকাল অতিবাহিত করেন। অবশেষে পুরীতে তাঁর শেষ জীবন কাটে। ১২০৩ খ্রিষ্টাব্দের পৌষ সংক্রান্তি তিথিতে কবি মারা যান। কেন্দুলির মহন্তরা ওইদিন তাদের কূলগুরু জয়দেবের তিরোধানের শ্রাদ্ধ শান্তির অনুষ্ঠান করে থাকেন ‘কদমখণ্ডীর মহাশশ্মান সংলগ্ন অঞ্চলে, তাই এই মেলা, তাই এই অবগাহন।

(লেখক-অনির্বাণ ভট্টাচার্য)

(ধারাবাহিক)

12509236_483520008499735_3659211747070127511_n

12510228_483520028499733_8977381497973918035_n12573070_483520055166397_4215652422080272952_n

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *