(প্রথম পর্ব) কেন্দুলি মেলা :- প্রসঙ্গ- অনুসঙ্গ- অপ্রাসঙ্গিকতা

রাঢ়বঙ্গের অন্যতম জেলা বীরভুম। জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে অজয় নদী। এই অজয় নদীটাই বীরভুমকে বর্ধমান জেলার থেকে আলাদা করেছে। অজয় নদী ভাগীরথীর একটি উপনদী। অবশ্য অজয়কে বেশির ভাগ জায়গায় নদ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বীরভূমেরই বোলপুর মহকুমার ইলামবাজার ব্লকটি ‘ইলামবাজার উন্নয়ন অঞ্চল’ এর অন্তর্গত। লালমাটির দেশ বীরভুমের সঙ্গে পুরোপুরি সাদৃশ্য না থাকলেও অজয়ের অপর তীরবর্তী বর্ধমানের সঙ্গে বেশ খানিকটা ভূ প্রকৃতিগত সাদৃশ্য রয়েছে। সেই অজয়ের উত্তরতীরে কেন্দুলী গ্রামে ভারতের দ্বিতীয় বৃহৎ গ্রামীন মেলাটি আয়োজিত হয়। পয়লা মাঘের একদিন আগে থেকে পয়লামাঘের পরের দিন এই অঞ্চলে যে বিশাল মেলা বসে সেইটাই কেদুলি মেলা বা জয়দেব মেলা।

আজ থেকে প্রায় একশোরও বেশি বছর আগে মেলাটি বসত অজয়ের চরে। যদিও মেলার সূচনা তারও বহুবছর আগে। ইতিহাসবিদদের মতে বৃন্দাবনের নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের মহন্তরা অজয়চরের ‘স্নানের মেলা’-কে ডাঙায় এনেছিলেন। আজকে তারাই তাই মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে ‘মকর স্নানের’ দাবিদার।

অতীতে গঙ্গার জল আসত অজয় নদে। একে এখনও তাই ‘অজয়গঙ্গা’ বলা হয়। অজয়ের জলে পুণ্যতিথিতে ডুব দিয়ে স্নান করাকে কুম্ভ বা গঙ্গাসাগরে স্নান করার মতই পবিত্র বলে মনে করা হয়। গঙ্গা (ভাগীরথী) র জল যে অজয়ের খাতে বইত, তার প্রমাণ ভূ-তাত্ত্বিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে জানা যায়। অভিধান বলছে ‘কেন্দু’ শব্দের অর্থ গাব বা তাল গাছ। আগে হয়তো এই অঞ্চলে তাল বা গাব আধিক্য ছিল। তবে নদীর ঘাটটির নাম ‘কদম্বখন্ডী।’ প্রাচীনকালে হয়ত এখানে ‘কদম্ব’ গাছের আধিক্য ছিল। তা থেকেই নামকরণ। এমনকি কবি জয়দেবের কাব্যে ও কবি বনমালী দাসের বই থেকে জানা যায়, এখানে কদমফুল গাছের বন ছিল। কদমগাছটি শ্রীকৃষ্ণের ও শ্রীরাধিকার বৃন্দাবন লীলা অংশে ওতোপ্রতো ভাবে সংপৃক্ত। এই কদমখন্ডী ঘাটেই কবি জয়দেব কুড়িয়ে পেয়েছিলেন রাধামাধবের শিলামূর্তি। সে সময়ে প্রতিদিন গঙ্গার জোয়ারের জল অজয়ের কদমখন্ডী ঘাট পর্যন্ত চলে আসত।

(ধারাবাহিক)

(লেখক- অনির্বান ভট্টাচার্য)

12509326_483429805175422_7025694783005544560_n 12523116_483429871842082_4411319376040362639_n12509507_483429908508745_6679057799647689461_n12552821_483430058508730_6134165369283675597_n

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *