“৯৩ বছর পর জালিয়ানওয়ালাবাগ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করল ব্রিটেন সরকার”

cover-jalianbahgইতিহাস কুখ্যাত জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড।আজ থেকে ৯৮ বছর আগে অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে অমৃতসর শহরে জালিয়ানওয়ালাবাগে  বৈশাখী মেলায় আগত   নিরস্ত্র জনগণের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে নৃশংস হত্যালীলা চালিয়েছিল ইংরেজ বাহিনী।হত্যাকাণ্ড যখন প্রায় শতবর্ষের দোরগোড়ায় ঠিক তখনই ২০১৩ সালের ২০ সে ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে এসে জালিয়ানওয়ালাবাগে গণহত্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।ভিজিটার বুকে লিখে যান, ‘এ ঘটনা ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে লজ্জাজনক ঘটনা।’

১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল দিনটি ছিল রোববার।শিখদের নববর্ষ উৎসব পালনের দিন।স্বর্ণমন্দির সংলগ্ন জালিয়ানওয়ালাবাগে বিশেষ প্রার্থনা সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন অন্তত ২০ হাজার মানুষ।অপরদিকে তখন শহরে চলছে সামরিক আইন রাওলাট অ্যাক্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন।আন্দোলন থামাতে ব্রিটিশ সরকারের জারি করা ১৪৪ ধারাকে উপেক্ষা করে সকলে নববর্ষ উৎসব পালনের জন্য নিরীহ মানুষরা সমবেত চারপাশ দেয়াল দিয়ে ঘেরা জালিয়ানওয়ালাবাগের ঐতিহাসিক ময়দানে।একটি সংকীর্ণ গলি দিয়ে ময়দানে প্রবেশ করতে হয়।
ব্রিটিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডায়ারের কানে জমায়েতের সংবাদ পৌছনোর পর ডায়ার তৎক্ষণাৎ রাইফেলধারী সেনা নিয়ে প্রবেশ করে জালিয়ানওয়ালাবাগের সেই প্রার্থনা সভায়।মূল ফটক বন্ধ করে নিরীহ ও নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেন।আচম্বিতে গুলিবর্ষণ সকলকে স্তম্ভিত করে দেয়।গুলির আঘাতে একের পর এক আবালবৃদ্ধবনিতা লুটিয়ে পড়তে থাকে।বহু মানুষ ময়দানের কোনায় থাকা এক কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে।প্রায় ৩০০ নারী-পুরুষ-শিশু ঝাঁপ দিয়েছিল।ঐ কুয়োয় আবদ্ধ কাউকেই উদ্ধারের কোন চেষ্টা করা হয়নি উল্টে বর্বর ডায়ারের নির্দেশে ঐ কুয়োর মুখ পাথর দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। একটানা ১০ মিনিট ধরে মোট ১৬৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ চলে।প্রায় দেড় সহস্রাধিক মানুষের প্রাণ যায়।

এই অমানবিক হত্যাকাণ্ডের পর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।ব্রিটিশদের দেওয়া নাইট উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন।ঘটনায় লেনিন এত বিচলিত হয়েছিলেন যে তিনি তৃতীয় আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট  সম্মেলনে তার বক্তৃতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়লে গোটা ভারতবর্ষের রাজনীতি উত্তাল হয়ে পড়ে।ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।

ব্রিটিশবিরোধী উত্তাল মানুষের চাপে ব্রিটিশ সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।কিন্তু এখানেও বেনিয়ার জাত ব্রিটিশ তদন্ত রিপোর্টকে প্রভাবিত করে।ব্রিটিশরা ঘোষণা করে এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞে নিহত মাত্র ৩৭৯, আর আহত ১১০০ জন।তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. স্মিথ জানান, এই হত্যাযজ্ঞে নিহত মানুষের সংখ্যা ১৫২৬ এবং কুয়োর পাথর সরিয়ে ১২০ জন নরনারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় যার মধ্যে শিশুরাও ছিল।ঘটনার পরপরই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডায়ারকে অপসারণ করে লন্ডনে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।আবার লন্ডনে ব্রিটিশরাই চাঁদা তুলে ডায়ারের জন্য বাড়ি কেনা থেকে শুরু করে জিবনযাপনের সব খরচা বহন করতে থাকে।নরকের পিচাশরা কোথায় পালাবে?প্রতিশোধের আগুন ধিকিধিকি করে জ্বলছিল শিখদের মধ্যে।একদিন আগুনের বহিঃপ্রকাশ ঘতল।লন্ডনের একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিল ডায়ার।ঐ অনুষ্ঠানে উধম সিং নামে এক শিখ যুবক ঢুকে পড়ে সরাসরি ডায়ারকে গুলি করে হত্যা করে।পড়ে উধম সিং এর ফাঁসি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *