১৯৪৪-১৮ই মার্চ,ভারতের মাটিতে পা রেখেছিল আজাদ হিন্দ বাহিনী…

INA_Jubilation১৯৪২ সালের মার্চ মাসে জাপানের টোকিয়োতে ভারতীয়দের একটি সম্মেলনে ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগ’ বা ‘ভারতীয় স্বাধীনতা লিগ’গঠিত হয়।এই সম্মেলনেই রাসবিহারী বসুকে লিগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় এবং আজাদ হিন্দ বাহিনী (ইংরেজিতে ইন্ডিয়ান ন্যাশানাল আর্মি বা আইএনএ) নামে একটি সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাপানিদের হাতে যুদ্ধবন্দী ৪০,০০০ ভারতীয় সেনা নিয়ে গড়ে ওঠে আজাদ হিন্দ ফৌজ। ক্যাপ্টেন মোহন সিং ফৌজের অধিনায়ক নিযুক্ত হন। উক্ত সম্মেলনে সুভাষচন্দ্র বসুকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়।রাসবিহারী বসু সুভাষচন্দ্রের হাতে আজাদ হিন্দ ফৌজের ভার তুলে দেন। বাহিনী সুভাষচন্দ্রকে অভিবাদন জানায় ‘নেতাজি’ নামে। সিঙ্গাপুরেই নেতাজি স্থাপন করেন “আরজি-হুকুমত-এ-আজাদ হিন্দ বা অস্থায়ী আজাদ হিন্দ সরকারের”। কংগ্রেসের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা গৃহীত হয় ভারতের জাতীয় পতাকা হিসেবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’ গানটি নির্বাচিত হয় ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে। নেতাজি আজাদ হিন্দ ফৌজের দুটি প্রধান কার্যালয় স্থাপন করেন – একটি রেঙ্গুনে, অপরটি সিঙ্গাপুরে। জাপান সেনাবাহিনী ব্রিটিশদের যুদ্ধে হারিয়ে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অধিকার ব্রিটিশদের হাত থেকে কেড়ে নিয়েছিল। ১৯৪৩ সালের নভেম্বরে এই দ্বীপাঞ্চল জাপানি কর্তৃপক্ষ তুলে দেয় আজাদ হিন্দ সরকারের হাতে। নেতাজি স্বয়ং আসেন আন্দামনে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নামকরণ করেন ‘শহীদ ও স্বরাজ দ্বীপপুঞ্জ’। এরপরই শুরু হয় আজাদ হিন্দ ফৌজের যুদ্ধাভিযান।

আজাদ হিন্দ ফৌজের স্লোগান ছিল ‘জয় হিন্দ’ ও ‘দিল্লি চলো’। নেতাজি ডাক দিলেন, ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো।’জাপানি বাহিনীর সঙ্গে সমান তালে যুদ্ধ চালিয়ে আজাদ হিন্দ বাহিনী পৌঁছে গেল ব্রহ্মদেশ-ভারত সীমান্ত অঞ্চলে। সেদিনটি ছিল ১৯৪৪ সালের ১৮ মার্চ। মুক্ত ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো উড়ল জাতীয় পতাকা। যদিও ইম্ফলের যুদ্ধে পিছু হঠতে হল আজাদ হিন্দ বাহিনীকে। এরপরই যুদ্ধে জাপানিদের পরাজয় বাহিনীর জয়ের আশা শেষ হয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *