হিলিয়ে দেওয়া হ্যাকাররা, পড়লে চমকে যাবেন।

Identity-Theftকম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির সঙ্গে হ্যাকারদের লড়াই বর্তমান বিশ্বে সুবিদিত। প্রতিদিন প্রজুক্তিবিদরা হ্যাকারদের আটকানোর জন্য নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন করছে আর বিপরীতে হ্যাকাররা প্রতিরোধের সেই জাল ছিঁড়ে একটার পর একটা কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে। এই হ্যাকাররা যে সবসময় আর্থিক জালিয়াতি, গোপন তথ্য লুট করার জন্যই করে এমনটা সবসময় নয়।সাধারনত হ্যাকাররা খুব মেধাবী ও অহঙ্কারি হয়। অপরাধ করে ধরা পড়ার পর অনেক হ্যাকার স্বীকার করেছে শুধুমাত্র ‘দেখিয়ে দিলাম’, ‘আমার এলেমের কাছে তোমার সুরক্ষা জাল তুচ্ছ’ বা ‘আমিও পারি’ এই ধরনের মনোবৃত্তি থেকে অপরাধ করেছে।

জন ড্রেপারঃ

এনাকে হ্যাকার দুনিয়ার পিতামহ বলা যেতে পারে। ১৯৭০ দশকে আমেরিকায় ‘ক্যাপন ফ্রেঞ্চ’ নামে খাবারটি ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। ক্যাপন ফ্রেঞ্চের প্রস্তুতকারক সংস্থা খাবারের প্যাকেটের মধ্যে উপহার স্বরুপ খেলনা বাঁশি দিত। ড্রেপার এই বাঁশির দিয়ে শুরু করলো তার খেলা।

নিশানা বানালো টেলিফোন এক্সচেঞ্জ কে। ড্রেপার লক্ষ করেছিল, কল শেষ হওয়ার পর এক্সচেঞ্জ থেকে যে স্বয়ংক্রিয় শব্দটি আসে সেটার সঙ্গে বাঁশির শব্দের হুবহু মিল আছে।এবার ড্রেপার নিজেই কল করে একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর হুইসিল বাজিয়ে দিত। এতে এক্সচেঞ্জ ভাবতো কলটি শেষ হয়েছে। কিন্তু কলটি শেষ হতো না, কারন কলটি থাকতো ড্রেপারের বানানো। এই ভাবে ড্রেপার ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন কথা বলতো। বছর দুয়েক এভাবে চলার পর অবশেষে ড্রেপার ধরা পড়ে। অপরাধের জন্য তাকে দুই মাষ জেলে কাটাতে হয়।

ভ্লাদিমির লেভিনঃ

১৯৯৫ সালে লেভিন নিশানা বানায় বিখ্যাত সিটি ব্যাংককে।কয়েকটি কর্পোরেট ইউজারের পাশওয়ার্ড হ্যাক করে লেভিন প্রায় ১০.৭ মিলিয়ন ডলার লুট করে। লুটের টাকা লেভিন আমেরিকা, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, ইসরায়েল ও জার্মানির বিভিন্ন ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে দেয়। এই কাজে লেভিনের ৫ জন সঙ্গী ছিল। এই সঙ্গীরা বিভিন্ন দেশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে গিয়ে ধরা পড়ে। অবশেষে লেভিনও ধরা পড়ে। বিচারে লেভিনের ৩ বছরের জেল ও ২.৫ লাখ ডলার জরিমানা হয়। পুলিশ লুটের টাকার ৪ লাখ ডলার বাদে বাকি টাকা উদ্ধার করতে পেরেছিল।

কেভিন মিটনিকঃ

ইউনিভার্সিটির অফ সাউথ ক্যালোলিনার ছাত্র কেভিন মিটনিক ১৯৮১সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ছোটখাটো হ্যাকিং দিয়ে  হ্যাকিং দুনিয়ায় পদার্পণ করে।বড় দাঁও মারার সুযোগ আসে  ১৯৮৩ সালে। মিটনিক একদিন ইন্টারনেটে পূর্বসূরি আপানেটে অ্যাকসেস পেয়ে যায়। আপারনেট যেহেতু মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের একটি নেটওয়ার্ক ছিল তাই কেভিন মন্ত্রনালয়ের সব গোপন ফাইল দেখার সুযোগ পেয়ে যায়। কিন্তু কেভিন এই গোপন তথ্য অর্থের বিনিময়ে কাউকে বিক্রি করেনি। পেন্টাগনের গোপন তথ্যের জগতে ঘোরাই ছিল কেভিনের নেশা ছিল। আপানেটের সিস্টেম অ্যাডমিনরা একদিন ব্যাপারটা টের পেয়ে যান। কেভিন ধরা পড়ে এবং অবৈধ ভাবে কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করার অপরাধে তাকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। ছাড়া পেয়ে কেভিন আবার ফেরত যায় হ্যাকিং দুনিয়ায়। বারবার হ্যাকিং করার অপরাধে কেভিনকে বেশ কয়েকবার জেলের হাওয়া খেতে হয়েছে।

রবার্ট মরিসঃ

হ্যাকিং দুনিয়ায় মরিস ‘৯৯ মরিস’ নামে বিখ্যাত। ১৯৮৮ সালে কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র অবস্থায় ৯৯ লাইনের একটি কোড লিখে ছেড়ে দিয়েছিল বিভিন্ন নেটওয়ার্কে।এই কোড দাবানলের মতো শত শত কম্পুটারকে আক্রমন করে। পরবর্তী কালে এই কোড ‘মরিস ওয়ার্ম’ নামে বিখ্যাত হয়।১৯৮৯ সালে মরিস ধরা পড়ে। শাস্তি স্বরুপ ১০ হাজার ডলার জরিমানা হয়।জিজ্ঞাসাবাদের সময় মরিস স্বীকারোক্তিতে জানায় সে কোনও অপরাধ করেনি। শুধু কত সংখ্যক কম্পুটার ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত সেই সংখ্যাটা জানার জন্যেই নাকি সে কোডটি ছেড়েছিল।

ডেভিড স্মিথঃ

১৯৯৯ সালে আমেরিকার নিউ জার্সি শহরে বসে চুরি করা একটি আমেরিকান অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে ‘মেসিলা’ নামে ওয়ার্ম ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। ‘মেসিলা ওয়ার্ম’ ইন্টারনেটে ঢুকে প্রায় ৩০০ টির মতো বড় বড় কোম্পানির নেটওয়ার্কে হামলা চালায়। হামলায় আক্রান্ত কোম্পানির মধ্যে মাইক্রোসফট, ইন্টেল, লুসেন্ট ইত্যাদি কোম্পানিও ছিল। এই হামলায় ৮০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়। ডেভিড ধরা পড়ে। বিচারে তার লম্বা মেয়াদের সাজা হয় যা পরে কমিয়ে ২০ মাষের হয়।

কেভিন পোলসেনঃ

১৯৮৯ সালে কম্পুউটার ও টেলিফোন সার্ভার হ্যাক করার অপরাধে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই পোলসেন কে গ্রেফতার করে। কিন্তু ভয়ানক চতুর পোলসেন, বিচার শুরুর আগেই কৌশলে জেল থেকে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার পর পোলসন লস এঞ্জেল্যান্সের রেডিও ষ্টেশন হ্যাক করে ঘোষণা করে, একটি নির্দিষ্ট দিনে তাদের ওখানে যত ফোন আসবে তার মধ্যে ১০৩ নং কলারকে একটি পোর্সে গাড়ি উপহার দেওয়া হবে। পোলসন রেডিও ষ্টেশনের টেলিফোন বোর্ড হ্যাক করে নিজেই ১০৩ নং কলার হয়ে যান এবং পোর্সে গাড়ি দাবী করতে শুরু করে। প্রশাসন নড়েচড়ে বসাতে সব ফাঁস হয়। পোলসেন পালিয়ে যায়। ঘটনার ১৭ মাষের মাথায় এফবিআই গ্রেফতার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *