“স্বর্গ লাইভ ডট কম”- প্রবাল বন্দোপাধ্যায়

1d570af04a31f96e66909b3d1261aa04নমস্কার, আমি দেবর্ষি নারদ, স্বর্গ লাইভ ডট কমে আপনাদের স্বাগত জানাই। পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে, মর্ত্যের মানুষদের কেনাকাটাও প্রায় শেষের পথে, এই সময় মা দুর্গা কি বলছেন, তার বাপের বাড়ি আসার প্রস্তুতিই বা কতদুর, আর মা দুর্গার মর্ত্যে আসা নিয়ে বা কি বলছেন বাবা ভোলানাথ, স্বর্গের সব টাটকা খবর আপনারা জানতে পারছেন একমাত্র আমাদের চ্যানেল- ‘স্বর্গ লাইভ ডট কমে’ লাইভ অ্যান্ড এক্সক্লুসিভ।

আমরা এবার সরাসরি চলে যাব কৈলাসে, সেখানে আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি নন্দী অপেক্ষা করছেন আপনাদের জন্য।

নারদঃ হ্যালো নন্দী, তুমি কি শুনতে পাচ্ছো, হ্যালো?

নন্দীঃ হ্যা, নারদ্মুনি, আমি শুনতে পাচ্ছি, আমি এখন  ঠিক যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, তার ঠিক পিছনেই বাবা ভোলানাথের বিশ্রামের ঘর, আর এই মুহূর্তে সেখানেই দুর্গা মার সঙ্গে বাবা ভোলানাথের জোর ঝগড়া চলছে।

নারদঃ হ্যালো নন্দী, তোমার কি মনে হয়, মা দুর্গার সঙ্গে ভোলাবাবার কি মায়ের মর্ত্যে আসা নিয়ে।

নন্দীঃ হ্যা, নারদ্মুনি, আমার এখান থেকে জা বুঝতে পারছি, তাতে মনে হচ্ছে দুর্গা মাকে মর্ত্যে আসতে দিতে বাবা ভোলানাথ এবার একেবারেই রাজী নয়, আর দুর্গা মাও নাছোড়বান্দা বছরে একবার তিনি বাপের বাড়ি যাবেনই। আর তাই নিয়েই তাদের মধ্যে ঝগড়া।

নারদঃ নন্দী, তুমি এবার সরাসরি চলে যাও, মা দুর্গার কাছে, তার কাছেই জানতে চাও, তিনি কি সত্যি এবার মর্ত্যে আসছেন, নাকি বাবা ভোলানাথকে সন্তুষ্ট রাখতে এই প্রথমবার তিনি মর্ত্যে যাওয়া থেকে  নিজেকে বিরত রাখছেন?

নন্দীঃ হ্যা, নারদমুনি আমরা এখন পৌঁছে গেছি সেই ঘরে, যেখানে এক্তু আগে দুর্গা মার সঙ্গে বাবা ভোলানাথের তুমুল ঝগড়া চলছিল, এবার সরাসরি দুর্গা মার থেকেই জেনে নিচ্ছি, তার মর্ত্যে আসার কি খবর।

হ্যা, দুর্গা মা, লোকে বলছে এবার নাকি বাবা ভোলানাথের আপত্তিতে আপনি বাপের বাড়ি যাচ্ছেন না?

মা দুর্গাঃ দ্যাখ নন্দী, বেশি বাড়াবাড়ি করিস নি। বছরে একবার বাপের বাড়ি যাই, তা নিয়ে তোদের এতো গাত্রদাহ কেন?

নন্দীঃ কিন্তু আপনাকে এবার বাপের বাড়ি যেতে দিতে ভোলেবাবারই বা এতো আপত্তি কিসের?

মা দুর্গাঃ সেটা তাকেই জিজ্ঞেস কর না রে, মুখ্যু? আমার আর হাড় জ্বালাতন করিস নে।

নন্দীঃ ( বাবা ভোলেনাথের দিকে ফিরে) হ্যা বাবা, শোনা যাচ্ছে, এবার মা দুর্গাকে মর্ত্যে আসতে আপনি নাকি একেবারেই রাজী হচ্ছেন না?

ভোলানাথঃ  কথাটা তো মিথ্যে নয়, এবার মর্ত্যে পাঠাতেই তো যতো ভয়।

নন্দীঃ কিন্তু কীসের ভয়?

ভোলানাথ, ভয় কি একটা,

দেখছিস না ব্যাটাদের কাণ্ডটা।

যখন তখন চলছে গুলি,

সেকথা কিকরে ভুলি,

তারপর রোগভোগ,

সে তো বড়োই দুর্ভোগ।

সেসব যদি বা গেল সামলানো,

গণপিটুনি, সেটা তো সবচাইতে বড়ো ব্যামো।

বুড়ো থেকে ছোকরা, ছেলে থেকে মেয়ে,

সবাই বলছে হাতের সুখ করে নে।

কে, কেন, কাকে ঠ্যাঙায়,

একথা কেই বা জানে, কেই বা জানায়।

নন্দীঃ কিন্তু বাবা, এর কি কোন সমাধান নেই?

ভোলানাথঃ সমাধান বড়োই কঠিন, বিস্তর ভাবতে হবে, লাগতে পারে সাতদিন।

নন্দীঃ তাহলে পুজো, সেটা কি এবার মাটি?

ভোলানাথঃ ভাবছি তো সেই কথাটি,

শুধু তো মায়ের কথা নয়,

সঙ্গে যে চার ছানাপোনা,

মামার বাড়ি যাবে বলে, তাদেরও কি কম বায়না।

নন্দীঃ তাহলে কি উপায় বাবা?

ভোলানাথঃ যদি যেতেই হয় একান্ত,

সব ব্যাটাকে করতে হবে শান্ত।

বার বার অসুরকে না খুঁচিয়ে,

বদমালগুলোর বদমাশি দিতে হবে ঘুচিয়ে।

তবেই হবে স্বার্থক পুজো,

একথা ভালো করে বুঝো।

মা দুর্গাঃ এদ্দিনে একটা কথার কথা বলেছো, সেকথাই তাহলে রইল, আমি তাহলে যাই ,সব গোছগাছ করার পাশাপাশি ত্রিশূলটাতেও ভালো করে শান দিতে বলি। কাত্তিক, গনশাকেও বলি, তাদের অস্তরগুলোকেও ভালো করে শান দিয়ে নিতে, সত্যি কথা বলতে কি নন্দী, ভয় আমারও কম নয়, কখন মাথার ওপর একটা পেল্লাই ব্রিজ কি একটা আস্ত বাড়ি ভেঙ্গে পড়বে, যখন-তখন, যেখানে- সেখানে আগুন লেগে যাবে, আর কতরকম কত কিই যে ঘটতে পারে, তার কি কোন ইয়ত্তা আছে।

নন্দীঃ একথা সত্যি মা, দ্যাখো তুমি গিয়ে যদি অবস্থা কিছুটা বদলাতে পারো, আজ তাহলে আসি মাগো, তোমার আর বাবার শ্রীচরনে দুটো পেন্নাম ঠুকে আমি এবারকার মতো বিদেয় হই।

মা দুর্গাঃ আয় নন্দী, আমিও গোছগাছটা সেরে ফেলি গে।

নন্দীঃ আমরা এবার ফিরে যাচ্ছি ‘স্বর্গ লাইভ ডট কমের’ স্টুডিওয়ে, যেখানে নারদমুনি আপনাদের জন্যে অপেক্ষা করছে।

নারদঃ আপনারা এতোক্ষণ দেখলেন, এবার মর্ত্যে আসা নিয়ে মা দুর্গা আর বাবা ভোলানাথের কি মত, সকল দর্শককে আগামী দুর্গা পূজার অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানিয়ে ‘স্বর্গ লাইভ ডট কম’ আজ এখানেই শেষ করছি। আবার দেখা হবে আগামী বছর ঠিক এইসময়, এখনকার মতো- আলবিদা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *