‘স্বর্গ থেকে বলছি’-রম্য রচনাটি লিখেছেন- প্রবাল ব্যানার্জি।

Screen-shot-2010-10-10-at-9.07.31-AM1Narada-Muni-Picture

নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার আমি নারদমুনি।কি পুজো যে প্রায় এসে গেল, সে খেয়াল আছে তো। এই সময় স্বর্গের টাটকাতাজা,গরমাগরম খবর নিয়েই আমি শুরু করছি “স্বর্গ লাইভ.কম”।খবরের শুরুতেই এদিক ওদিক না ঘুরে আমরা সরাসরি চলে যাব মা দুর্গার কাছে।পাক্কা একটি বছর পর বাপের বাড়ি মর্ত্যভুমিতে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি গম্ভীর মুখে কি ভাবছেন, সোজা সুজি জেনে নেব তার কাছ থেকে।

নারদঃ পেন্নাম মা ঠাকরুন, আজ বাদে কাল বাপের বাড়ি যাবেন, এখনও মুখ এতো ভার কেন?সব কেনাকাটা ঠিকঠাক হয়নি,বুঝি! নাকি কারোর শরীর টরির খারাপ হোল?

মা দুর্গাঃ নারে বাপু,এখন অবধি সব ঠিকই আছে।কিন্তু ওখানে গিয়ে যে কি হবে, সেই চিন্তাতেই তো আমার রাতের ঘুম ছুটে গেছে।

নারদঃ কেন? কেন?

মা দুর্গাঃ আরে বাবা, ওখানে চারিদিকে কি ঘটছে, খবর রাখ না নাকি।একবছর বাদে বাপের বাড়ি যাচ্ছি, একটু চারিদিক ঘুরে টুরে দেখব তো, নাকি ওই ঐ খেলনার অস্তরগুলো ঘাড়ে করে ঠায় এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকব!

নারদঃ কেন ঘুরুন না,কে মানা করেছে?

মা দুর্গাঃ আ মলো যা, কেউ মানা করবে কেন?মানা করেছে আমার মাথা।আমি সবাইকে নিয়ে সেজেগুজে ঘুরতে যাই, আর আমাদের মাথায় একটা আস্ত বাড়ি, কি একটা গোটা ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ুক আর কি।তখন কি হবে ভেবে দেখেছো?

নারদঃ তাহলে কি ঘোরাঘুরি করবেন না?

মা দুর্গাঃ না না তা কেন,ঘুরব নিশ্চয় কিন্তু যাতে বিপদ কিছু না ঘটে তার জন্য অন্য রকম একটা মতলব ভেবে রেখেছি।তা নয় হোল,তবে বিপদ যে একটা নয়,নারদমুনি।আমার সরস্বতী মা, লক্ষ্মী মায়ের যা রুপ,সেজেগুজে বেরোলে যখন তখন কোন মেয়েধরার খপ্পরে না পড়ে,তাই আমার সর্বক্ষণের চিন্তা।আমি অবশ্য ওদের নিয়ম করে ক্যারাটে অভ্যাস করতে বলেছি, কিন্তু তাতেও কি নিশ্চিন্ত হওয়া যায়।তাই ঠিক করেছি,মহিষাসুরকে ওদের বডিগার্ড করে পাঠাবো,বেচারা প্রতিবছর এক জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে ঐ জংধরা ত্রিশূলের খোঁচা খেয়ে যাচ্ছে।

নারদঃ কার্তিক-গনেশের কি খবর মা?

মা দুর্গাঃ ওরা এখন ঠিক আছে,কিন্তু ওদেরকে নিয়েও চিন্তা কম নয়।গনেশটা খেতে ভালবাসে, লোভে পড়ে এটা ওটা খেয়ে নেয় কিন্তু মর্ত্যের খাবারের যা দুর্দশা।চাল,ডাল,সবজি সবেতেই নাকি ভেজাল, এসব খেলে কি কারোর শরীর ঠিক থাকে। মর্ত্যের লোকগুলো যে কি করে খায়, তাই ভাবি!

নারদঃ কিন্তু মা, কার্তিককে নিয়ে তো আপনার সে চিন্তা নেই?

মা দুর্গাঃ তা নেই কিন্তু অন্য চিন্তা আছে। কার্তিকের যা রুপ, যে কোন ছেলেধরা খপ করে ধরলেই হল।কেলেঙ্কারির একশেষ। এ বলবে কার্তিক আমার ও বলবে কার্তিক আমার, না বাপু ছেলে পুলেদের একটু সামলে সুমলে রাখতে হয়।

নারদঃআর বাবা ভোলানাথ,তাকে নিয়ে আপনার এসব চিন্তা নেই?

মা দুর্গাঃ কে বললে নেই। বাবার কথা উঠলোই যখন, তখন তোমার সম্বন্ধেও দুটো কথা যে বলতেই হয় নারদমুনি, তুমি হলে স্বর্গের সাংবাদিক।এর খবর ওর কাছে, ওর খবর তার কাছে পাচার করে যাও।তা করো, কিন্তু গত বছর তোমার কান্ডকারখানাটাও আমার কিন্তু মোটেই ভালো লাগেনি বাপু।বাবাকে তুমি ভালো নেশার জিনিস খাওয়াবে বলে নিয়ে গেলে আর ঢুকিয়ে দিলে চোলাইয়ের ঠেকে ! দেখেই বাবা বুঝে গেলেন পুরোটাই বিষাক্ত। পুরো বিষটা নিজের গলায় ঢেলে তবে নিশ্চিন্ত হলেন।তাও কি গলায় নামতে চায়।সে যে কি ঝকমারি আর কষ্ট তা যদি তুমি বুঝতে। যাক গে যাক, এবছর আর এরকম করো না।

নারদঃ না মা, আগের বার বড্ড ভুল হয়ে গেছিল,এবার আর সেরকম হবে না।কিন্তু মা তুমি যে বল বাংলার লোকেরা সব চাইতে ভালো, ওখানে মানুষ সবচাইতে নিরাপদ।

মা দুর্গাঃ বলতুম, এখন আর বলি না। যেখানে অসুস্থ বৃদ্ধ দিনের পর দিন হাসপাতালের পাশের ডাস্টবিনে পড়ে থেকে মারা যায়, স্কুল, কলেজে পড়াশোনার চেয়ে মারামারি হয় বেশি, সেখানে মানুষের মানসিকতা যে আমূল বদলে গেছে, সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে নাকি।ওখানকার মুখ্যমন্ত্রী মাঝে মাঝে বলেন “বিশ্ববাংলা গড়বো” নব বাংলা গড়বো, আমার তো মনে হয় এসব পচা আপেল দিয়ে এগুলোর কিছুই গড়া যাবে না বরং কাঁচকলা বাংলা গড়তে চাইলে দিব্যি গড়তে পারেন।

নারদঃ তা যা বলেছ মা।তাহলে শেষ পর্যন্ত কি ঠিক করলে মা, কেমন করে যাবে?

মা দুর্গাঃহুম, সোজা কথায় আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার,একজন খাদ্য বিশারদ আর কয়েকজন সাধারন পোশাকের দেহরক্ষী নেব,তবেই যাব।ইঞ্জিনিয়ার সব জায়গা ভাল করে দেখেশুনে নেবে,যেখানে মানা করবে,সেখানে যাব না।খাদ্য বিশারদ যে খাবার খেতে মানা করবে,সে খাবার খাব না।আর কেউ যদি রাস্তায় কোনরকম বেচাল দেখায় আমার দেহরক্ষীরা তার জবাব দেবে।

নারদঃ কিন্তু মানুষগুলো এতো সাহস পেল কি করে বল দিকি মা?

মা দুর্গাঃওদের ধারনা যে ওরা প্রতিবছর ধুমধাম করে থিম পুজো না ঘোড়ার ডিম পুজো করবে আর আমায় দুটো চালকলার নৈবেদ্য দিয়ে মনে করবে ওদের সব দোষ মাপ হয়ে গেল,আরে বোকার দল মা দুর্গা কি এতোই স্বার্থপর, ঐ পয়সায় কতো গরীব মানুষ দুবেলা দুমুঠো খেতে পেত বলো দিকি। সে ওদের কে বোঝাবে!

নারদঃ যাক গে, এখন আর এতো ভেবো না, ভালোয় ভালোয় চারটে দিন ঘুরে চলে এসো।

মা দুর্গাঃ সেই ভালো, তুমিও এখন এসো নারদমুনি।এতক্ষণ বকবক করে আমারও গলা শুকিয়ে গেল।

নারদঃ হাঁ মা, তোমার শ্রীচরনে একটা পেন্নাম ঠুকে এবার তাহলে যাই।

আপনারা শুনলেন পুজো নিয়ে মা দুর্গার কি মত।স্বর্গ লাইভ.কম আজ এখানেই শেষ করছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *