‘সেক্স করি..পরিবার চালাই’-(ধারাবাহিক)লেখক,দেবাশীষ পাইন।

male-prostituteগত এপ্রিল মাষের প্রথম দিকে কলকাতার এক নামজাদা ক্লাবে ডিনারের নিমন্ত্রন রক্ষা করতে গিয়েছিলাম। নিমন্ত্রন কর্তা কলেজ জীবনের বন্ধু বিমল।বিমল এই ক্লাবের সদস্য হওয়ার পর বেশ কয়েকবার আমাদের কয়েক জন বন্ধুকে ক্লাবে এসে ডিনার করতে অনুরোধ করছিল বার বার, তাই আসা।আমি ছাড়া আরও চারজন কলেজের বন্ধু বিমলের নিমন্ত্রন রক্ষা করতে গিয়েছিলাম। নির্দিষ্ট দিনে আমরা ক্লাবে জড়ো হলাম।বিমল আগে থেকেই  ক্লাবের লনের ওপর জলাশয়ের ধারে ছজন বসার উপযোগী একটা টেবিল বুক করে রেখেছিল। আমরা গিয়ে বসলাম।বিমল বলল, শোন, ডিনারের ফরমায়েশটা শেষ করে আড্ডা দি,কি বলিস তোরা? আমরাও সমস্বরে সম্মিতি দিলাম। আড্ডা মানে স্মৃতি রোমন্থন চলছিল,বেশ ভালো লাগছিল অনেক দিন পর পুরনো দিনে ফিরে যেতে। একটা আমেজ এসে গিয়ে, সব মিলিয়ে আড্ডাটা বেশ জমে  উঠেছিল। শুধু অপেক্ষা করছি কখন ডিনার সার্ভ করবে।

alexis_mabille_hot_boys_V_28jun10-FirstVIEWআড্ডার মাঝপথে হটাত বিমল- হাই আড্ডী বলে চিৎকার করাতে সকলেই নজর তুলে তাকালাম, বিমলের ডাকের দিকে নজর ঘোরাতেই দেখলাম প্রায় ছয় ফিটেরও বেশী লম্বা সুঠাম চেহারার এক যুবকে।বেশ উজ্জ্বল গায়ের রং,ক্লাবের আলো আন্ধারিতেও বুজতে অসুবিধে হচ্ছিলো না। বয়স মেরেকেটে ৩০-৩২ হবে, হাত তুলে ওই যুবক, হাই বিমল দা বলে সাড়া দিল। বিমল—আরে ভাই আমাদের টেবিলেও একবার এসো।আসছি দাদা বলে ঋজু পায়ে আমাদের টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল। কেমন আছ বিমলদা? বিমল ভালো আছে উত্তর দিয়ে, বেশ আন্তরিক ভাবে আড্ডিকে আহ্বান করল,আনুরোধ করল আমাদের সঙ্গে বসতে এবং ডিনার করতে। উত্তরে আড্ডি বলল বিমলদা আপনার অনুরোধে বসছি কিন্তু ডিনার করতে পারবোনা, আর একজনকে কথা দেওয়া আছে। আড্ডি বসার পর বিমল আমাদের সকলের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিল। আমরা সকলেই কথা বলছি কিন্তু খেয়াল করলাম বিমলের সঙ্গে আড্ডীর ইশারায় কথাবার্তা চলছিল … গিয়েছিলে নাকি? না দাদা, যা কাজের চাপ আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি, তা ছাড়া ওনার অনেক বাতিক, প্রথম প্রথম পার্টি ছিল না বলে মেনে নিতাম কিন্তু এখন সোজা অ্যাভএড করি। দুজনের কথার মাথা মুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছিলাম না ইতিমধ্যে ডিনার এসে যাওয়াতে দুম করে কথা বার্তায় ছেদ পড়ল। আড্ডী… দাদা আপনারা ডিনার করুন আমি চললাম। লক্ষ্য করলাম ছেলেটির চোখ মুখে তেমন শার্পনেস না থাকলেও কথা বার্তায় দারুন চৌখস এবং অমায়িক। ডিনার করতে করতে লক্ষ্য করলাম, আড্ডী এক সুদর্শনা মহিলার টেবিলে গিয়ে বসল… দূর থেকে হলেও বুঝতে অসুবিধে হচ্ছিলনা ওরা খুবই ঘনিষ্ঠ। বিমললের কাছে জানতে চাইলাম, হ্যারে, ছেলেটি কি বিজ্ঞাপনের কাজ করে, মডেল? স্বীকার করলাম এই মুহূর্তে সঠিক মনে করতে পারছিনা তবে কোনও এক তেল বা মশলার বিজ্ঞাপনে দেখেছি। বিমল জানাল তুই ঠিক বলেছিস, ও মডেলিং করে, তবে, (চোখ টিপে)… ও একজন পুরুষ বেশ্যা যাদের বর্তমানে ‘জিগোলো’ বলে ।শুনেছিস তোরা এদের ব্যাপারে কিছু? আমরা সকলেই মাথা নেড়ে না বললাম, বিমল তাচ্ছিল্লের সূরে বলল,তোরা কলকাতায় থাকিস অথচ কলকাতার অনেক কিছুরই খবর রাখিস না! কলকাতার উচ্ছবিত্ত সমাজের মহিলাদের কাছে আড্ডি একজন লোভনীয় ও দামী পুরুষ বেশ্যা। নাম পালটে আজকাল যাদের মেল এসকট বলে।তথাকথিত আগমার্কা বেশ্যাদের সঙ্গে কোনও মিল নেই। এমনভাবে সমাজের মূলধারার সঙ্গে এরা মিশে আছে না জানালে আলাদা করে বোঝার উপায় নেই। আড্ডির কথা শুনে প্রায় প্রায় আমাদের ডিনার থেমে গেছে,আরও কিছু শোনবার আশায় আমরা উদগ্রীব।place-beyond-the-pines_55008268-2048x1365 আমারতো তখন মনে মনে ভীষণ লোভ হচ্ছিলো আড্ডির সঙ্গে আলাপ করার, পাশাপাশি এও ভাবছি, বিমল গুল মারছে নাতো! আড্ডায় নাটকীয় পরিবেষ আনার জন্য।কথাটা মনে এলেও বিমলকে মুখে কিছু বললাম না। ওই মুহূর্তে আলাপ করার লোভ সামলে ডিনারে মন দিলাম। বাড়ি এসে ভাবছি পুরনো বিমলের কথা। ভীষণ উড়নচণ্ডে আর ডাকাবুকো ছিল বিমল। বহুদিন বেকার থাকার পর বর্তমানে এক নামকরা বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির উচ্ছপদে কাজ করে। ভাবলাম কাজের সুত্রে বাইরে বাইরে থাকে, হতে পারে একাকীত্ব কাটানোর জন্য এই ধরনের লোকেদের সংস্পর্শে এসেছে। সর্বোপরি বিমলের দ্বারা সব সম্ভব। ঠিক করলাম আজ নয় কাল বিমলকে ফোনে আনুরোধ করব আড্ডির সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেবার জন্য।

সকালে ফোনে বিমলকে অনুরোধ জানালাম। আমি আড্ডির সঙ্গে আলাপ করতে চাই। আমার প্রস্তাব শুনে বিমল এমন এক বিকট কানফাটা হাসি দিল যে আমার কানে তালা লাগার জোগাড়। একরাশ প্রশ্ন… কেন আলাপ করতে চাই,আমি আজকাল এইসব ব্যাপারে আগ্রহী হয়েছি কিনা এমন সব বিস্তর প্রশ্ন সঙ্গে কিছু উপদেশ তার পর রাজী।ঠিক আছে, আজ রাত ৮ টায় ক্লাবে চলে আয় আলাপ করিয়ে দেব। আমিও অজানা জগতকে জানার অদম্য কৌতূহলে রাত ৮ টার আগেই ক্লাবে পৌঁছলাম, ক্লাবে পৌঁছে দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করলাম বিমল এসেছে ? দারোয়ান জানাল বিমল বাবু এখনও আসে নি, তবে আপনার আসার কথা আমায় ফোন জানিয়েছে। ক্লাবের লনের ওপর আনমনে পাইচারি করছি, সম্বিত ফিরল ফোনের রিং টোণে। ফোন তুলে দেখলাম বিমলের ফোন… জানতে চাইল- আমি কোথায়? জানালাম আমি ইতিমধ্যে ক্লাবে চলে এসেছি। উত্তরে জানাল রাস্তায় আছে আমি যেন অপেক্ষা করি।লনে দাঁড়িয়ে ইতি উতি তাকাচ্ছি। এক বেয়ারা এসে জানতে চাইল আমি বিমলের অপেক্ষায় আছি কি না, জানালাম হ্যা, বেয়ারাটি বলল আসুন আমার সঙ্গে।গতকাল ঠিক যে টেবিলটায় আমারা বসেছিলাম, ওই টেবিলটাকেই ঘিরে পাতা একটা চেয়ারে বসিয়ে,জানতে চাইল ঠাণ্ডা বা গরম, কি খাব? জানালাম, ঠাণ্ডা। মাথা নেড়ে বেয়ারাটি চলে গেল। দিয়ে যাওয়া ঠাণ্ডা পানীয়ে চুমুক লাগাচ্ছি আর পরিবেশটাকে বোঝার চেষ্টা করছি, ভাবছি মানুষের কাছে টাকা নেই বলে, তাহলে এই আয়োজন কাদের জন্য! উত্তর খুঁজে পাবার আগেই বিমলের ডাকে সম্বিত ফিরল। দুঃখিত বন্ধু, যানজটে আটকা ছিলাম। দাঁড়া আড্ডি এলো কিনা খোঁজ নি, পকেট থেকে মোবাইল বার করে ফোন করল। জানাল এসে গেছে।

172d3c89-7590-4bb9-94db-8b9a14abbec81176839830

সেই একই চেহারার আড্ডী আমার সামনে এসে পরিচয় দিল… হাই, আমি দেবরাজ আড্ডী, বিমল দা বলল আপনি আমার সাঙ্গে কথা বলতে চান।অনেক কিছু জানার আছে আপনার, বলুন কি জানতে চান। সত্যি তো কি জানতে চাই, ঝোঁকের বসে কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই চলে এসে একটু আমতা আমতা করছিলাম। কি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করব ভাবতে ভাবতে। দুম করে কোনও ভনিতা ছাড়াই প্রশ্ন করলাম, এতো পেষা থাকতে এই পেষায় এলেন কেন? আর কতদিন এসেছেন? দেবরাজ জানাল পুরোপুরি এই পেষায় এসেছেন  তিন বছর। শুরুতেএকজন ক্ল্যায়েন্টকে নিয়েই ছিলেন। মাঝে মাঝে ডাক পড়লে যেতে হতো, হাতে কাঁচা টাকাও মিলত পরে দেখলাম এটাও তো আমার পেষা হতে পারে-ব্যাস লেগে পড়লাম। আরও একটা কারণে এই পেষায় নামতে বাধ্য হলাম, আমার পরিবার চালানোর জন্য টাকা রোজগার একান্ত জরুরী হয়ে পড়েছিল। উচিৎ-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায়, রুচি- রুচিহীনতা এই সব বাদবিচার করার মতো পরিস্থিতি আমার ওই সময় ছিল না। পাসকোর্সে কমার্স গ্রাজুয়েট হয়ে হন্যে হয়ে চাকরির জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। প্রচুর জানা পরিচিতকে অনুরোধ করছিলাম একটা চাকরির জন্য কারন আগেই বলেছি আমার পরিবারের স্বার্থে একটা চাকরি আমার একান্ত প্রয়োজন ছিল।

সকলেই দেখছি দেখব করে কাটিয়ে দিত। আমার এক বড়লোক বন্ধু, আমার সঙ্গে কলেগে পড়ত, ওর গাড়ী ছিল, রাতে নেশার সময় ওকে সঙ্গ দিতাম। ওর গাড়িতেই আমার গাড়ী চালানোর হাতেখড়ি পরে লাইসেন্স বারকরে এক ডাক্তারের গাড়ী চালাতে শুরু করলাম ওই ডাক্তার বাবু বিমলদার বন্ধু। একদিন বিমলদাকে বললাম- দাদা লেখাপড়া শিখে আর কতদিন ডাক্তারের গাড়ী চালিয়ে নিজের ও পরিবারের পেট চালাব। সব শুনে আমায় এই ক্লাব এ দেখা করতে বলেন এবং ওনার এক ওষুধ ডিসট্রিবিউর বন্ধুর কাছে কাজে লাগিয়ে দেন। আজকের দিনে আমি আর ওই কোম্পানিতে চাকরি করি না নিজেই এস্কট সার্ভিস চালাই, আমার মতন অনেকেই আমার সার্ভিসে কাজ করে। মোদ্দা কথা ‘সেক্স করি… পরিবার চালাই’

mens-health-sex

আমি প্রশ্ন করি, কেউ তো আপনার প্রথম ক্লায়েন্ট? সেই অভিজ্ঞতার কথা বলুন না।আড্ডী উত্তরে বলল দেখুন দাদা বলা তো সবই যায় কিন্তু এটা আমাদের লাইন এর নিতির বিরুদ্ধে, ক্লায়েন্টের সবকিছু গোপন রাখা আমাদের লাইনের প্রথন এবং প্রধান সর্ত। ঠিক আছে বলব তবে নাম জানতে চাইবেন না, উত্তরে জানালাম আপনি আমায় বিশ্বাস করতে পারেন,পাস থেকে বিমলও বলে উঠল, আরে আড্ডি তুমি ওকে বিশ্বাস করতে পার, ও আমার বহুকালের বন্ধু, তোমার বিস্বাসের অমর্যাদা করবে না। শুনুন তাহলে ওই ডিসট্রিবিউসন কোম্পানির মালকিন আমার প্রথম ক্লায়েন্ট।

*** বাকি অংশ পড়তে পরের সপ্তাহে চোখ রাখুন একবিংশর পাতায়।কেমন লাগছে জানাবেন।

 

2 Comments

  1. Ke likhechen… Sattyi bastob-dhormi bhishon…….

    • লেখকের নাম- দেবাশীষ পাইন।
      ধন্যবাদ
      একবিংশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *