“সেক্স করি—পরিবার চালাই”( পর্ব ৬)

সেদিনের পর থেকে গার্গীর সঙ্গে আমার অনেক দিন পর্যন্ত সম্পর্ক ছিল। কাপল সেক্সের বাইরেও শুধু আমার-গার্গীর বহু যৌনক্রিয়া হয়েছে। সব সময় উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিয়েছে,পারিশ্রমিকের বাইরে গিয়েও অনেক দিয়েছে। একসময় মাষে সাত- আটবার মিলিত হয়েছি পরে ধিরে ধিরে ফিকে হয়ে গেছে আমাদের সম্পর্ক।আসলে সম্পর্ক তো কিছু ছিল না যা ছিল সেটা শরীরের একঘেয়েমি কাটানোর খেলা। যে একঘেয়েমি একদিন গার্গীকে স্বামীর শরীর থেকে আমার শরীরে ঝুকিয়েছিল হয়তো একই একঘেয়েমির কারণে গার্গী অন্য শরীর খুঁজে নিয়েছে। মাঝে মাঝে গার্গীর ফোন আশে  কথা বলি কিন্তু গার্গীকে আর বিছানায় সময় দিতে ইচ্ছে করে না। হয়তো একঘেয়েমির কারণে! এছাড়াও  আরও একটা বড় কারণও আছে- গার্গী সেই ১০০০০ হাজারেই আটকে আছে, নতুন ক্লায়েন্টরা অনেক বেশী দেয়।**(পঞ্চম পর্বের শেষাংশ)

male-prostitute

গার্গীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর থেকে প্রায় দিন ম্যাডামের ডিউটিতে অনিয়মিত হয়ে পড়ছিলাম। প্রায়শই কলকাতার বাইরে যেতে হচ্ছিলো।কলকাতায় থাকলে ক্লায়েন্ট ধরার লোভে হয় গার্গীর সঙ্গে নাহলে অন্য কারোর সঙ্গে রাতের বিভিন্ন পার্টিতে ঢুঁ মারছিলাম।রাতের পার্টি শেষ করে ভোর বেলায় বাড়ী ফিরে সকালে ডিউটি যেতে শরীর আর দিচ্ছিল না।একরকম মনস্থির করেই ফেলেছি যে ম্যাডামের ডিউটিটা যে ভাবেই হোক ছাড়তে হবে।কিন্তু কোনভাবেই কথাটা বলার সুযোগ পাচ্ছিলাম না।মওকা পেলাম বেশ কয়েকদিন বাদে পার্ক স্ট্রীটের এক অভিজাত রেস্তোরায় ম্যাডামের সঙ্গে ডিনার করতে গিয়ে।দুপাত্র পান করার পর ম্যাডামের মুডটা দেখলাম ঠিক আছে তাই আর বিন্দুমাত্র ধানাই পানাই না করে সোজাসুজি কথাটা বলেই ফেললাম।ম্যাডাম-এবার আমায় ছুটি দিন।আমার কথা শুনে ম্যাডাম অন্য দিয়ে তাকিয়ে রইলেন।ভান করলেন যেন তিনি কিছুই শুনতে পাননি।কোন উত্তর দিলেন না।আমি যতদূর ম্যাডামকে চিনি তাতে বুঝলাম তিনি কোন উত্তর দেবেন না।কিন্তু আমি মরিয়া।জবাব আমায় আজ পেতেই হবে।সময় চলে যাচ্ছে বুঝে নাছোড়বান্দার মতো আবার কথা পাড়লাম।এবার বিরক্ত হয়ে চুলে হাতের ঝটকা মারলেন,মরালির মতো ঘাড় তুলে আমার পানে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন-কাজ ছাড়তে চাইছ কেন?আমি আলতো করে বললাম আসলে আমি আর ড্রাইভারি করতে চাই না।আমার কথা শুনে লহমায় ম্যাডামের চোখ পাথর।দাঁতে দাঁত চেপে বললেন-ড্রাইভারি না করে কি করবে?-বেস্যাবিত্তি?কথাটা শুনে আমার মাথায় দপ করে আগুন জ্বলে উঠল।রাগ সামলাতে না পেরে জবাব দিলাম,এখনই বা অন্য কি করছি!বেস্যাবিত্তিই তো করছি।আমার জবাবে ম্যাডাম তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন।হিস্টিরিয়া রুগির মতো দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে চিৎকার করে হাতের পান পাত্র মেঝেতে আছড়ে মারলেন।হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েছেন।উনি ভুলে গেছেন কোন পরিবেষে আছেন।আমার দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে বলে চলেছেন-নতুন নতুন মাগি জোগাড় করে ফেলেছ!তাই আর পুরনোতে মন ভরছে না-গেট আউট ইউ বাস্টার্ড,তোমাদের ক্লাসের লোকেদের রক্তে দোষ আছে।সকলে তাকিয়ে দেখছে কিন্তু ওনার হুঁশ নেই।প্রবল অপমানের জ্বালাটা আমার শরীরে এক ঝাঁক লাল পিঁপড়ের কামড় হয়ে ঘুরছিল-ফিরছিল।মনকে শান্ত করে রেস্তোরা থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম।এবং মাথা নিচু করে বেরিয়েও এলাম।উনি এতো সহজে আমার ওপর মালিকানা ছাড়বেন না এমনটা আন্দাজ ছিল কিন্তু এই নোংরা প্রতিক্রিয়া আশা করিনি।রেস্তরার বাইরে এসে স্যারকে ফোনে জানালাম হটাত আমার শরীর খারাপের কারনে বাড়ী চলে যাচ্ছি।রেস্তরার নাম জানিয়ে অনুরোধ করলাম,উনি যেন ম্যাডামকে পিকআপের ব্যবস্থা করে।আমি ট্যাক্সি ধরে সোজা বাড়ী চলে এলাম।ফেরার পথে নিজেকে বেশ ঝরঝরে লাগছিল।অপমানের খোঁচা মনে বিঁধছিল কিন্তু তবুও কেন জানিনা নিজেকে মুক্ত বোধ করছিলাম।হয়ত আমি অন্তঃকরণে চাইছিলাম নাগিনীর নাগপাস থেকে বেরিয়ে আসতে।

alexis_mabille_hot_boys_V_28jun10-FirstVIEW

বেশ বেলা হল ঘুম ভাঙ্গতে, আরও দেরি হোতো যদিনা মা ঘুম ভাঙ্গাত।মা চা দিয়েছেন-চা খাচ্ছি,ইতিমধ্যে ফোন বেজে উঠল।ফোনের বোতাম টিপে হ্যালো বলাতে ওপারে গার্গীর গলা ভেসে এলো।  সুপ্রভাতক দেবরাজ-কি ঘুম ভেঙ্গেছে?বললাম হ্যা,এই উঠলাম,চা খাচ্ছি।গার্গী বলল,দেবরাজ আমি এই ঘুমের কথা বলছি না-কাল রাতে যা ঘটেছে তার পর তোমার ঘুম ভেঙ্গেছে কিনা জানতে চাইছি।আমি বিস্মিত হয়ে শুধলাম,আপনি জানলেন কি করে!দেবরাজ,এই পৃথিবীটা দেখতে বড় লাগলেও আদতে খুব ছোট।বিশেষ করে খবরের ক্ষেত্রে।আমি কাল রাতেই খবর পেয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু রাতেরবেলা আর তোমায় বিব্রত করতে চাহিনি,তাই।দেবরাজ-আমি কিন্তু তোমায় মন্দারমুনিতেই সাবধান করেছিলাম-কি মনে পড়ছে?আমরা ওকে অনেকদিন চিনি।কখন যে কি করবে সেটাই বোঝা মুশকিল।যাক,যা হয়েছে ভালই হয়েছে।তুমি যে কাজ শুরু করেছ ইতিমধ্যে তোমার যথেষ্ট সুনাম হয়েছে।তোমার সব ক্লায়েন্টরাই তোমার থেকে তাদের চাহিদা পুরনে খুশি।এই তো সময়,শরীর থাকতে থাকতে দু-পয়সা কামিয়ে নাও। আর-হ্যা,ভাল কথা অরুন্ধুতি দত্ত নামে একজন তোমায় ফোন করবে।পারলে অ্যাটেন্ড করবে না পারলে যাবে না তবে ফোন করলে অবশ্যই রিসিভ করো।ঠিক আছে বলে আমি গার্গীর ফোন ছেড়ে দিলাম।

mens-health-sex

লাঞ্চ করে বিছানায় শুয়ে সংবাদপত্র পড়ছি।মা পাশে বসে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নাগাড়ে আমার পেটের কথা বার করার চেষ্টা করে চলেছে।মায়ের নানান প্রশ্ন।আমিও হু-হ্যা করে সারছিলাম।আসলে আমি উন্মুখ হয়ে অরুন্ধুতির ফোনের অপেক্ষা করছিলাম।এমন সময় মোবাইল বেজে উঠল।ঘড়িতে তখন সময় বেলা ৩টে।আমি হ্যালো বলাতে মহিলা সাড়া দিলেন।বেশ সম্ভ্রান্ত গলা।পরিচয় দিলেন-আমি অরুন্ধুতি বলছি,আপনি কি দেবরাজ বলছেন?গার্গী আমায় আপনার ফোন নং দিল।এখন কি আপনার সঙ্গে কথা বলা যাবে?উত্তর দিলাম,জাবে।ওকে-বলে একটু থামলেন।মনে হল নিজেকে গুছিয়ে নিলেন কথাটা কিভাবে শুরু করবেন।দেবরাজ-আশা করি কেন ফোন করেছি নিশ্চয় অনুমান করছেন।জবাব দিলাম বুঝেছি।অরুন্ধুতি শুরু করল এই ভাবে-কাল এবং পরশু দুদিন ছুটি আছে জানেন কি?জানালাম জানি।তাহলে চলুন না আমি আর আপনি এই দুটোদিন দুজনে মিলে একটু উষ্ণ সময় কাটাই।যদি রাজি হন তাহলে শ্রীরামপুরে গঙ্গার ধারে আমার একটা ছোট্ট বাগান বাড়ী আছে,ওখানে যাওয়া যেতে পারে।আপত্তি থাকলে অন্য কোথাও যেতে পারি।যেমন বলবেন।বাকি কমার্শিয়াল ব্যাপারটা গার্গী আমায় বলে দিয়েছে-সেই অনুযায়ী হবে।এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে অরুন্ধুতি দম নিল।মনে হল ভীষণ দ্রুত কথাগুলো শেষ করতে চেয়েছিল অরুন্ধুতি।আমার স্বল্প অভিজ্ঞতা বলছে সম্ভবত এটাই অরুন্ধুতির প্রথম গোপন অভিসার।আমি সম্মতি জানাবার জন্য আধ ঘণ্টা সময় চেয়ে নিলাম।ফোন ছাড়ার আগে জানিয়ে দিলাম আমার ফুল পেমেন্ট আগাম দিতে হবে।একটু পজ নিলেন,ঠিক আছে বলে ফোন কাটলেন।ফোনালাপ চলাকালীন মা যে উৎকর্ণ হয়ে আমদের আলাপ শুনছিলেন সেদিকে খেয়াল করি নি।ফোন রাখতেই মা জিজ্ঞাসা করলেন কে ফোন করেছে,কোথায় যাবি?মাকে জানালাম আমায় একটা বিশেষ কাজে দু দিনের জন্য কলকাতার বাইরে যেতে হবে।অহেতুক চিন্তা করো না,পরশু সকালেই ফিরব।মায়ের নিস্পলক দৃষ্টি আমার মুখের ওপর।শুধু মৃদু স্বরে জানতে চাইলেন কখন বেরুবি?বিছানা থেকে নেমে কক্ষ ত্যাগ করলেন।ঐ মুহূর্তের মায়ের মুখ খানার সঙ্গে আমি বিশেষ ভাবে পরিচিত।নানান কৌতূহলের ঢেউ মায়ের মন উথাল পাথাল করছে।আগে হলে সন্তোষ জনক উত্তর না দিয়ে চৌকাট পেরোনোর জো ছিল না কিন্তু এখন মা বোঝে, ছেলে বড় হয়েছে,রোজগেরে।তাই আজকাল অনেক কিছু মেনে নেয়।মা ঘরের বাইরে যেতেই আমি অরুন্ধুতিকে ফোনে সম্মতির কথা জানিয়ে দিলাম।এও জানতে চাইলাম আমার ছবি হোয়াটঅ্যাপে পাঠাতে হবে কিনা।অরুন্ধুতি উত্তরে জানাল গার্গী ছবি আগেই পাঠিয়ে দিয়েছে।ওকে বলে ফোন ছেড়ে দিলাম।

place-beyond-the-pines_55008268-2048x1365

৫টা নাগাদ স্ট্যান্ড রোড মিলেনিয়াম পার্কের মুল প্রবেশ পথের সামনে দাঁড়াতে বলেছে-অপেক্ষা করছি।এপ্রিলেই বেশ গরম।রাস্তায় দাঁড়িয়ে সেদ্ধ হচ্ছি।শরীর থেকে ভাপ বেরবে এমন অবস্থা।আজ রাস্তায় যান চলাচল বেশ কম।এই ৫টার সময় বাড়িগুলোর দিকে তাকালে মনে হবে এখুনি জানলার কাঁচ আর অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি ফ্রেমগুলো গলে গলে পিছলে পড়তে পারে।ভাবনার ছেদ পড়ল ফোনের রিংটোনে।ফোন ধরলাম,অরুন্ধুতি-আপনি কোথায়?আমি জানালাম পার্কের গেটের সামনে।আপনি কি ডেনিম কালারের সার্ট পরে আছেন?জানালাম হ্যা।একটা মেরুন রঙের ডিজায়ার গাড়ী অরুন্ধুতি নিজেই চালিয়ে আমার সামনে এসে খাড়া করিয়ে উঠে পড়তে বলল।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *