সুরের ভাষা, ছন্দের ভাষা, প্রাণের ভাষা, আনন্দের ভাষা– সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

international-mother-language-day (1)জনমের পর মায়ের মুখে শোনা শব্দ ক্রমশ ভাষা রুপে প্রকাশ পায় শিশুর কাছে। সেটাই তার মাতৃভাষা। আমার মাতৃভাষা বাংলা।

এই মাতৃভাষার মাধ্যমে যত সহজ,সাবলীল এবং সুন্দর ভাবে ভাব প্রকাশ করা যায়, অন্য কোন ভাবে তা প্রকাশ করা যায় না। এ জন্য মাতৃভাষা আমার কাছে, সবার কাছে প্রিয়। এ প্রিয় মাতৃভাষা রক্ষার জন্য একমাত্র বাঙালিরাই বুকের তাজা রক্ত ঢেলে ছিল। পৃথিবীর অন্য কোন জাতি, ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে কিনা তা অজানা। একমাত্র বাঙালিরাই তার ব্যতিক্রম।

পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী যখন রাষ্ট্র ভাষা উর্দু করার জন্য প্রস্তাব পেশ করে ঠিক তখনই বাঙালি গর্জে উঠে। উর্দু নয়,বাংলা হবে রাষ্ট্রভাষা। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলার ছাত্র, যুবক তথা আপামর জনতা ভাষার দাবিতে রক্তসিক্ত আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে-সালাম, জব্বার, বরকতের বুকের তাজা রক্তে ভাষার দাবী প্রতিষ্ঠিত হয়। সেদিন থেকে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো হয়ে আছে ভাষা শহীদ দিবস ২১ শে ফেব্রুয়ারি।আজ বিশ্ব দরবারে সমাদৃত আমার আদোরের বাংলা ভাষা।

মোদের গর্ব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।

বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতির পেক্ষাপটে বিচার করলে বলতেই হয়,যে বাংলা ভাষার জন্য বাঙালির প্রানপাত লড়াই, আজ সেই ভাষা বাইরে পৃথিবীর বুকে স্বীকৃত ভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত কিন্তু দুর্ভাগ্য, সেই ভাষা নিজের দেশে কতটুকু মর্যাদা পাচ্ছে তা বিচার বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

“জানেন দাদা আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসেনা।”

ভাষা শহীদদের স্বপ্ন ছিল বাংলা রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে সকল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে। বাংলার শিল্প, সাহিত্য, কৃষ্টি সংস্কৃতিক বাংলা ভাষা লিখিত পঠিত হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। রাষ্ট্রের দাপ্তরিক কর্মকান্ড অন্য ভাষার ব্যবহার করতে আগ্রহ বোধ করেন। তাই নয় আমারা চোখ খুলি গুডমর্নিং এ, ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, হোল ডে হাই, হ্যালো, ডিনার, গুডনাইট ইত্যাদি আরও অনেক। তার সাথে হিন্দির কিছু শব্দ মাতৃভাষায় সংযোজিত হয়ে পাঁচমেশালী কিছু জারজ শব্দের জন্ম দিয়েছে যা ভাষা কখনই নয়। আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে কতটা শুদ্ধ বাংলা শেখাতে পারি? এর দায়তো আমাদেরই।বাংলায় কথা বলা, চর্চা করা আমাদের কাছে বিরক্তি ও নীচু মানের বলে মনে হয়। বাংলায় কথা বললে ভদ্র লোক মনে হয় না বরং ইংরেজিতে কথা বললে উচু মানের ভদ্র লোক মনে হয়।

আমাদের বুঝতে হবে বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, আর ইংরাজী আমাদের কর্মের ভাষা।

বাংলা ভাষাকে ভালোবাসতে হবে, নিজের মাতৃভাষা কে যথাযথ সম্মান দিয়ে শুদ্ধ বাংলা বলতে হবে শিশুদেরকেও সেটা শেখাতে হবে। তবেই ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ সফল হবে। শুধু ২১ শে ফেব্রুয়ারি নয় সারা বছর বাংলা ভাষাকে জাগিয়ে রাখতে হবে।

এ যে সুরের ভাষা, ছন্দের ভাষা প্রাণের ভাষা আনন্দের ভাষা।

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *