‘সাহিত্যে নক্ষত্র পতন’

imageবাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি লেখক রমাপদ চৌধুরী চিরকালের জন্য বিদায় নিলেন।গত ২১সে জুলাই ফুসফুসে সংক্রমন হওয়ায় তাকে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ২৯সে জুলাই, রবিবার সন্ধ্যে ৬.৩০ মিনিটে হাসপাতালেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।

তরুণ বয়স থেকেই লেখালেখির শুরু।প্রথম গল্প ‘উদয়ান্ত’ প্রকাশিত হয়েছিল যুগান্তর পত্রিকায়। কর্মজীবন শুরু আনন্দবাজার পত্রিকায়।একদিকে সম্পাদনা আরেকদিকে চলতে থাকে সাহিত্য সৃষ্টির কাজ।

উপন্যাস থেকে ছোট গল্প, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য—সবেতেই ছিল রমাপদ চৌধুরীর অবাধ বিচরণ। তাঁর বহু বিখ্যাত উপন্যাসের মধ্যে ‘বনপলাশীর পদাবলী’, ‘এখনই’, ‘খারিজ’, ‘লালবাঈ’, ‘দ্বীপের নাম টিয়ারং’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

১৯৬০ সালে তাঁর লেখা ‘বনপলাশীর পদাবলী’ ব্যাপক প্রশংসিত হয় বাংলার সাহিত্যিক ও পাঠক মহলে। তাঁর বহু উপন্যাসের ওপর চলচ্চিত্রায়ন হয়েছে যেগুলি চলচ্চিত্র হিসেবেও দারুন সাফল্য পায়। যেমন, দ্বীপের নাম টিয়ারং (১৯৬৩),পিকনিক (১৯৭২),বনপলাশীর পদাবলী (১৯৭৩), খারিজ (১৯৮২), এক দিন অচানক (১৯৮৯) ইত্যাদি বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।

১৯৮২ সালে টেস্ট টিউব বেবির জনক সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের জীবনি অবলম্বনে লিখেছিলেন ‘অভিমূন্য’। পরবর্তী কালে চলচ্চিত্র পরিচালক তপন সিনহা এই কাহিনি অবলম্বনে হিন্দিতে তৈরি করেন বিখ্যাত ছবি ‘এক ডক্টর কি মত’।

‘বাড়ি বদলে যায়’ উপন্যাসের জন্য ১৯৮৮ সালে রমাপদ চৌধুরীকে সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। ১৯৬৩ সালে আনন্দ পুরস্কার, ১৯৭১ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার এবং ২০১১ সালের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মেমোরিয়াল ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ।

২০১৫ সালে ‘হারানো কথা’ রমাপদ চৌধুরীর শেষ লেখা প্রকাশিত হয়।  এর পর রীতিমতো ঘোষণা করেই লেখা থামিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। রমাপদ চৌধুরীর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল যুগের অবসান হল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *