‘সহজিয়া কাব্যধারায় ব্যতিক্রম’

58323_debishnuগত শতাব্দীর তিরিশের দশকে রবীন্দ্র-ভাবধারার বিপরীতে দাঁড়িয়ে যে-কজন কবি তাদের মেধা ও মননের দ্বারা বাংলা কবিতার জগতে আলাদা স্থান নির্মাণ করেছিলেন,কবি বিষ্ণু দে তাঁদের মধ্যে অগ্রগন্য।

লোকালয়ে থেকেও তিনি মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন নি। তাই যন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে উচ্চারণ করেছেন : ‘মানুষের অরণ্যের মাঝে আমি বিদেশী পথিক,/মুখোমুখি কথা বলি/চোখে লাগে অটল প্রাচীর।/বিদেশী পথিক আমি এসেছি কি বিধাতার ভুলে/পৃথিবীর সভাগৃহে, বুঝিনাকো ভাষা যে এদের।

বিষ্ণু দে-র কবিতায় দেশবাসীর পরাধীনতা, মধ্যবিত্তজীবনের যন্ত্রণা, সঙ্কটপূর্ণ নগরজীবন এবং মূল্যবোধের সর্বৈব অবক্ষয়ের পটভূমিতে বিষ্ণু দে-র কাব্য গড়ে উঠেছে। তাঁর কাব্যে টি এস এলিয়টের প্রভাব বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করা যায়। দেশের অতীত ও সমকালীন বর্তমানের নানা বিষয় এবং ইউরোপের শিল্প সাহিত্যের বিচিত্র প্রসঙ্গ থাকায় তার কাব্য সম্ভারের গায়ে দুর্বোধ্যতার তকমা লেগেছে।

বিষ্ণু দে’র কাব্য গ্রন্থগুলিঃ

উর্বশী ও আর্টেমিস (১৯৩২)
চোরাবালি (১৯৩৮)
পূর্বলেখ (১৯৪০)
রুচি ও প্রগতি (১৯৪৬)
সাহিত্যের ভবিষ্যৎ (১৯৫২)
সন্দীপের চর (১৯৪৭)
অন্বীষ্টা (১৯৫০)
নাম রেখেছি কোমল গান্ধার (১৯৫০)
তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ (১৯৫৮)
রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্য আধুনিকতার সমস্যা (১৯৬৬)
মাইকেল রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জিজ্ঞাসা (১৯৬৭)
ইন দ্য সান অ্যান্ড দ্য রেন (১৯৭২)
উত্তরে থাকে মৌন (১৯৭৭)
সেকাল থেকে একাল (১৯৮০)
আমার হৃদয়ে বাঁচো (১৯৮১)

সাহিত্যে তাঁর অবদানের জন্য তিনি সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার, নেহেরু পুরস্কার এবং জ্ঞানপীঠ লাভ করেছিলেন। এছাড়া তিনি সোভিয়েত ল্যান্ড অ্যাওয়ার্ড পান। ১৯৮২ সালে ৩০সে ডিসেম্বর কবি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *