শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত রচেতা, মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত(শ্রীম) আজকের দিনে জন্মগ্রহন করেছিলেন।

Mahendranathgupta

মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত বা শ্রীম, রামকৃষ্ণ পরমহংসের সাক্ষাৎ শিষ্য.ধর্মীয় ও দর্শন সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব ১৮৫৪ সালে ১২ই মার্চ জন্মগ্রহন করেন। শ্রীম ছদ্মনামে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত  তাঁর অমর কীর্তি। মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত কলকাতার রিপন কলেজে অধ্যাপক ছিলেন। এর আগে কলকাতার একাধিক স্কুলে তিনি শিক্ষকতা করেছিলেন।তাই  ঠাকুর তাকে মাস্টার বলে ডাকতেন।

তের বছর বয়স থেকে তিনি ডায়েরি লিখতে শুরু করেন। ১৮৮২ সালে রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। রামকৃষ্ণের ব্যক্তিত্বে আকর্ষিত হয়ে মহেন্দ্রনাথ তাঁর কথোপকথন ও কার্যকলাপের বিবরন নিজের ডায়েরিতে স্টেনোগ্রাফিক রেকর্ড রাখতে শুরু করেন। এই রেকর্ডটিই  শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত নামক বই। আকার নেয়। প্রথম দিকে মহেন্দ্রনাথ যখন ডায়েরি লিখতে শুরু করেছিলেন, তখন তাঁর সেটি প্রকাশের কোনো পরিকল্পনা ছিল না।বইটি প্রকাশের পর শ্রীম বলেছিলেন- “বাড়ি ফেরার পর স্মৃতি থেকে সব কিছু লিখে রাখতাম। মাঝে মাঝে সারা রাত জেগে লিখতে হতো। কখন কখন টানা সাত দিন বসে থেকে লিখতে হত। গানগুলিকে স্মরণে আনতে হত,কারন সেই সময় কোন ক্রমে সেগুলি গাওয়া হয়েছিল। সেগুলিও মনে করতে হত। সমাধি ও অন্যান্য সব ঘটনার কথা মনে করতে হত।” কথামৃতের প্রতিটি পরিচ্ছেদে মহেন্দ্রনাথ তথ্যের পাশাপাশি সময় ও স্থানের উল্লেখ করেছেন। “কথামৃত” শব্দটি বৈষ্ণব  ধর্মগ্রন্থ ভাগবত পুরান এর ১০।৩১।৯ সংখ্যক শ্লোক থেকে নেওয়া।

১৯০২সালে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত বইটির প্রথম খণ্ড প্রকাশের আগে ‘আ লিফ দ্য গসপেল অফ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ নামে একটি ছোট ইংরেজি বই প্রকাশ করা হয়। পরমহংসদেবের মৃত্যুর পর মহেন্দ্রনাথ নিজের ডায়েরি প্রকাশের উদ্যোগ নেন। মহেন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন পরমহংস দেবের চিন্তাভাবনা সঠিকভাবে মানুষের কাছে প্রকাশ হোক। নিজের ডায়েরি প্রকাশের তিনি শ্রীমা সারদা দেবীর কাছে অনুমতি নেন। ১৮৯৮ থেক ১৯০২ সালের মধ্যে ডায়েরির অংশবিশেষ বঙ্গদর্শন, উদ্বোধন, হিন্দু পত্রিকা, জন্মভুমি প্রভৃতি প্রথমসারির সাময়িকপত্রে প্রকাশিত হয়। প্রথম চারটি খণ্ড যথাক্রমে ১৯০২, ১৯০৪, ১৯০৮ ও ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়।মহেন্দ্রনাথের অসুস্থতার কারনে ১৯৩২ সালে পঞ্চম খণ্ডটি দেরি করে প্রকাশ হয়। ১৯৩২ সালে মহেন্দ্রনাথ মারা যাওয়ার আগে ভেবেছিলেন যে ষষ্ঠ ও সপ্তম খণ্ড প্রকাশের পর বইটির বিষয়বস্তু কালানুক্রমিকভাবে সাজাবেন, সেটি আর হয়ে ওঠেনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *