রাঢ়ের কবিগানে একটি জনপ্রিয় বোলের পালা: চিন্তামণি-বিল্বমঙ্গল,প্রবন্ধিক-ড: সুবীর ঘোষ

kobigaan‘লীলাশুক’ বিল্বমঙ্গলের কাহিনি বেশ প্রাচীন।অদ্বৈতবাদী সাধক ব্রাহ্মণ বিল্বমঙ্গল শঙ্করাচার্যের পরবর্তী সময়ে আবির্ভূত। কৃষ্ণলীলা বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কৃষ্ণকর্ণামৃত’ নাটক এবং ‘বিল্বমঙ্গল’ গ্রন্থের জন্য সারা ভারতবর্ষে তাঁর প্রসিদ্ধি। জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যে এই ‘কৃষ্ণকর্ণামৃত’ নাটকের প্রভাব আছে। স্বয়ং মহাপ্রভু স্বরূপ রামানন্দের সঙ্গে এই অপরূপ গ্রন্থের রস আস্বাদন করেছিলেন বলে প্রমাণ পাই কৃষ্ণদাস কবিরাজের ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ গ্রন্থে।কবিরাজ গোস্বামী এই ‘কৃষ্ণকর্ণামৃত’ গ্রন্থের টীকা রচনা করেছেন এবং যদুনন্দন দাস বাংলায় অনুবাদ করেছেন।সেখান থেকে বিল্বমঙ্গলের কাহিনি বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে লোককথায়, নাটকে ও অন্যান্য সাহিত্যে ।গিরীশচন্দ্র ঘোষ এই বিল্বমঙ্গলের কাহিনি নিয়ে নাটক রচনা করেছেন। মূল কাহিনির সঙ্গে নানান লোকশ্রুতি মিশে মূল কাহিনি অনেকটাই পরিবর্তিত হয়ে গেছে। সেই লোকায়ত কাহিনিকেই আশ্রয় করে তৈরি হয়েছে কবিগানের বোলের পালা–‘চিন্তামণি-বিল্বমঙ্গল’।

দাক্ষিণাত্যেরকৃষ্ণবেণ্বা নদীর পশ্চিমতীরে ছিল কবীন্দ্র বিল্বমঙ্গলের বাস। বাবার নাম রামদাস। রামদাস ছিলেন সজ্জন ধার্মিক ব্রাহ্মণ। তিনি তার ছেলেকে খুব যত্ন করে সেকালের সমস্ত বিদ্যা, শাস্ত্র, ও ধর্মীয় আচার পালনাদি শিখিয়েছিলেন। তার ফলে বিল্বমঙ্গল একজন দয়ালু, মৃদুভাষী, ধর্মভীরু ও নরম-মনের মানুষ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তার এই সুকুমার প্রবৃত্তি, এই মানবিক গুনগুলি তার জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। যৌবনে পা দিতে না দিতেই সে তার মা বাবাকে হারাল। ফলে অল্প বয়সেই সে তার বাবার অগাধ ধন সম্পত্তির মালিক হয়ে গেল। অপরিণত বয়সে প্রচুর কাঁচা পয়সা হাতে পাবার ফলে বন্ধু বান্ধবের সংখ্যাও বাড়তে লাগল লাফিয়ে লাফিয়ে। সে অসৎসঙ্গে পড়ে গেল । একদিন এক ব্ন্ধুর পরামর্শে সে সপারিষদে মহাহুল্লোড়ে চিন্তামণি নামে এক বারবনিতার নাচ দেখতে গেল। চিন্তামণির রূপ যৌবন তাকে সম্মোহিত করল। কোন যুক্তিই তাকে বেঁধে রাখতে পারল না। সে তার দেহ, মন, বিষয়-সম্পত্তি,পারিবারিক সম্মান,তার জাত-কুল-ধর্ম বিসর্জন দিল চিন্তামণিকে কাছে পাবার জন্য। চিন্তামণিই হল তার একমাত্র চিন্তা,তার মনের মণি। চিন্তামণির জন্য সে সব কিছুকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত আছে। এভাবে দিনের পর দিন, দিনের বেশিরভাগ সময়টাই সে চিন্তামণির ঘরে কাটাতে লাগল। কিন্তু একদিন তাকে বাধ্য হয়েই সারাটা দিন বাড়িতে থাকতে হল। দিনটা ছিল তার বাবার মৃত্যু-বার্ষিকী। বাড়িতে থাকলেও মন পরে রইল চিন্তামণির কাছে। খুবই অনিচ্ছা ও অন্যমনষ্কতার সঙ্গে সে সেদিনের ক্রিয়া-কর্মাদি পালন করল। কিন্তু সন্ধ্যা নামতেই আকাশের ঘনায়মান মেঘ ও ঘন ঘন বজ্রপাতের শব্দে বিল্বমঙ্গলের মন বড় উচাটন হয়ে পড়ে চিন্তামণিকে দেখার জন্য। সকলের নিষেধ অগ্রাহ্য করে, আকাশের দুর্যোগ উপেক্ষা করে বেরিয়ে পড়লো চিন্তামণির কাছে। কথায় বলে,-‘কামাতুরণম্ নভয়ম্ নলজ্জা’। বিল্বমঙ্গল যখন নদীতীরে এসে পৌঁছালো তখন নদীর ঘাটে কোনো নৌকা নেই।

নদীর ওপারে চিন্তামণির বাস। একে সন্ধ্যা পেরিয়ে আঁধার ক্রমশ জমাট হতে শুরু করেছে, তার উপর ঘন মেঘের চাদর চারদিক আরো ঘোরালো করে তুলেছে। ঘন ঘন মেঘ গর্জন ও বজ্রপাতের সঙ্গে তুমুল বৃষ্টিও শুরু হয়েছে। কিন্তু বিল্বমঙ্গলের সেদিকে হুঁশ নেই। মিলনপিপাসায় সে তখন দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য। কোনোরকম কিছু চিন্তা না করে নদীর উত্তাল ঢেউ এ ঝাঁপ মারল সে। নদীতে তখন একটা পচাগলা শবদেহ ভেসে যাচ্ছিল। সেটিকেই কাঠের গুঁড়ি ভেবে জাপটে ধরল সে ভেসে থাকার জন্য। এভাবে যখন সে কোনোরকমে নদীর ওপারে অর্দ্ধ-উলঙ্গ ও দুর্গন্ধময় অবস্থায় চিন্তামণির বাড়ির কাছে পৌঁছাল, তখন দেখল বাড়ির সব দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পরেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। একদিকে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের শব্দ, অন্যদিকে বিল্বমঙ্গলের আসার কথা না থাকায় দরজা-জানলা বন্ধ করে চিন্তামণি নিদ্রামগ্ন। হঠাৎ বিদ্যুতের আলোকচ্ছটায় প্রাচীরগাত্র থেকে একটি দড়ি ঝুলে থাকতে দেখে বিল্বমঙ্গল। ভাবে চিন্তামণিই হয়তো ঝুলিয়ে রেখে দিয়েছে। আসলে সেটি ছিল বিষধর কালসর্প । মুখটি গর্তের মধ্যে ঢুকে ছিল। তার লেজ ধরে উঠতে গিয়ে পিছলে পড়ে যায় প্রাচীনপ্রান্তের নর্দমায় এবং জ্ঞান হারায়। ভারি বস্তুর পতনের আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায় চিন্তামণির। দাসীরা তুলে নিয়ে আসে বিল্বমঙ্গলকে। চিন্তামণির সেবা-শুশ্রূষায় বিল্বমঙ্গলের যখন জ্ঞানোদয় হয়, তখন এমন দুর্যোগ মাথায় করে চিন্তামণির কাছে আসার জন্ম চিন্তামণি তাকে যথেষ্ট তিরস্কার করে। তারপর শুরু হয় দু’জনের কথোপকথন। এখান থেকেই শুরু হয় কবিগানের বোলের পালা। চিন্তামণি যখন জানতে পারে দড়ি ভেবে যা ধরে প্রাচীর টপকে বিল্বমঙ্গল বাড়ির ভিতর ঢুকেছে, তা আসলে দড়ি নয়, কালসর্প এবং সেই কাঠের গুড়ি ভেবে যা ধরে সে পাড় হয়ে এসেছে খরস্রোতা নদী, তা আসলে একটি মৃতদেহ, তখন চিন্তামণি অবাক না পারেনি। আর সেই মুহূর্তেই মৃদু ভৎর্সনার সুরে বলেছে,  বাবারমৃত্যুবার্ষিকীর দিনে, এই দুর্যোগ মাথায় করে বিপদের ঝুঁকি নিয়ে বিল্বমঙ্গল যেভাবে এসেছে, তাই প্রমাণ করে বিল্বমঙ্গল চিন্তামণিকে কত ভালোবাসে। কিন্তু এই ভালোবাসা তো শুধুই তাঁর শরীরের উপর। কিন্তু তাঁর শরীরের সৌন্দর্য সকালের শিশিরের মতই ক্ষণস্থায়ী। কিছুদিন পর এই শরীর আর শবদেহর মধ্যে কোন পার্থক্যই থাকবে না। কেন সে তাঁর এত বিপুল ভালবাসা অপাত্রে দান করছে ? তাঁর এই প্রেমস্রোতধারা একমাত্র সেই প্রেমসাগরই বুকে নিতে পারে। চিন্তামণির প্রতি যে প্রেম সে দেখিয়েছে তার অর্দ্ধেকও যদি সে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দেখাতো, তাহলে সে এতদিন মোক্ষলাভ করে যেত। যে সাময়িক সুখের জন্য সে ছুটে বেড়াচ্ছে তার পরিবর্তে চিরসুখ লাভ করে ফেলতো।

চিন্তামণির এক একটা কথা যেন তার গালে এক একটা চড় কষাল, যেনচাবুক মেরে তার পিঠ ফালাফালা করে দিল। প্রতিটি কথা তার বুকে শেলের মত বিঁধতে লাগল। চোখ থেকে অঝোরে জল ঝড়তে লাগল তার। নিমেষে এক বিপুল পরিবর্তন এল তার মধ্যে। নিজেকে সঠিক ভাবে চিনতে পেরে চিন্তামণির পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়লো এবং তাঁকে গুরু মেনে বেরিয়ে পড়লো পরমানন্দ কৃষ্ণের খোঁজে। সবকিছু ছেড়ে দিয়ে কৃষ্ণপ্রেমে মাতোয়ারা হয়ে কৃষ্ণসাধনায় মগ্ন হল বিল্বমঙ্গল। অনেকদিন সাধনার পর সাধক বিল্বমঙ্গল কৃষ্ণনাম জপ করতে করতে সারা দেশ ভ্রমণে বেরিয়ে পরলেন।

একদিন গঙ্গার এক ঘাটে উন্মনা হয়ে বসে আছেন বিল্বমঙ্গল ঠাকুর। নগরের এক বণিকের সুন্দরী স্ত্রী স্নান সেরে উঠে আসছিলেন। তার অপরূপ রূপলাবণ্য চোখ ধাঁধিয়ে দিল বিল্বমঙ্গলের। সে মেয়েটিকে অনুসরণ করতে লাগল। মেয়েটি কোনকিছু খেয়াল না করে বাড়ি পৌঁছে গেল। বিল্বমঙ্গলও সেই বণিকের বাড়ি উপস্থিত। বণিক বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলে বিল্বমঙ্গল নিঃসংকোচে সব খুলে বলেন এবং সেই অপরূপ লাবণ্য আর একবার দেখার জন্য ডেকে দিতে বলেন তাঁকে। সন্ন্যাসীর এমন নিষ্পাপ স্বীকারোক্তিতে বণিক সন্তুষ্ট হয়ে ডেকে দেন তাঁর স্ত্রীকে। এমন সময় সম্বিত ফেরে বিল্বমঙ্গলের । এই অশোভন আচরণের জন্য তার মন অনুশোচনায় ভরে ওঠে। রাগ, ঘৃণা ও লজ্জায় সে তার দুই চোখকে দোষী সাব্যস্ত করে। বণিকের সুন্দরী বেরিয়ে এলে তাকে দেখার পরিবর্তে তার মাথার কাঁটা চেয়ে নেনএবং নিজের অপরাধী চোখে তাফুটিয়ে দেন বিল্বমঙ্গল। গাল বেয়ে ঝরঝর করে রক্ত ঝরতে থাকে। সেদিকে তাঁর বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। কৃষ্ণনাম করতে করতে আনন্দে আত্মহারা হয়ে নাচতে লাগেল বিল্বমঙ্গল। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য! এভাবেই বিল্বমঙ্গলের মনের সব গ্লানি তার রক্ত ও অশ্রুধারায় ধুয়েমুছে যায়। অন্ধ বিল্বমঙ্গল মনের আনন্দে কেবল কৃষ্ণনাম কীর্তন করেন। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্লান্তি কোনো কিছুই তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। তারপর একদিন ভগবান এক রাখাল বালকের ছদ্মবেশে এসে বিল্বমঙ্গলকে সঙ্গে করে বৃন্দাবনে নিয়ে যান। অন্ধ বিল্বমঙ্গলকে সেবা করেন। বিল্বমঙ্গলের কৃষ্ণভক্তি ও নিষ্ঠাতে প্রসন্ন হয়ে সেই রাখালবেশী ভগবান শ্রীকৃষ্ণচোখে হাত বুলিয়ে বিল্বমঙ্গলের অন্ধত্ব দূর করে দেন। কৃষ্ণের আশীর্বাদধন্য বিল্বমঙ্গল ঠাকুর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অসংখ্য ভজনসংগীত এবং কৃষ্ণ লীলাকথার আকর গ্রন্থ ‘কৃষ্ণকর্ণামৃত’ নাটক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।

বোলের পালায় অভিনয়ের প্রয়োজনে কবিয়ালরা কাহিনিটিকে কিছুটা নিজেদের মতো করে উপস্থাপন করেন। অবশ্য মূল কাহিনিকে বিকৃত করে একেবারেই নয়। কবিগানের মিলনগীতিতে চিন্তামণির কাছে আগত বিল্বমঙ্গল অবশ্য নর্দমায় পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারায় না। সে নিজেই চিন্তামণির ঘরের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকে। কিন্তু বারবনিতা হলেও এমন দুর্যোগের রাতে দরজা খুলতে চায় না চিন্তামণি। বিশ্বাসও করতে পারে না এই সেই বিল্বমঙ্গল কিনা। এই বাদানুবাদ দিয়েই শুরু হয় কবিগানে বোল কাটাকাটি। কিন্তু মূল আখ্যানকে কবিয়ালরা নিজেদের মতো উপস্থাপন করতে গিয়ে কিছুটা রকমফের করে নেন। আর তা নাটকীয়তা আনার প্রয়োজনেই। যেমন, বিল্বমঙ্গল রচিত ‘কৃষ্ণকর্ণামৃতম্’ গ্রন্থের যে টীকা গ্রন্থ কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচনা করেন, যদুনন্দন দাস সেই গ্রন্থকে বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। সেই গ্রন্থের প্রারম্ভে বিল্বমঙ্গল ঠাকুরের যে জীবনী উল্লেখিত হয়েছে, সেখানে চিন্তামণির কাছে বিল্বমঙ্গলের না আসার কারণ বলা আছে ভিন্ন। সেখানে বিল্বমঙ্গলের বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একদিন মাত্র চিন্তামণির কাছে অনুপস্থিতির কথা বলা আছে । কিন্তু কবিয়ালদের পালায় বিল্বমঙ্গলের না আসার কারণ হিসাবে বিল্বমঙ্গলের বাবার মৃত্যু এবং পিতৃশ্রাদ্ধের কথা বলা আছে। শুধু তাই নয়, যদুনন্দনের অনুবাদ গ্রন্থে চিন্তামণির কাছে বিল্বমঙ্গলের একদিন না আসার কথা থাকলেও, কবিয়ালদের পালায় দশ দিন না আসার কথা বলা হয়। যদুনন্দনের গ্রন্থে চিন্তামণি ও বিল্বমঙ্গলের মিলনের কোনো কথা বলা নেই। কিন্তু কবিয়ালদের পালায় মিলনগীতির প্রয়োজনে শেষে বিল্বমঙ্গল ও চিন্তামণির মিলনের মাধ্যমে বোলের পালার পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। গিরিশচন্দ্রের ‘বিল্বমঙ্গল ঠাকুর’ নাটকে অবশ্য চিন্তামণি ও বিল্বমঙ্গলের মিলন দিয়েই শেষ করা হয় ।

 

বিল্বমঙ্গল –দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম,

বৃষ্টিঝরা এই রাতে ।( বোলের  ধুয়া )

তুমি ছাড়া কে আছে মোর, মনের কথা বুঝিতে।।

ঝড়বৃষ্টি মাথায় করে,

দাঁড়াইলাম তোমার দ্বারে।

দ্বার খুলিয়া ত্বরা করে, ধর আমায় বক্ষেতে।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম …(বোলের ধুয়া )

চিন্তামণি –ঘরে আমি আছি একা,( পাঁচালির কলি )

কে বা এলো দিতে ধোকা।

আমারে কি ভাবে বোকা, যাবো ও দ্বার খুলিতে।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম …(বোলের ধুয়া )

বিল্বমঙ্গল –ত্বরা করো ও সুন্দরী,( পাঁচালির কলি )

জলে ভিজে শীতে মরি।

তুমি দ্বারে আগল মারি, ঘুমাও মনের সুখেতে।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম …(বোলের ধুয়া )

চিন্তামণি –রাতদুপুরে কিসের তরে,( পাঁচালির কলি )

এলে তুমি মোর গোচরে।

ভালো জন কি আসতে পারে, এ ঝড় জলের রাতেতে।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম …(বোলের ধুয়া )

বিল্বমঙ্গল –আমার কথা ভুলে গেলে,( পাঁচালির কলি)

জড়িয়ে কত আদর দিলে

আমার বুকে পড়তে ঢলে, মধুর মিলেনেতে।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম … (বোলের ধুয়া)

চিন্তামণি –অজ্ঞাত কুল-শীলে, ( পাঁচালির কলি )

জায়গা কি দেয় রাত্রিকালে।

পরিচয় না জেনে নিলে, হবে শেষে ঠকিতে।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম … (বোলের ধুয়া )

বিল্বমঙ্গল –আমি তোমার বিল্বমঙ্গল,( পাঁচালির কলি )

হবে না কোনো অমঙ্গল।

খোলো তোমার দ্বারের আগল, রেখো না বাহিরেতে।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম … (বোলের ধুয়া )

চিন্তামণি –আমার যে বিল্ব ঠাকুর,( পাঁচালির কলি )

গিয়েছে সে নিজের অন্তঃপুর।

বিদায় নিয়ে গেল সুদূর, দশদিনের তরেতে।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম … (বোলের ধুয়া )

পিতা তাঁর হল গত পিতৃশ্রাদ্ধ সেরে।( পয়ার )

পরের দিন আমার কাছে আসিবে সে ফিরে।।

আজ বোধহয় দশদিন পূরণ বুঝি হল।

কেমন করে আসবে ফিরে সন্দেহ জাগিল।।

বিল্বমঙ্গলের নাম ভাঁড়িয়ে করতে চাও ছলনা।

আমায় নিয়ে ফুর্তি করতে এই মনের বাসনা।।

বিল্বমঙ্গল –কেন কষ্ট দাও আমারে,( পাঁচালির কলি )

দেখো তুমি একটি বারে।

হারিয়েছি নিজের স্ত্রী’রে, তোমার ভালোবাসাতে।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম … (বোলের ধুয়া )

চিন্তামণি –তুমি যেদিন গেলে চলে,

কিবা দিলে হাতে তুলে।

সেকথাটি জানাও বলে, পারবো তোমায় চিনিতে।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম … (বোলের ধুয়া )

বিল্বমঙ্গল –তোমায় পেয়ে সব ছেড়েছি, বসতো না মন ঘরে। ( পয়ার )

তোমার জন্য সবকিছু দিয়েছি ত্যাগ করে।।

তোমার ভালোবাসা পেয়ে ধন্য এ জীবনের আশ।

যাবার সময় কিবা দিলাম আমি তোমার পাশ।।

তোমায় সেদিন চিন্তামণি ধরে বক্ষ পরে।

বলেছিলেম মদনমোহন রাখো তোমার ঘরে।।

মদনমোহন শিলামূর্তি করিবে পূজন।

সেই শিলা নিয়ে তোমায় করিলাম অর্পণ।।

চিন্তামণি –ক্ষমা করো বিল্বমঙ্গল চিনতে পারি নাই । ( পয়ার )

জলে ভিজে কষ্ট পেলে আসি মোর ঠাঁই ।।

দরজা দিলাম খুলে এবার এসো মোর ঘরে ।

এই বলে আকর্ষিলাম যেই হাত ধরে ।।

আগে পচা পচা গন্ধ বমি চলে আসে ।

কি কারণে হেন দশা বলো মোর পাশে ।।

বাহিরেতে উঁচুপ্রাচীর পার হলে কেমনে ।

অন্ধকারে ভয় কি তোমার ছিল না পরাণে ।।

বিল্বমঙ্গল – আমি যদি রাতে ফিরি,( পাঁচালির কলি )

তাই প্রাচীরে রাখলে দড়ি।

আমি সেই দড়ি ধরি, প্রাচীর পার হইতে।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম … (বোলের ধুয়া )

চিন্তামণি –এ কথা কি বলছো তুমি, ( পাঁচালির কলি )

কখন দড়ি রাখলাম আমি।

চলো দেখি বাইরে নামি, ঐ প্রাচীরের ধারেতে।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম … (বোলের ধুয়া )

বিল্বমঙ্গল – বিশ্বাস না পরে, চলো ঐ প্রাচীরধারে ।  ( পয়ার )

না দেখিলে বিশ্বাস করবে কেমন করে।।

চিন্তামণি –চলো দেখি কোনখানেতে রাখিলাম দড়ি। ( পয়ার )

দড়ি ধরি কেমন করি, দিলে প্রাচীর পাড়ি।।

বিল্বমঙ্গল – ঐ দেখো দড়ি আছে ঝুলন্ত অবস্থায় । ( পয়ার )

চিন্তামণি –দড়ি নয় এ তো দেখি সাপের লেজ হয় ।।

বিল্বমঙ্গল –তোমার চিন্তায় ছিলাম মগ্ন না বুঝিতে পারি । ( পয়ার )

প্রাচীর পার হবার কালে ভেবে ছিলাম দড়ি।।

চিন্তামণি –তোমার কথা শুনে মনে জাগলো বিস্ময় । ( পয়ার )

ভালোবাসা বাসি হলে এমন কি হয়।।

ও সব কথা পড়ে হবে, ( পাঁচালির কলি )

নদীর ধারে চলো তবে।

পাড় হলে কেমন ভাবে, দেখবো নিজের চোখেতে।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম … (বোলের ধুয়া )

বিল্বমঙ্গল –চিন্তার হাতে আছে মশাল অন্ধকারের আলো। ( পয়ার )

দ্রুতপদে নদীর ধারে যাওয়া মোদের হল ।।

ঐ দেখো গাছের গুড়ি পাড়ে আছে তোলা ।

গুড়িটাকে পার হইতে করেছিলাম ভেলা ।।

চিন্তামণি – কোথা গুড়ি, এ তো দেখি, মেয়েমানুষ মরা। ( পয়ার )

বিল্বমঙ্গল –কাঠের গুড়ি ভেবে মড়া হয়েছিল ধরা ।।

চিন্তামণি –আমার চেয়েও সুন্দরী ঐ নারী ছিল ।  ( পয়ার )

বিল্বমঙ্গল –ভালো করে চিন্তা তুমি দেখাও মশাল আলো ।।

চিন্তামণি – জানিনা এ হতভাগী মরে কিসের তরে। ( পয়ার )

বিল্বমঙ্গল – এ যে দেখি আমার বউ চেনো না’কো তারে ।।

চিন্তামণি – এমন বউ থাকতে ঘরে পরনারীতে মন । ( পয়ার )

বুঝি না পুরুষ জাতির ধর্ম এ কেমন ।।

বিল্বমঙ্গল – আমি যেদিন ফিরি বাড়ি আগে নয়নতারা ।  ( পয়ার )

মনের দুখে আমায় ছেড়ে হল বাড়ি ছাড়া ।।

চিন্তামণি – নারী জাতি নিজ পতি পারে কি ছাড়িতে । ( পয়ার )

অন্য নারী আসক্তিতে জ্বলে সে মনেতে ।।

বিল্বমঙ্গল – উপেক্ষা করেছি তারে নাহি পেলো সুখ ।  ( পয়ার )

নারী হয়ে জন্ম নিয়ে কেবল পেলো দুখ ।।

চিন্তামণি – ঘর-বর সব ছেড়েছে তোমার ঘরের নারী । ( পয়ার )

তোমার মতো পাষণ্ড নাহি কভু হেরি ।।

বিল্বমঙ্গল – সংসারে আমার বলতে এখন কেহ নাই। ( পয়ার )

দয়া করে হেন বাক্য বোলো না আমায় ।।

চিন্তামণি – যার চিন্তা সদা করো এমনি কি সে রবে। ( পয়ার )

রূপ-যৌবন সদাহাস্য সেও একদিন যাবে।।

এই চিন্তায় চিন্তামগ্ন রও তুমি সর্বক্ষণ।

এই চিন্তামণি খুঁজে দেখো শ্যাম জনার্দন।।

আমায় যেমন ভালোবেসে চিন্ত মনে মনে।

তেমনি ভালোবেসে চিন্ত মদনমোহনে।।

বংশীধারী রাধা পিয়ারী তোমায় দেখা দেবে।

মহাপাপ হতে উদ্ধার তুমি সেদিন হবে।।

বিল্বমঙ্গল – তোমায় আমি করে গুরু, ( পাঁচালির কলি )

করবো পথ চলা শুরু।

হেরি কৃষ্ণে কল্পতরু, জুড়াবো জীবনেতে ।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম … (বোলের ধুয়া )

চিন্তামণি – বলে রাখি তোমায় সখা,

যদি কৃষ্ণ, পাও হে দেখা।

আমায় দেখাবে ত্রিভঙ্গ বাঁকা, দেখবো নিজ চক্ষেতে।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম … (বোলের ধুয়া )

বিল্বমঙ্গল – চিন্তা তুমি আমার চোখে অঙ্গুলি দিয়ে । ( পয়ার )

মনের কত পরিবর্তন দিয়েছ ঘটিয়ে।।

অনিত্য এ দেহ থাকবে কতক্ষণ।

একদিন অবশ্যই হইবে যে পতন ।।

বুঝিলাম এ জগতে কেহ কারও নয় ।

দু’দিনের আসা-যাওয়া পথে পরিচয় ।।

মরার পরে সঙ্গে আমার কেহ নাহি যাবে ।

একমাত্র কর্মফল সঙ্গেতে রবে ।।

ফলদাতা ভগবান আমি তারে ছেড়ে ।

সারাজীবন আবর্জনার স্তুপে রইলাম পড়ে ।।

চিন্তামণি – কৃষ্ণনাম ছাড়া জীবের কোনো গতি নাই ।  ( পয়ার )

হা কৃষ্ণ বলে বিল্ব রাস্তায় দাঁড়ায় ।।

বিল্বমঙ্গল – আর কেন দাঁড়াইব সময় চলে যায় ।  ( পয়ার )

কতদিনে দেখা পাবো জীবন-কানাই।।

চিন্তামণি –চলিল সে অনির্দেশে করি কৃষ্ণনাম।

মনের ইচ্ছা কবে, যাবে বৃন্দাবন ধাম।।

বিল্বমঙ্গল – একদিন দুপুরবেলা চলিতে চলিতে।

সরোবর পাড়ে বাগান পাইলাম দেখিতে।।

বিশ্রামের তরে বসি এক বৃক্ষতলের পরে ।

দেখি এক সুন্দরী স্নান করে সরোবরে ।।

গায়ের বসন খুলে একাকী স্নান করে ।

সর্বশরীর আমার যেন আগুনেতে পোড়ে ।।

স্নান সেরে ধীরে ধীরে নারী যায় চলে ।

অবশ অঙ্গ মোর যায় তারই মহলে ।।

গৃহস্বামী আমায় দেখে করে আহ্বান ।

দেখো ওগো অতিথি রূপে এলো ভগবান ।।

গৃহস্বামী বলে বউ আমার কথা ধর ।

অতিথিরূপে ভগবানের পদসেবা কর ।।

স্বামীর কথায় সুন্দরী করে মোর সেবা ।

উচিত নয় এ নারীকে কামিনী যে ভাবা ।।

অধম আমি পামর আমি মহাপাপী ঘোর ।

নীচ স্বভাব নীচ মন গেলো নাকো মোর ।।

নয়ন মোর হল বাদী রাখবো না নয়ন ।

নয়ন থাকিলে আবার হইবে পতন ।।

এসব কথা ভাবী আমি বলিলাম জননী ।

দাও মোরে তোমার মাথার কাঁটাখানি ।।

কোনো কিছু জিজ্ঞাসা মোরে নাহি করে ।

মাথার কাঁটাখানি দিল আমার ডান করে ।।

সেই কাঁটা দিয়ে আমি নয়নে বসাই ।

নয়ন আমার অন্ধ হল, রক্তে ভেসে যায় ।।

ছুটে আমি ঘর থেকে বাহিরেতে এলাম ।

বৃন্দাবনের পথে চলিতে লাগিলাম ।।

হা কৃষ্ণ বলে আমি লোকের দ্বারে দ্বারে ।

ভিক্ষা করি পেটের ক্ষুধা দূর করার তরে ।।

এইভাবে তিনমাস পথে চলি আমি ।

দেখা দাও বলে ডাকি ওহে জগৎস্বামী ।।

চলি না পারি পথে, দেখে না নয়ন ।

ছুটে এসে হাত ধরে বালক একজন ।।

উঠো উঠো বলে আমায় হাতদুটো ধরে ।

কোথায় যাইবে তুমি জিজ্ঞাসা যে করে ।।

আমি বলি যেথা গেলে পাবো দরশন ।

যেথা মোর আছে প্রভু শ্যাম জনার্দন ।।

বালক বলে তোমার তো দৃষ্টিশক্তি নাই ।

কেমনে দেখিবে তারে বলতো আমায় ।।

তবে কি মনের বাঞ্ছা হবে না পূরণ ।

কেন তবে ছুটে এলাম আমি বৃন্দাবন ।।

ধূলায় পড়ি আমি দেখো গড়াগড়ি যাই ।

কৃষ্ণ বলে চোখের জলে বক্ষ ভাসাই ।।

বালক আমায় ধুলা ঝেড়ে বলে প্রবোধবাণী ।

অন্তরে জপিলে নাম দেখা পাবে তুমি ।।

এই বলে নয়নে মোর হাতটি বুলায় ।

সম্মুখে ঘনশ্যাম মোরে দেখা দেয় ।।

চিন্তামণি – বিল্বমঙ্গল যেদিন পথে বেরিয়ে যে গেল ।

সব যেন বিষময় আমার বোধ হল ।।

সংসার ছেড়ে দিয়ে আমি পথে দিলাম পাড়ি ।

মরতে যদি হয় তবে বৃন্দাবনেই  মরি ।।

বহু পথ পার হয়ে এলাম বৃন্দাবনে ।

পথে পথে কৃষ্ণনাম গাহি একমনে ।।

বিল্বমঙ্গল – পরিচিত গানের সুরে, (ভাবিলাম )বুঝি চিন্তা এলো ।

চিন্তামণি আমি হেথায় ডাক দিলাম ভালো ।।

চিন্তামণি – কে ডাকে ডাকে বলে চাহি ফিরে ফিরে ।

দেখি বিল্বঠাকুর এ যে, পথে আছে পড়ে ।।

ছুটে গিয়ে ধুলা হতে হাত ধরে তুলি ।

তুমি কি পেয়েছ বলো শ্যাম বনমালী ।।

বিল্বমঙ্গল – জনার্দন বনমালী দাঁড়ায়ে সম্মুখে ।

তুমি দেখিবারে পাওনি কি তাকে ।।

চিন্তামণি – কই কোথায় তোমার শ্যাম জনার্দন ।

পতিত বলিয়া আমায় দেবে না দর্শন ।।

বিল্বমঙ্গল – আমার কাছে এসো তুমি তোমারে দেখাই ।

এই দেখো বলে হাত দিলাম চিন্তার গায় ।।

চিন্তামণি – বহু ভাগ্য ফলে তুমি দেখিতে যে পেলে ।

তোমার করস্পর্শ দিয়ে আমারে দেখালে ।।

আমাদের মনবাঞ্ছা পূর্ণ এখন হল ।

বৃন্দাবনেই বাস করবো আমার সাথে চলো ।।

ভিক্ষা করে বাড়ি বাড়ি আমরা দু’টি জনে ।

সেবা দিয়ে জনার্দনে থাকবো সুখমনে ।।

বিল্বমঙ্গল – বোলের গান দিলাম ছাড়ি,

বলুন সবে হরি হরি ।

শোকের দিনেও হয় কাণ্ডারি, ভবনদী তরাতে ।।

দুটো মিষ্টি কথা কইতে এলাম, বৃষ্টিঝরা এই রাতে ।

বোল অর্থে বুলি বা কথা। সংগীত বা নৃত্যশাস্ত্রে বোল হল কথা বা ধ্বনিগত প্রতীক, যা মূলত বিধিবদ্ধ থাকে। শিক্ষার্থীর প্রাথমিক শিক্ষনে সেই ধ্বনিগত প্রতীক বা বোল দিয়েই নৃত্যের প্রত্যেকটি মুদ্রা অথবা তবলা বা ঢোলের বিশেষ তালগুলিকে চিহ্নিত করা হয়। কবিগানের বোল অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন বস্তু। দু’জন কবিওয়ালার কথার জোড়াগাথা দিয়েই তৈরি হয় এক-একটি বোলের পালা। বোল-কাটাকাটি নামের কারণ বিভিন্ন কবিয়াল বিভিন্ন রকম ভাবে বোঝাতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মূল কথাটি হল বোল বা কথা কেটে (কথার মধ্যমে গান) নিজের কথা বা গানকে প্রতিষ্ঠা করার এক চমকপ্রদ গানের খেলা হল – বোল-কাটাকাটি। একজন কবিয়ালেরবোলের প্রশ্ন অথবা যুক্তিকে খন্ডন করে নিজের যুক্তিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে কবিয়ালরা বিশেষভাবে ব্যস্ত থাকেন। আর তার জন্য কবিয়ালদের দরকার হয় নিখুঁত যুক্তি ও কবিয়ালের প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব। বোল-কাটাকাটিকে রাঢ়ের কবিগানে ‘মিলনগীতি’ও বলা হয় । দুই কবিয়ালের মিলনের জন্য গীত, তাই নাম ‘মিলনগীতি’। আসলে কবিগানের সব পালাতে মিলনান্তক পরিসমাপ্তি থাকে না। বেশির ভাগ কবিগানের পালাই হয় বিয়োগান্ত। কেননা কবিগানের পালা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই সমস্ত ঘটনাগুলিকেই জোর দেওয়া হয়, যেখানে দুই প্রতিপক্ষ চরিত্রের মধ্যে রয়েছে প্রবল ঘাত-প্রতিঘাত বা দ্বন্দ্ব-সংঘাত। এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্যমে নাটকীয়তা সঞ্চার হয় বলেই কবিগান মানুষের উপাদেয়। কবিয়ালরা নিজের নিজের চরিত্রকে কখনই খাটো বা হেয় প্রতিপন্ন করতে চায় না। নিজের চরিত্রকে মহিমান্বিত করতে গিয়ে কবিগানের মূল পালা রয়ে যায় অমীমাংসিত। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে প্রবল ঘাত-প্রতিঘাত ও উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে কবিয়ালদের সঙ্গেসঙ্গেদর্শক-শ্রোতাও কোথায় যেন একঘেয়েমি অনুভব করেন। ঠিক এই কারণে কবিগানের পালা যাই হোক না কেন, শেষে মিলনান্তক পরিসমাপ্তি দিয়ে কবিগান শেষ করে কবিয়ালরা যেন ট্রাজিক রিলিফ সঞ্চার করতে চান এই বোল গান বা মিলনগীতি দিয়ে। আরএখানেরবোলগানবামিলনগীতিরসার্থকতা। তথ্যসূত্র ঃ 

১) ‘কৃষ্ণকর্ণামৃতম্’, বিল্বমঙ্গল, অনুবাদ যদুনন্দন ঠাকুর, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা প্রকাশিত, মুর্শিদাবাদ, ১২৯৭ সন, ভূমিকা অংশ ।

২) ‘বিল্বমঙ্গল ঠাকুর’, গিরীশচন্দ্র ঘোষ, গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, ১৩৩১, পাতা-১০৩

৩) ব্যক্তিগত সংগ্রহ, সমগ্র বোলের পালাটি কবিয়াল অজিত কর্মকারের নিজের রচনা । তাঁরই গানের খাতা থেকে প্রাপ্ত । কোশীগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান । ফাল্গুন

AIbEiAIAAABDCJTgl9Ojx_jtGCILdmNhcmRfcGhvdG8qKGQ3MWJiZTg3YTczNjE0ZGQ1ZDZlZGE0ZDMwOTI5MGJmYjI5NGYzZDcwAQ4dmGZrGKR1gK8TN_zSv5evEqvr

লেখক পরিচিতি

ড. সুবীর ঘোষ

শিক্ষক – পুরুলিয়ামহেন্দ্রবিদ্যাপীঠ (উচ্চ)

গবেষক (Ph.D) – বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *