==মামারবাড়ি== সুজাতা মণ্ডল

2016 - 120161127_135156

মাথা না থাকলে মাথা ব্যথা হয়না আচ্ছা মামা না থাকলে কি মামার বাড়ির আবদার থাকে?
মামার বাড়ি মানে শৈশবকাল, মামার বাড়ি মানে আদোর, মামার বাড়ি মানে অযাচিত আবাদার আর তা পূরণ। অনেক ছোট বেলা থেকেই বিশেষ করে গরমের ছুটিতে মার সাথে মামার বাড়ি যেতাম। আদতে মামার বাড়ি হলেও ওটা আমার মেজো মামার বাড়ি। মেজো মামার কাছেই আমার ছিলো মামার বাড়ির আবদার। তার অন্যতম ছিলো গল্প শোনা। খুব ছোটোবেলায় রুপকথা দিয়ে শুরু হয়েছিলো যে গল্প কৈশোর গড়াতে না গড়তেই কখন যেনো সেই গল্প হয়েছিলো দেশ বিদেশের বিপ্লবের চরিত্রদের নিয়ে। প্রতিবাদী  সত্ত্বার জন্ম বোধহয় আমার মধ্যে তবে থেকেই। মামাই হাত ধরে চিনিয়েছিলেন রামায়ণ মহাভারতের চরিত্রদের। শুধু তাই নয় সেই সকল চরিত্রদের বাস্তব ভিত্তিক বিশ্লেষণও করতেন। নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুরীর নাম পরিচয় ও তার লেখা চেনালেন। মামাই শিখেয়েছিলেন মহাভারতের যুদ্ধ আসলে রাজরক্তের সাথে দাস রক্তের লড়াই। রাবণেরও অন্যরুপ আছে ভগবান চির পূজ্য কিন্তু গুণ রাবণেরও কিছু কম নয় তার দোষ কালকের জন্য কাজ ফেলে রাখা কালে কালেই ধরেছিলো তাকে।
পশ্চিমবঙ্গের অস্থির সময়ে রাজনীতিতে, বামরাজনীতিতে ভালোবেসে মামা প্রবেশ করেছিলেন। সারাটা জীবন আদর্শ নিয়ে মাথা উঁচু করে বেঁচে ছিলেন। প্রাইভেট ফার্মে চাকরি আর সমাজ সংশোধনে একটা মানুষ জীবন পাত করলেন।
আমার মামার বাড়িটি প্রকৃতির অপূর্ব রুপ নিয়ে যেনো তৈরী। বারতি পাওনা হিসাবে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ইচ্ছামতী নদী। কতদিন (যখন যেতাম মামার বাড়ি) ঐ নদীটির তীরে দাঁড়িয়ে মনে মনে ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। বয়েসের ভিন্নতায় সে ইচ্ছার রকম ফেরো হয়েছে তবে মনের দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো ইচ্ছাগুলো পূরণ হবেই। বলা বাহুল্য ক্ষেত্র বিশেষ কয়েকটা ইচ্ছা পূরণ হয়েওছে। 24/11/2016 তারিখে বসিরহাট মহকুমা হাসপাতাল থেকে ফিরে টাকিতে মামারবাড়ি যাওয়ার আগে মুহূর্তে একবার থমকে দাঁড়ালাম নদীর
ধারে। তার চারপাশেও কেমন আধুনিকতার ছোঁয়া। কেমন যেন মনটা আরও বেশী খারাপ হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ আগেই দেখে এলাম আদর্শকে সাথে নিয়ে আমার মামা নিঃস্ব হয়ে অথবা সবকিছু জয় করে রাজার মতো শুয়ে আছেন। কেমন যেনো আমার শৈশবটাও ভেঙচি কাটছে আমার অসহায়োতায়। ইচ্ছামতীর সেই গ্রাম্য সরলতা চোখে পরলোনা। তবু দূর্বল মানুষের একমাত্র সম্বল বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসেই ভর করে প্রার্থনা করলাম আমার মামাকে ভালো করে দাও। ইচ্ছারাও আজ দামে পূরণ হয় ইচ্ছাপূরণের ওতো অর্থতো আমার নেই। তাই আমার ইচ্ছা পূরণ করলোনা সে। গতকাল রাত্রে (28/11/16) আমার মামা মারা গেছেন। কমরেড শম্ভুনাথ দাস তোমার মৃতদেহের ওপর চাপানো ঐ কাস্তে হাতুরী তারার পতাকা যেনো বলছে তুমি ছিলে শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনীধি। বিপ্লবীদের শ্রমজীবী মানুষের পরিণতী এই একটা সময়ের পর শুধুই নিঃস্বতা। শুধু থেকে যায় সততার অহঙ্কার। শ্রেণী বৈষম্য না থাকার লড়াই এর নাম করে একশ্রেণী রীতিমতো অর্থের প্রসাদ গড়ে। সমাজতন্ত্র তাদের কাছে পুঁজি উপার্জনের ঢাল।
কমরেড শম্ভুনাথ দাস তুমি আপনজনের ভালোবাসায় চিরকাল থাকবে।
AIbEiAIAAABDCNS546auuqOfXSILdmNhcmRfcGhvdG8qKGJlNjIxZDFjMDhlNzI0NTA3ZjUzYjczZmEwY2Q4ODc4YTk5OThkODIwAZysZUvWdCMmHMbpImch9e2zYBc3

সুজাতা মণ্ডল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *