মন্দির ও ধর্মগ্রন্থের মত প্রকৃতির রহস্যেও ধর্মের অস্তিত্ব লুকিয়ে রয়েছে- সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

download (1)যে পুজার বেদী রক্তে গিয়েছে ভেসে
ভাঙো ভাঙো আজ ভাঙো তারে নিঃশেষে।

রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন, মন্দির ও ধর্মগ্রন্থের মত প্রকৃতির রহস্যেও ধর্মের অস্তিত্ব লুকিয়ে রয়েছে। সেই ঐশী শক্তির কাছে আত্মসমর্পণের আনন্দের কথা কবি বলে গেছেন। মিথ্যাচার আর ভন্ডামির আড়ালে ধর্মকে যারা হাটে বাজারে নিলাম করছে তাদের বিরুদ্ধে কবিগুরু লেখনি তরোয়ালের রুপ নিয়েছিল প্রায় ১৫০ বছর আগেই তবু অভাগা দেশে প্রকৃত ঞ্জানের আলো জ্বললো কই?

আমাদের বাঙালীদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রবীন্দ্রনাথ। সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, রাজনীতি, প্রেম প্রতিবাদ সবেতেই তার পবিত্র পরশ। তবু কেন জানি না মনে পরে কবি বিষ্ণু দে র কবিতার লাইনটি

“তুমি কি কেবল ই স্মৃতি শুধু এক উপলক্ষ্য কবি
হরেক উৎসবে হৈ হৈ মঞ্চে মঞ্চে কেবল ই কি ছবি”
আমাদের মননে রবীন্দ্রনাথ চিন্তনে রবীন্দ্রনাথ তবু তার আদর্শ সেভাবে তো আমরা অনুসরণ করিনা। আজীবন তার দানে বাংলা সঙ্গীত সাহিত্য ভান্ডার রত্নমন্ডিত।
মাত্র ১২ বছর বয়স শুরু করলেন যাত্রা ঘরের গণ্ডীর মধ্যে আবদ্ধ থেকে ও যার প্রাণ সদা উন্মুক্ত, যার অবিশ্রান্ত পরিশ্রম সাহিত্যের আণাচে কাণাচে ছড়িয়ে আছে সেই মানুষটিকে নিয়ে লেখা সত্যি বড় কষ্ট সাধ্য ব্যাপার।  কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭ তম জন্ম দিবসে তার প্রতি ভালবাসা, সম্মান অর্পণ করলাম। বাংলা সাহিত্যের  উচ্চতম শৃঙ্গটি নির্মাণ করেছেন বিশ্ব বরেণ্য কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ। আধুনিক সাহিত্যের পথ প্রদর্শক তিনি। ছোটবেলা থেকেই তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মেধার পরিচয় হতে পারেনা।  শিক্ষা রয়েছে সমাজের প্রতিটি পাতায়।

সেই কোন ছোটবেলায় কিশলয় বইতে প্রথম চিনলাম ভালো করে। “রবির প্রথম রেল গাড়িতে চড়া”।ঠাকুরবাড়ি সম্পর্কে শৈশবের বর্ণানায় কবি বলেছেন  – রাত বাড়লেই ঠাকুরবাড়ি কার্ণিশের আড়াল থেকে মনে হত নেমে এল ব্যেম্মদত্যিরা অথবা জলপড়ে পাতা নড়ে কিমবা ঐখানে মা পুকুরপাড়ে। ছোট থেকে বড় সব বয়সীদের মন ছুঁয়ে যাওয়া লেখা রবীন্দ্রসাহিত্য। ঠাকুরবাড়ির আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল আভিজাত্য, অর্থ, অপবাদ, অহমিকা আর অবৈধ-প্রেম। এসব কিছুতেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন সাহিত্য সম্পদ। তাই তার প্রিয় বৌঠান
-কাদ্মবরী দেবীকে নিয়ে লিখেছেন “‌শুধু মনের মধ্যে জেগে আছে ঐ নয়নের তারা।” তার কথায় “বৌঠানের চোখদুটি যে ভুলতে পারিনি কোনদিন।”
“আমার ভিতরে বাহিরে অন্তরে অন্তরে”,আপামর বাঙালির সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সমস্ত অনুভূতির সাথে জড়িয়ে আছে রবীন্দ্র সাহিত্য।আজ ও আমাদের রবীন্দ্র সাহিত্য গহ্বরে নিয়ে যায় বারে বারে । বৈশাখের এই প্রচণ্ড দাবদাহে যখন চারিদিক অতিষ্ঠ তখন সূর্যদয়ের প্রথম আভা আমায় স্মরণ করিয়ে দেয় বৈশাখে “রবি” ঠাকুরের জন্ম দিবস ২৫ শে বৈশাখ। কেন জানি না তখন একটাই গান শুধু মনে আসে বারংবার – “হে নূতন দেখা দিক বার বার জন্মের ও প্রথম ও শুভক্ষণ”।
এক জন গুরুদেবের কথায় “গুরু সকলে হতে পারে না, যিনি ভক্তের কষ্ট নিজে নিয়ে ভক্তকে নির্মল আনন্দ দেন তিনিই গুরুদেব।” সত্য ই তিনি গুরুদেব, কবি গুরু।ছোটবেলায় বীরপুরুষ দিয়ে শুরু করেছিলাম, কৈশোরে অমিত যাকে ছেরে এল কালের যাত্রা পথে “সে আমার প্রেম”, কতদিন স্বপনে “রঞ্জন” কে খুঁজেছি সেজেছি রক্তকরবীতে বলেছি “আমার কিসে ব্যথা যদি জানতেম”, আজ তো প্রতিক্ষণে পথ চলা “ চিত্ত যেথা ভয় শূন্য উচ্চ যেথা শির, জ্ঞান যেথা মুক্ত যেথা গৃহের প্রাচীর”।
শান্তিনিকেতনের নিবড় ছায়ায় জন্ম নিয়েছেন কত গুণীজন সব কবিগুরুর কৃপায়। তিনি নিজেও জানতেন তাইতো ভবিষ্যৎদ্রষ্টা স্রষ্টা লিখে গেছেন

“ আজি হতে শতবর্ষ-পরে কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতুহল ভরে— আজি হতে শতবর্ষ-পরে”।
জন্মদিনে গুরুদেবকে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম।

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *