ভারতের ‘পিকাসো মকবুল ফিদা হুসেনে’র আজ জন্মদিন।

imageভারতের পিকাসো খ্যাত অন্যতম সেরা শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের আজ জন্মদিন। সমকালীন শিল্পীদের থেকে তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র।স্পেনের শিল্পী পাবলো পিকাসোর শিল্পশৈলী ‘কিউবিজম’কে ভারতীয় শিল্প ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলন ঘটিয়ে বৈচিত্র এনেছিলেন।মকবুল ফিদা হুসেন ছিলেন একাধারে কবি, ভাস্কর, বাড়ির নকশাকার এবং চিত্রনির্মাতা।১৯১৫ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর পরাধীন ভারতে বম্বে প্রেসিডেন্সি এলাকায় তিন জন্মগ্রহন করেন।

ইন্দরের এক কাপড়ের কলের শ্রমিকের ছেলেকে খ্যাতির শীর্ষ সীমায় পৌছতে অনেক জীবন সংগ্রাম করতে হয়েছিল। আঁকার সরঞ্জাম কিনতে ও নিজের পেট চালাতে তাকে সিনেমার পোষ্টার আঁকা থেকে শুরু করে সাইনবোর্ড পর্যন্ত লিখতে হয়েছিল।বম্বের গ্রান্ট রোডে একটা গ্যারেজে দীর্ঘদিন অবধি তার আঁকার স্টুডিও ছিল।হুসেনের অসংখ্য চিত্রকলার ভেতর উল্লেখযোগ্য হোল—‘বিটুইন দ্য স্পাইডার অ্যান্ড দ্য ল্যাম্প’,‘বীণা পেস্নয়ার’,‘গণেশ’,‘মাদার তেরেসা’,‘মাদার ইন্ডিয়া’,‘দ্য ওরামা’ ইত্যাদি।

শিল্পী হিসাবে মকবুল ফিদা হুসেন বহু স্বীকৃতি পেয়েছেন- ১৯৫৫ সালে তিনি ‘পদ্মশ্রী’ পদক লাভ করেন । ১৯৭১ সালে পাবলো পিকাসোর সঙ্গে সাওপাওলো সম্মেলনে অংশ নেন। ১৯৭৩ সালে লাভ করেন ‘পদ্মভূষণ’ আর ১৯৯১ সালে তাঁকে সম্মানিত করা হয় ‘পদ্মবিভূষণ’ দিয়ে।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শিল্পী নিজের দেশের কাছ থেকে সন্মান পান নি। যে দেশপ্রেমিক শিল্পী আধুনিক শিল্পকলার জগতে ভারতের নাম স্বর্ণাক্ষরে খচিত করেছিলেন, তাকেই কিনা মৃত্যুবরণ করতে হলো স্বদেশর মাটি ছেড়ে বহু দূরে প্রবাসে। শিল্পী হিসেবে এটা তাঁর যতটা দূর্ভাগ্য তার চেয়ে বেশী লজ্জা ভারতের। তবে মকবুল ফিদা হুসেনরা মরেন না, মরতে পারেন না। কারণ তাঁদের মৃত্যু হলে থেমে যাবে সভ্যতার চাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *