ভারতীয় শিল্পে নবজাগরনের কাণ্ডারি- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

AbanindranathTagoreE ‘আপন কথা’, ‘জোড়াসাঁকোর ধারে’, ‘ঘরোয়া’- এই তিনখানি বই পড়লে, শিল্পী অবনীন্দ্রনাথকে অনেকটা জানতে পারা যায়। রবীন্দ্রনাথের ‘জীবনস্মৃতি’ ও অবনীন্দ্রনাথের ‘আপন কথা’ এই দুটি বইয়ের মাধ্যমে তখনকার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের ছেলে মেয়েদের শৈশব ও  পরিবেশ সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ধারণা করা যায়।

শৈশবে, বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন, দাসদাসী পরিবৃত অবনীন্দ্রনাথকে কল্পনাপ্রবণ ও অন্তর্মুখী করে তুলেছিল। প্রদীপের আলোয় পদ্মদাসী, চাঁদের আলো, আলো অন্ধকারে ঢাকা ঘর বারান্দা, বিচিত্র আকারের আসবাবপত্র, বাবার লাল রঙের চটি জুতো, কর্মততপর দাসদাসীর বিচিত্র গতিভঙ্গী ইত্যাদির স্মৃতি পরবর্তীকালে সার্থক রুপ পেয়েছিল শিল্পে ও সাহিত্য রচনাতে।

অবনীন্দ্রনাথের প্রথম শিক্ষক গিলার্ডি ছিলেন তখনকার আর্ট স্কুলের অন্যতম শিক্ষক। শিল্পী গিলার্ডির কাছে অবনীন্দ্রনাথ বিশেষভাবে প্যাস্টেল ড্রয়িং, ওয়াটার কালার ড্রয়িং শিখেছিলেন। গিলার্ডির কাছে শিক্ষা শেষ করে অবনীন্দ্রনাথ তাঁর দ্বিতীয় শিক্ষক পামারের কাছে লাইফ স্টাডি, অয়েল পেন্টিং ইত্যাদি শেখেন। অবনীন্দ্রনাথ যে সময়ে রীতিমত বিলাতী পদ্ধতিতে শিল্পচর্চা করেছিলেন কিন্তু দেশী ছবির আদর্শে ছবি আঁকতে বেশি উতসাহ পেতেন। দেশী আদর্শে অবনীন্দ্রনাথের প্রথম রচনা কৃষ্ণলীলা চিত্রাবলী। এই চিত্রাবলী দেখে শিক্ষক পামার  অবনীন্দ্রনাথকে বিলাতী পদ্ধতির বদলে নিজের আবিষ্কৃত পথই অনুসরণ করতে উপদেশ দেন।

অবনীন্দ্রনাথের শিল্পরীতির শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত ওমর খৈয়মের চিত্রাবলী, সাহাজাদপুর দৃশ্যাবলী, আরব্য আখ্যান, চণ্ডীর ছবি। অন্য দিকে তাঁর হাতের তৈরি কাটুম কুটুম খেলনা বিমূর্ত শিল্পসৃষ্টির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।।

বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন এই শিল্পী সাহিত্য জগতেও উজ্জল সাক্ষর রেখে গেছেন। তার রচিত- রাজকাহিনী, শকুন্তলা, ক্ষীরের পুতুল, ভুত পত্রীর দেশ, নালক, নাহুস, বুড়ো আংলা, আপন কথা, ঘরোয়া, পথে- বিপথে, জোড়াসাঁকোর ধারে, খাজাঞ্চির খাতা ইত্যাদি।

১৯৫১সালে ৫ই ডিসেম্বর ৮০ বছর বয়সে এই মহান প্রতিভার জীবনাবসান হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *