ভারতপ্রেমিক, সংস্কৃত ভাষায় সুপ্রসিদ্ধ জার্মান পণ্ডিত ‘ম্যাক্স মুলারের’ আজ জন্মদিন।

Max-Muller-1ভারতপ্রেমী, ধর্মতত্ত্ববিদ,অনুবাদক ও সংস্কৃত ভাষায় সুপ্রসিদ্ধ জার্মান পণ্ডিত ম্যাক্স মুলারের আজ জন্মদিন।পুরো নাম ফ্রেডরিখ ম্যাক্স মুলার।১৮২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রুশিয়া সাম্রাজ্যের আনহাল্ট রাজ্যের রাজধানী ডেসাউ শহরে (বর্তমানে জার্মান) জন্মগ্রহণ করেন।ঋগ্বেদের সম্পাদনা ও ভাষ্য রচনা তার সর্বশ্রেষ্ট কীর্তি। বৈদিক সাহিত্যের বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি সারা পৃথিবীতে সমাদৃত ছিলেন।

১৮৪৪ সালে ম্যাক্স মুলারের প্রথম বই প্রকাশ হয়। এটি ছিল সংস্কৃত ভাষায় বিষ্ণু শর্মার লেখা ভারতীয় উপকথার সংগ্রহ ও বেদের শেষাংশ হিতোপদেশের জার্মান অনুবাদ।১৮৪৬ সালের জুন মাসে মুলার প্রাচীন সংস্কৃত নিয়ে কাজ করতে লন্ডনের ইস্ট ইন্ডিয়া অফিস লাইব্রেরিতে যান। ওই সময় তার ‘জার্মান লাভ’ উপন্যাসটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। প্রখ্যাত সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত হোরেস হেম্যান উইলসন প্রমুখের চেষ্টায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ম্যাক্স মুলার সম্পাদিত ‘ঋগ্বেদ’ প্রকাশের যাবতীয় ব্যয়ভার গ্রহণ করতে রাজি হয়। ১৯৫০ সালে অধ্যাপক হিসেবে অক্সফোর্ডে যোগ দেন। এর পর আমৃত্যু অক্সফোর্ডেই ছিলেন।

মুলার যোগসাধক ও ধর্মগুরু রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের চিন্তাধারা বিশেষ করে ‘বেদান্ত দর্শনের’ ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট হন। তার প্রচারিত ধর্মীয় চিন্তাধারা ও ভাবধারায় অনেকগুলো মূল্যবান প্রবন্ধ ও বই লেখেন। স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল। ১৮৯৬ সালের মে মাসে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সঙ্গে বিবেকানন্দ দ্বিতীয়বার ইংল্যান্ডে গেলে মুলার তার সঙ্গে দেখা করেন।

জীবদ্দশায় ম্যাক্স মুলার অনেক সম্মান লাভ করেন। উল্লেখযোগ্য হলো- প্রুশিয়া ও ইতালি সরকারের নাইট উপাধি এবং সুইডেন, ফ্রান্স, বাভেরিয়া ও তুরস্ক সরকারের খেতাব। ১৯৭৪ সালে ‘দ্য স্কলার এক্সট্রাঅর্ডিনারি : দ্য লাইফ অব প্রফেসর দ্য রাইট অনারেবল ফ্রেডরিক ম্যাক্স মুলার’ শিরোনামের জীবনী রচনা করেন খ্যাতনামা বাঙালি লেখক নীরদচন্দ্র চৌধুরী।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *