বড় গল্প– “কোলাজ”, লিখেছেন সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

4324044754_4904a16233_b# মৃণালকান্তি #

মৃণালকান্তি বাবুর অস্থিরতা কমছে না কিছুতেই।এটা কি হচ্ছে তার। আরতির সময় বিভোর হয়ে থাকেন। কৃষ্ণ প্রেমে আচ্ছন্ন তার মন,শরীর ও সত্ত্বা। সব কিছু।
বনেদি বাড়ির বড় ছেলে মৃণালকান্তি। জগৎবল্লভপুরের জমিদারী তাদের। সেই বৈভব না থাকলেও বনেদিয়ানা আজও আছে। ঠাকুর চাকর লৌকিকতা কুল দেবতা রাধামাধব আর তার নিত্য সেবা।
ব্যাঙ্কের ভাল চাকরি ছেড়ে দিলেন, মানে ভিআরএস নিলেন।
একদিন রাতে হঠাৎই নিজেকে আবিষ্কার করলেন নতুন ভাবে।তার মধ্যেকার পুরুষভাব উধাও। স্ত্রীর কাছে গিয়ে লজ্জার মাথা খেয়ে বললেন “আজ রাতে আমি রাধারাণি হই? তুমি এস। আমাতে উপগত হও।”
সেই শুরু, ঘেন্নায় মুখ ফিরিয়ে নিলেন স্ত্রী আশালতা। স্বামী স্ত্রী র সম্পর্ক এমনিতেই খুব একটা মধুর ছিলনা কোন কালেই তার ওপর এমন আবদারে আশালতার গা রি রি করে উঠল। বিকৃতকাম মনে করে চলে গেলেন অন্য ঘরে।
আরেকদিন আশালতা আবিষ্কার করলেন মৃণালকান্তিকে অন্যভাবে। সেদিন সকাল থেকেই তিনি কোথায় যেন কাজ আছে বলে বেরিয়েছিলেন। ফিরলেন শেষ বিকেলে। তখন নাট মন্দিরে ভক্তদের ঢল নেমেছে। বৈশাখী দ্বাদশির সান্ধ্য আরতি শুরু হয়ে গেছে। আশালতা দেবী একটু অবাক হলেন। কেননা চাকরী থেকে স্বেচ্ছা অবসর নেওয়ার পর সকাল বা সন্ধ্যা কোন সময়ই পুজাকালীন অনুপস্থিত তার স্বামী থাকেন না। এখন যেন রাধামাধবই তার ধ্যান ঞ্জান। বরাবরি ভক্ত মানুষ তিনি। তবে ইদানিং যেন ঠাকুর সেবা তার বাতিকে দাঁড়িয়েছে। বাতিক ছাড়া আর কি বা বলবেন আশালতা এটাকে? ভগবৎ সাধনায় মন থাকলে কি কেউ ঐ ভাবে নিজের স্ত্রীকে নির্লজ্জের মত নোংরা আহ্বান করে। ছিঃ।
অগ্যতা সাত পাঁচ ভেবে এক গ্লাস জল নিয়ে আশালতা ঘরে গিয়ে দেখেন পরনে ঘাগরা, পায়ে নুপুর, কাজলের টিপ পোরে মৃণালবাবু কীর্তনের তালে নাচছে। দরজা গোড়ায় কতক্ষণ স্থানুৃবৎ আশালতা দাঁড়িয়ে ছিল সে নিজেই জানে না। হুস ফিরল মৃণালকান্তির পরশে। বিকৃত নারী কন্ঠে সে বলছে ” আমার এখন রাধা ভাব চলছে আশা। আমার পরাণ সখা কৃষ্ণ হয়ে তুমি আমাকে নাও”।
# আশালতা #

ছিটকে চলে এলেন আশালতা। না, এর মাথাটা পুরোপুরি গেছে। না আর নয়। বহু সহ্য করেছে এত বছরে, সেই বিয়ের পর থেকে। আর নয়। অথচ আশালতার জীবনটাও অন্য রকম হতে পারত।
কলকাতা শহরে দামি স্কুলে পড়াশুনা করতেন আশালতা। তার বাবার নয়নের মণি। প্রথম সন্তান সে। কন্যাসন্তান হওয়ায় সর্বশ্রী ঠাকুমা সমেত বাড়ি শুদ্ধু সকলেই মুখ বেঁকিয়েছিল। শুধু তার বাবা আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিল। লক্ষ্মী এসেছে বলে সারা বাড়ি মাথায় তুলেছিল। বাস্তবিক তার জন্মের পর তার বাবার কাপরে ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠেছিল। তার বাবা হীরালাল মুখুজ্জ্যে মানুষ হিসেবে ছিলেন যেমন সৎ তেমনি আধুনিক মনের। মেয়ে হিসাবে অবহেলা কখন করেননি আশালতাকে। সে সময়কার দামি স্কুলে পড়িয়েছেন। বাজারের সেরা জিনিস গুলো আসতো আশালতার জন্য। তার পরের দু ভাই পরে পেত আগে সে। ঠাকুমা মুখ বেঁকিয়ে বলত “আদিখ্যেতা। এই মেয়েকে এত লাই দিস নি হীরা। তোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে এ ছেমরি”। বাবা পাওা দিতেন না। ঠাকুমার আশীর্বাদ এত সহজে ফলে যাবে কে জানত! বাড়ির গাড়ি করে স্কুল থেকে ফিরত। বিশ্বাসী ড্রাইভার নারাণ অসুস্থ হয়ে পরায় তার ছেলে অরুণ গাড়ী চালানোয় বহাল হল। কলেজ পড়ে, বিএ ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। বাবার চাকরী বজায় রাখতে অরুণ আশালতাকে আনা নেওয়ার কাজে বহাল হল। সুশ্রী লেখাপড়া জানা অরুণের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ল আশালতা। তারা ঘনিষ্ঠ হল। প্রেমেও পড়ল একে অপরের। বিচক্ষণ অরুণ প্রথমে আপওি করেছিল। কিন্তু মায়াবী মুখের আশা তাকে এক অপার মায়ায় বেঁধে ফেলে। বাড়িতে জানাজানি হতে প্রথমেই ঠাকুমার চিল চিৎকার তারপর ঘোষণা লেখাপড়া বন্ধ। বাবা বলেছিলেন ছেলেতো ভালো। চাকরি একটা পেলে বিয়ে দিতে আপওি কোথায়। ঠাকুমা বেঁকে বসলেন। “কি! তেলির ঘরে মুখুজ্জ্যে বাড়ির মেয়ে যাবে? শুনে রাখ হীরা এ বিয়ে দিলে তুই মাতৃহত্যার দায়ে পড়বি, আমি আত্মঘাতি হবো। সৎ ব্রাক্ষ্মণ বিধবা গিরিবালার যা কথা তাই কাজ”।
পড়াশুনা বন্ধ হয়ে গেল।তড়িঘড়ি বিয়ের কথাবার্তা পাকা হয়ে গেল জগৎবল্লভপুরের বনেদি পরিবারের ছেলে মৃণালকান্তি চক্রবর্তীর সঙ্গে।মৃনাল ভাল চাকুরে এবং সম্পওিও অনেক। বিয়ে হয়ে গেল। আসলে আশালতার কথায় স্বপ্নভঙ্গের শুরু হল তার জীবনে। শাশুড়ি মুখরা আর স্বামী উদাসীন তায় মা নেওটা। বিশাল পরিবাবের পুত্রবধু সকলের তদারকি করা। এর মাঝেই বছর দুয়েকের মাথায় ছেলে অয়নকান্তি জন্ম নিল। অয়নের জন্মের পর ওকে নিয়েই কেটে গেল জীবনটা। কিন্তু মৃণালকান্তির এহেন পরিবর্তনে আশালতার গা গুলিয়ে উঠছে। বিয়ের পর পর যখন স্বামী স্ত্রী শরীরী প্রেমে ভেসে যায় সে সময়ও মৃণালকান্তি কেমন যেন সিঁটিয়ে থাকত। নানা অজুহাতে এড়িয়ে যেত আশালতাকে। তাতে অবশ্য আশালতার আক্ষেপ নেই। অরুণকে আজও ভুলতে পারেনি আশালতা। সে নিজেও স্বামীর সাথে বেশী মেলামেশা চায়নি। শাশুড়ির গঞ্জনা নীরবে মেনে নিয়েছে। আর বাপের বাড়ির দরজা সে নিজের হাতেই বন্ধ করে দিয়ে এসেছে। শুধু বাবার জন্য মনটা আজও………ডুকরে কেঁদে ওঠে। “মা” ডাকে চমকে তাকাল। তার মাথায় হাত বোলাচ্ছে তার পুত্রবধু অনামিকা। আর পারলনা অনামিকার কোলে মাথা গুঁজে কান্নায় ভেঙে পড়ল। লজ্জা, অভিমান, অপমান, অপবাদ চোখের জলের ধারায় বয়ে গেল। অনামিকাও তাকে কোলে নিয়ে বসে রইল।

# অনামিকা # 
রাত নটা বাজে এইমাত্র সে তার শাশুড়ি মাকে  ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে এল।অনামিকা আজ খুব অবাক। অমন ব্যক্তিত্বময়ী  শাশুড়িমা আজ বাচ্চা মেয়েটির মত যেন তাকে আঁকরে ধরতে চাইছিল। কার কিসে ব্যথা কে জানে? প্রতিটি দাম্পত্যই কি অজানা ব্যথার রহস্যে গাঁথা? নিশ্চই তাই। তার আর অয়নের দাম্পত্য টা তো অবশ্যই তাই। তাদের প্রেমের বিয়ে। কিন্তু বিয়ের মাস ছয়েকের মধ্যেই দেখল তাদের মানসিকতায় আকাশ পাতাল তফাত। আইটি ইঞ্জিনিয়ার অয়নকান্তি চক্রবর্তী সুপুরুষ কিন্তু মানসিকতায় এখনও গাঁয়ের গন্ধ যায়নি। স্ত্রীকে সে নিজের সম্পওি বলে মনে করে। সন্তান নিতেও তার অনীহা। অয়ন অফিসে বেড়িয়ে যাওয়ার পর ঐ বিশাল ফ্ল্যাটটা তাকে যেন আরও একা করে দেয়। অয়ন ইদানিং আরও দেরী করে ফেরে। কথায় কথায় গায়ে হাত তোলে।
কথা আর হয়না এখন তাদের শুধু ঝগড়া হয়। মাঝে মধ্যে  ইচ্ছে হয় আত্মহত্যা করতে, ফাঁকা ফ্ল্যাট আত্মহত্যা করলে কেউ জানতেও পারবেনা। সবাই যখন আসবে তখন সব শেষে। এই পরিস্থিতেই রাত নটা পনেরো নাগাদ ফোনটা এল। প্রথম দিন সামান্য আলাপ। তারপর বন্ধুত্ব। তারপর থেকে যতদিন গড়িয়েছে অনামিকার মনে হয়েছে সে যেন শুধু এই ফোনটার অপেক্ষাতেই থাকে। বেঁচে আছে বা বেঁচে গেছে এই ফোনটার জন্যই। নাম বলেছে প্রণয়। অচেনা এই কন্ঠস্বর তাকে ভালোবাসে নারীর হৃদয় এতটুকু বোঝার ক্ষমতা আছে। আর সে? না, সে আর ভালো কাউকে বাসতে পারবে না। অয়নকে তো সে সবটা দিয়ে দিয়েছে। কি করে তার ফোন নং পেল প্রণয় তা আজও জানায়নি। থাক কি হবে। আসলে বন্ধুর মত এই যে হাঁপ ছেড়ে কথা বলা, কিছুটা ঘনিষ্ঠতা, এই অনেক। নটা বারো। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোনটা আসবে। বাইরে একবার দেখে নিল অয়ন কোথায় আছে। না, অয়ন কাছে পিঠে নেই। অয়ন জানতে পারলে আর রক্ষে থাকবেনা। হয়তো কিছু পারবে না করতে কিন্তু মত বদলে ফেলতে পারে। তাদের মধ্যে মিউচুয়াল ডিভোর্সের কথা হয়েছে। তাই এসেছে অনামিকা জগৎবল্লভপুরে শেষ বারের মতো। কলকাতায় ফিরেই তারা এ্যপলাই করবে। রিঙ হচ্ছে। প্রণয়েরই ফোন। কিন্তু অয়ন কোথায়! ফোন কানে নিয়েই অনামিকা বাইরে এল। নিচু স্বরে কথা বলছে। চারিদিকে চোখ বোলাচ্ছে। আর কোন রিস্ক সে নেবেনা। কথা বলতে বলতে দোতলা থেকে নিচে এল। বাগান পেরিয়ে নাট মন্দিরের দিকে এগোতে গিয়ে থমকে গেল।বৈশাখি পুর্ণিমা সামনেই। জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে চারপাশ।মন্দিরের একটা থামে ঠেসে দিয়ে অয়ন দাঁড়িয়ে আছে। ফোনে কথা বলছে। অয়নের মুখটা পরিস্কার দেখা যাচ্ছে। কি প্রেম আজ ঐ দুচোখে। এ দৃষ্টি তার চেনা। ঐ চোখে সে একসময় ডুবেছিল আজ মরেছে। অনামিকা ফোন কানে এগিয়ে চলেছে নাটমন্দিরের দিকে। সে সব কথাতেই শুধু হুম বলছে আরও নীচু স্বরে। অনামিকা অয়নের চোখের দিকে তাকিয়ে এগিয়ে চলেছে আগের মত। না যতই বদলাক মানুষটা এ দৃষ্টি আর অন্য কারোর জন্য নয়। প্রণয় বলছে অনামিকাকে “তোমাকে একটু ছুঁতে চাই।”

# অয়ন #
অয়ন ভেবেছিল এবার সব বলে দেবে অনামিকাকে।কিন্তু সে পারেনি অনামিকাকে হারানোর ভয়ে। অয়ন আজও ভালোবাসে অনামিকাকে। মাঝের ব্যবহারের জন্য সে মরমে মরে যাচ্ছে। তার কি হয়েছিল সে নিজেই জানেনা। চাকরির পদন্নতি চাইতো তাই আরও আরও কাজের প্রেসার নিজেই নিত। এর মাঝে অনামিকা তাকে বলতো সন্তান নিতে। সে তখন সন্তানের কথা ভাবতেই পারেনি।অফিসে প্রতিদ্বন্দ্বী স্নেহাশিস পাল তাকে টেক্কা দিতে চাইত। চলতো প্রতিযোগিতা। বসের সেক্রটারি রুমেলা এমনি মহুর্তে এসেছিল বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে। অন্তত অয়ন তাই ভেবেছিল। টুকটাক কথা বার্তা একটু আধটু ফ্লার্ট মাঝেসাঝে কফি সপ। ভাল অয়নেরও লাগত। রুমেলার সঙ্গ উপভোগ করত। একদিন ক্যাফেটেরিয়ায় অয়ন দেখন রুমেলা বসে আছে। ছেলেমানুষি করবে ভেবে পিছনে চুপিচুপি গিয়ে দাঁড়ালো। মনে হল কেউ যেন তার দুগালে কষে দুই থাপ্পর মারল। রুমেলার উল্টো দিকে বসা স্নেহাশিস বলছে “রুমেলা তোমার দম আছে। বনেদি বাড়ির মালটাকে একেবারে তোমার পায়ে এনে ফেলছ। রুমেলা আর একটু খেলাও, একবার হোটেলে নিয়ে যাও। তোমার যৌবনসুধা পান করাও। আমি প্রমাণ করে দেবো মালটা গ্রেট মাগীবাজ। ওর প্রোমোশানের …..মেরে দেবো। তারপর রুমু সোনা- আই উইল পে এনিথিং দোস ইউ ওয়ান্ট”। রুমেলার সুরেলা হাসিটা অয়নের কানে মনে হয়ছিল কস্টলি বেশ্যার হাসি।
ফিরতি পথে প্রচুর মদ খেয়েছিল। তবু ঞ্জান ছিল। ভাবলো অনামিকাকে ফোন করে একবার ক্ষমা চাইবে। তারপর ভাবল, না, সে ক্ষমার অযোগ্য কাজ করেছে। কিভাবে যে রুমেলাকে তার ভাল লাগতে শুরু হয়েছিল কে জানে। তাহলে সে ও ঐ রকমই যে শরীরী লাস্যে ভোলে ভালোবাসা সেখানে তুচ্ছ। অয়ন ভাবল নতুন করে শুরু করবে। তাই নটা পনেরো নাগাদ অনামিকাকে ফোন করল। সেই শুরু তারপর আজ অবধি সে সারাদিন এই নটা পনেরোর অপেক্ষাতেই থাকত। এই যে অনামিকা ডিভোর্স চেয়েছে আর সে রাজী হয়েছে আসলে সে তো জানে সে অনামিকাকে কোনদিনই ছাড়বে না। আজ সে ভেবেছে অনামিকার কাছে কিছু চাইবে। সে বলছে “আমি আজ তোমায় ছুঁতে চাই। নাহয় ফোনেই, প্লিজ একবার টাচ করো।”
অনামিকা পিছন থেকে অয়নকে জড়িয়ে ধরে। প্রণয় টেনে নেয় প্রেমকে।

# সবভালোর শেষে # 

কীর্তণ ভাসছে “গোপীজন বল্লভ  গিরীবরধারী, রাধামাধব কুঞ্জবিহারী”।
আশালতার ঘুম ভেঙে গেল।মৃণালকান্তি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। সে উঠে বসল। দেখল মৃণালকান্তির দুচোখে শ্রাবণ ধারা। না আর নয় অনেক দেরী হয়ে গেল আশার ঘুম ভাঙতে। মৃণালকান্তির শরীর মনের এই পরিবর্তন মানে সামনে এক লড়াকু সাথীর সঙ্গ প্রাথর্না। এবার আশা দুর্বল হবে না। সে লড়বে সমাজের বিরুদ্ধে। প্রয়োজনে নিজের আঁচল বিছিয়ে আগলে রাখবে মৃণালকান্তিকে। আগের বার পারেনি। অরুণকে লোক দিয়ে তুলে এনে লেঠেল দিয়ে গিরীবালা, তার ঠাকুমা পিটিয়ে ছিল। আশালতা কিছুই করতে পারেনি। রক্তাক্ত অরুণ মাথা নীচু করে পাড়া ছেড়েছিল। পরে সে নিজের চেষ্টায় বড় চাকরী করেছে কিন্তু ও পাড়ায় আর ফেরেনি। হয়তো বিয়ে করে সুখের সংসার পেতেছে।অরুন সুখী হোক অন্তত আশালতা মনে মনে সেটাই চায়। সেদিন নীরব ছিল আজ লড়বে। মৃণাল যদি রাধা ভাবে রাধা বেশে বাকি জীবনটা কাটাতে চায় আশা থাকবে তার পাশে। মৃণালকান্তিকে বুকে টেনে নিল, এই প্রথম স্বেচ্ছায়।
“যশোদা নন্দন ব্রজজন রঞ্জন”
দোতলার ঘরে আজ প্রেমের জোয়ার। অয়ন কথা দিয়েছে অনামিকাকে তাদের সন্তান খুব শীঘ্রই আসবে। আর তার কর্মক্ষেত্রে উন্নতিও কেউ আটকাতে পারবেনা। মোবাইলে স্নেহাশীস রুমেলার কথোপকথনের ভিডিও রেকর্ডিংটা বসকে হোয়াটসআ্যপ করেছে। বসের উওরও আশাব্যঞ্জক। বনেদী বাড়ির ছেলের প্রতিশোধ নেওয়ার ধরনটা যে ভদ্রতার সীমা অতিক্রম করেনা সে বুঝিয়ে দেবে।
আর প্রেম সেটাই আসল বাকিটা ঐ যে কি বলে “ইনফ্যাচুয়েসান”। অনামিকা নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।
“যমুনাতীর বনচারী”।
নাটমন্দির ভেসে যাচ্ছে জ্যোৎস্নায়। মাধবের মুখের হাসিটা বড় দুষ্টুমিতে ভরা। রাধামার গাল দুটো অভিমানে চকচক করছে।

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *