বীরবল- প্রমথ চৌধুরী

kobid_204570409254053dc60af692.16384074_xlarge

বাংলা সাহিত্যে যিনি শিষ্ট চলিত গদ্যরীতির সূচনা করে নতুনত্ব এনে দিয়েছিলেন তিনি আর কেউ নন, সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী।যাকে আমরা বীরবল ছদ্ম নামে চিনি।

১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড থেকে কৃতিত্বের সাথেই ব্যারিস্টারি পাশ করেন।ফিরে এসে কিছুদিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপনা করেন এবং পরে কিছুদিন উচ্চপদে সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত ছিলেন।কিন্তু কোন পেশাতেই স্থির হতে পারেন নি, কারন মন প্রান পড়েছিল সাহিত্যের জগতে।

অবশেষে তিনি সব ছেড়েছুরে তখনকার বিখ্যাত ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এবং এই ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার মাধ্যমে তিনি নব্য লেখকদের একটি শক্তিশালী সংঘ তৈরি করেছিলেন।‘সবুজপত্র’ পত্রিকার মাধ্যমে প্রমথ চৌধুরী বাংলাভাষীকে বোঝাতে পেরেছিলেন, “ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে,কলমের মুখ থেকে মানুষের মুখে নয়, উল্টোটা চেষ্টা করতে গেলেই মুখে শুধু কালি পড়ে।”

‘সবুজপত্র’ পত্রিকাকে কেন্দ্র করে প্রমথ চৌধুরী বাংলা গদ্যে নবরীতি প্রবর্তন করেন। তাঁর লেখনি প্রমাণ করে যে, চলিতভাষায় লঘুগুরু সব ধরনের ভাবনার প্রকাশ সম্ভব।প্রমথ চৌধুরীর রচনা ছিল বহুমুখী ধরনের। ব্যঙ্গাত্মক রচনাতে তাঁর জুড়ি নেই। তাঁর কবিতাগুলো ছিল খুবই বাস্তববাদী এবং রূঢ়। তার ছোটগল্পগুলো এককথায় অসাধারণ।

প্রমথ চৌধুরীর লেখা সাহিত্যসম্ভারঃ

তিনি বাংলা সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তক হিসেবে খ্যাত।

কাব্যগ্রন্থ: সনেট পঞ্চাশৎ (১৯১৯),পদচারণ (১৯২০)।

গল্পগ্রন্থ: চার ইয়ারি কথা (১৯১৬), আহুতি (১৯১৯) ঘোষালের ত্রিকথা,(১৯৩৭),নীল লোহিত (১৯৩৯),অনুকথা সপ্তক (১৯৩৯) সেকালের গল্প (১৯৩৯),ট্রাজেডির সূত্রপাত (১৯৪০),গল্পসংগ্রহ (১৯৪১), নীল লোহিতের আদি প্রেম (১৯৪৪)দুই বা এক (১৯৪০)।

প্রবন্ধগ্রন্থ: তেল-নুন-লাকড়ি (১৯০৬), নানাকথা (১৯১১), বীরবলের হালখাতা,(১৯১৭), আমাদের শিক্ষা, (১৯২০), দুই ইয়ারির কথা (১৯২১), বীরবলের টিপ্পনী (১৯২৪), রায়তের কথা (১৯২৬), নানাচর্চা (১৯৩২), ঘরে বাইরে (১৯৩৬), প্রাচীন হিন্দুস্থান (১৯৪০), বঙ্গ সাহিত্যের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (১৯৪০), প্রবন্ধ সংগ্রহ (১ম ও ২য় খণ্ড) [১৯৫২-১৯৫৩]

তিনি রবীন্দ্র যুগের সাহিত্যিক হলেও তাঁর সাহিত্য আপন বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রবর্তক ও বিদ্রুপাত্মক প্রাবন্ধিক হিসেবে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে শান্তিনিকেতনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *