“বিত্ত নয় মা চিত্ত দাও”– লিখেছেন, অনির্বাণ ভট্টাচার্য

lakshmiপূজা’ শব্দটির উৎসসন্ধানে পাওয়া যাচ্ছে,শব্দটি দ্রাবিড় ভাষা থেকে এসেছে।যার অর্থ পুষ্পকর্ম।আর্য ঋষিরা পূজা শব্দটিকে সংস্কৃত ভাষায় আপন করে নিলেন।অর্থ হল সম্প্রসারিত।দাঁড়ালো,ফুল,বেলপাতা প্রভৃতি উপকরণ আর উপাচার দ্বারা ঈশ্বরের আরাধনা।কিন্তু তরল বর্ষায় স্নাত সনাতন প্রকৃতি।শিশির ভেজা শরৎই আজ সেভাবে অনুপস্থিত।এরই মাঝে ভোগ আর যোগ এই দুই এরই দেবী লক্ষ্মীর আজ আগমন ঘটবে ঘরে ঘরে। প্রকৃতি আজ মরকত নীল আকাশের পরিবর্তে পূর্ণগর্ভিনীর মত জলভারে টলোটলো।প্রকৃতির এই সাজ বদলেই যে মা লক্ষ্মী রয়েছেন।সেখানেই যে লুকিয়ে মায়ের আগমন বার্তা।প্রকৃতির আয়োজনের সঙ্গে চলেছে মানুষের আয়োজনের অসম প্রতিযোগিতা।মা যে বিশ্বচরাচরে ব্যপ্ত হয়ে আছেন,সে খেয়াল নেই কারো।সবুজের মাঝে,শ্যামলের মাঝে লক্ষ্মীরই আগমনী সঙ্গীত শোনা যায়।গেরস্থের কল্যাণ হোক,গোলায় গোলায় ধান উঠুক।কো জাগর্তি বলে মা লক্ষ্মী দুধের বাটি উল্টোনো জ্যোৎস্নায় আসবেন।চাঁদের বালিশে মাথা রেখে শুয়ে রয়েছে আমাদের অন্নপূর্ণারা।কোলে কাঁখে ঘুমিয়ে কাদা সন্তান সন্ততিরা।রোজ রোজ বালির ভাত,কাঁকড় ভাজা,ঢিল সেদ্ধ মেখে গ্রাস তুলে দেয় সেই সমস্ত অন্নপূর্ণারা। আর সেটাই অমৃতজ্ঞানে চুপটি করে খেয়ে নেয় অবোধ শিশুগুলো।অন্তত এই একদিন তাদের গর্তে ঢুকে যাওয়া চোখের কোটরে জ্যোৎস্না পড়ুক।অন্তত এই একটা দিন তাদের পিঠের দিকে ঢুকে যাওয়া পেটে একমুঠো ভাত পড়ুক।অন্তত এই একটা দিন তাদের গালের চামড়ায় শুকিয়ে যাওয়া জলের ধারাপাতে সুখের,তৃপ্তির উদগারের নতুন নতুন নামতা পড়া শুরু হোক।কাঁচামিঠে জ্যোৎস্নায় চলুক সামঞ্জস্যের লীলা।অন্তত একটা রাতের স্বপ্নেও তারা পেটপুরে খাক।আমরা না হয় আজ ঘুমোই।তাদের জীবন পূণ্য করো মা,দহন তো রোজই আছে তাদের ভাতের থালায়,ডালের বাটিতে,উদরভর্তি ক্ষুধায়।জীবন পূন্য করো।আর ও দাহ দাও মা।পুড়ে শুদ্ধ হোক,সকল কলুষ,সকল  অসাম্য।দানে পূর্ণ করো।ধানে পূর্ণ করো।আজ তারাই কোজাগরী হোক।তাদের বিত্ত দাও।তস্মৈ বিত্তং প্রযচ্ছামি।আমরা আজ যেন বিত্তে নয়,চিত্তে ধনী হই।তাদের জাগরণ সার্থক হোক।

ওঁ বিশ্বরূপস্ব ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।

অনির্বাণ ভট্টাচার্য

অনির্বাণ ভট্টাচার্য

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *