“বিজয় হোক মানবতাবাদের”– অনির্বাণ ভট্টাচার্য

shuvo_bijoya_graphics6

 

 

 

 

প্রস্তুতি থাকে দীর্ঘদিনের,তারপর হঠাৎ একদিন সব শেষ হয়ে যায়।নবমী নিশি পার হতে না হতেই বেজে ওঠে বিসর্জনের বাজনা।বহু দিনের অভ্যাসবশত মানুষ কয়েকটা দিনের জন্য মায়াময়, অলীক আনন্দের জোয়ারে ভেসে চলে।গলদঘর্ম গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত।আকাশ বর্ষাচ্ছন্ন।জলে জলে বেজে চলেছে মীরার ভজন। তবুও এরই মধ্যে মহাপূজা সাঙ্গ হল।বোধন ছিল।বিসর্জনও আছে।পুজো কতটা ছিল,সেটাই বিরাট বড় প্রশ্ন।পুজো বেড়েছে সংখ্যায়।পুজো বেড়েছে শব্দে।পুজো বেড়েছে অর্থব্যয়ে।অথচ যারা চৌখুপী ঘরের জানলার গ্রিলে নাক ঠেকিয়ে ডাকটিকিটের মত একটুকরো চৌকো আকাশ দেখে,পুজো তাদের কাছে কিভাবে ধরা দিল? সঞ্জীবনী স্পর্শ এসে পৌঁছনোর কথা ছিল তো তাদের মধ্যেও।হারানোপ্রাপ্তি নিরুদ্দেশের এমন সমন্বয় বাঙালী জীবনে আর একটিও নেই।মাতৃতান্ত্রিকতা যে বাঙালীর স্বভাবজাত!এ এক মন্ত্রপূত পক্ষ।সকলেই চায় নীল ঢলো ঢলো কাঁচা মুখের আকাশখানি একবারটি দেখি!অথচ মনখারাপের মফস্বল আজ মেঘলা।বিজয় হোক।বিজয়া নয়।বিসর্জন হোক মতান্ধতার,বিসর্জন হোক ধর্মান্ধতার,বিসর্জন হোক অভ্যন্তরস্থ জড়ত্বের।বিজয় হোক মানবতার।দশমীর সকালে কালের বৃহত্তম একক সম্বৎসরের জন্য একটাই প্রার্থনা জীবন কৃতকৃত্য হোক,এষণার বৃদ্ধি হোক উত্তরোত্তর। সকল ইষ্টমিত্র কুটুম্বজন কে জানাই আন্তরিক বয়সোচিত সম্ভাষণ।

অনির্বাণ ভট্টাচার্য

অনির্বাণ ভট্টাচার্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *