বাংলা সাহিত্যে প্রথাবিরোধী লেখক- সমরেশ বসু’র আজ জন্মদিন।

downloadআধুনিক বাংলা সাহিত্যে সমরেশ বসু এক দুঃসাহসিক প্রথাবিরোধী লেখকের নাম।তার সাতন্ত্র গদ্যশৈলী তাকে বাংলা কথাসাহিত্যে ব্যতিক্রমী আসন দিয়েছে। প্রচলিত গদ্যরীতিকে ভেঙে চুরমার করে এমন নূতন এক গদ্যের জন্ম দিয়েছেন যা যেকোনো সাহিত্যিকের থেকে সমরেশকে আলাদা করেছে।এই প্রসঙ্গে প্রজাপতি’র কথা ধরা যাক।শুধুমাত্র অশ্লীলতার দায়ে লেখাটি নিম্ন আদালতে বিচারাধীন থাকার ১৭ বছর পর উচ্চআদালতে মুক্তি পায়!আসলে লেখাটির ব্যতিক্রমী গদ্যশৈলীকে নিতে পারেনি।এমন ব্যাতিক্রমী ও বিতর্কিত লেখন বাংলা সাহিত্যে এসেছে বলে অন্তত আমার জানা নেই।মধ্যবিত্ত জীবনকে নির্ভীক ভাবে ছিঁড়েখুঁড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন তার সাহিত্য রচনায়।যেহেতু তিনি প্রথম জীবনে শ্রমিকদের মাঝেই কাটিয়েছেন তাই তার লেখায় শিল্পাঞ্চলের শিল্প-শ্রমিকেরা মুল উপজীব্য হয়েছে।

সমরেশের ‘পাতক’, ‘প্রজাপতি’,‘ বিবর’,‘ স্বীকারোক্তি’, ‘অপদার্থ’ ‘সুচাঁদের স্বদেশযাত্রা’, ‘যুগ যুগ জীয়ে’,‘ মহাকালের রথের ঘোড়া’, ‘শেকল ছেঁড়া হাতের খোঁজে’, ‘বাঘিনী ’,‘শাম্ব’,‘বিটি রোডের ধারে’, ‘শ্রীমতি কাফে’,‘ বিপর্যস্ত’,‘ টানাপোড়েন ’ ’ইত্যাদি উপন্যাস লিখেছেন। আবার ভিন্ন স্বাদের লেখায় সমরেশ কালকূট ছদ্মনামে ‘অমৃত কুম্ভের সন্ধানে’ ‘চলো মন রুপনগরে’, ‘মুক্তবেণীর উজানে ’ইত্যাদি গ্রন্থ একাধারে উপন্যাস ও ভ্রমণকাহিনী।

সমরেশ বসুর বেশ কিছু ছোটগল্প ও উপন্যাসের কাহিনী  অবলম্বনে বাংলা ও হিন্দিতে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। নাসিরউদ্দিন শাহ্ ও শাবানা আজমী অভিনীত ‘পার’ চলচ্চিত্র।

জন্ম ১১ ডিসেম্বর ১৯২৪।  ১৯৮৮ সালে ১২ মার্চ শিল্পী রামকিংকর বেইজের জীবনী অবলম্বনে উপন্যাস ‘দেখি নাই ফিরে ’ অসমাপ্ত লেখা অবস্থায় মারা যান।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *