বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ বাড়ছে আশংকাজনক হারে এর সমাধান কোন পথে?লেখক-ছাবের আহাম্মদ(বাংলাদেশ)

bengali-muslim-brideপ্রত্যেক ধর্মেই রহিয়াছে বিবাহের বিধান ও নিয়মাবলী। মুসলিম বিবাহ সর্ম্পকিত বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বিস্তারিত বিধানাবলী রহিয়াছে। ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হইল বর্তমান মুসলিম বিবাহ ও তালাক আইনের সংশোধন, একত্রীকরণ বা সমন্বয় সাধন। এই আইনের ৩ ধারা অনুসারে কোন আইন, রেওয়াজ বা প্রথার বিপরীতে অন্য কিছু থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি বিবাহ এই আইনের বিধান অনুসারে রেজিস্ট্রি করিতে হইবে। মুসলিম প্রধান দেশ হিসাবে বাংলাদেশে এই আইনের ৩ ধারা মোতাবেক মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হইয়াছে। আইন অনুসারে তালাক রেজিস্ট্রেশনের বিধি রহিয়াছে। এই ভাবে মুসলিম বিবাহ ও তালাক  (রেজিস্ট্রেশন) আইন ১৯৭৪ ও বিধি-১৯৭৫ বিধিসম্মতভাবে সম্পাদিত মুসলিম বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে দালিলিক সাক্ষ্যরূপে প্রস্তুতকরা হইয়াছে। সম্প্রতি ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক  (রেজিস্ট্রেশন) আইনের ১৪ ধারার ক্ষমতাবলে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) বিধিমালা, ২০০৯ জারী করা হইয়াছে। তৎপরবর্তীতে জনস্বার্থে -২০১০, ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ খ্রিঃ বিভিন্ন সময় বাস্তবতার নিরিখে আংশিক সংশোধনী আনা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসুরী আওয়ামীলীগ ও মহাজোট নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়ে বিবাহ্ নিবন্ধন আইনকে যুগপোযোগী করে মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রারদের পাশাপাশি হিন্দু, খ্রিষ্টান ও স্পেশাল ম্যারেজ রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিধান চালু করে সকল ধর্মের মানুষের সভ্যতার সহিত সহাবস্থানের দেশ হিসেবে  বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা আরো বৃদ্ধি করেছেন। নিশ্চয়ই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রশংসার দাবিদার। মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দু ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সকল বিবাহ নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারের এই উদ্যোগ সর্বজন গ্রহনযোগ্য তো বটেই নারী অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তাবায়নে যথেষ্ট কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এক সভায় বাল্যবিবাহ রোধে ৩৭টি প্রস্তাবনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ পূর্বক বাস্তবায়নের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে দেশ ও জাতির কল্যাণে ইহা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ওই সভায় আইন মন্ত্রণালয়কে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪-এর ৩ ধারা মতে প্রতিটি বিয়েকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার কার্যকর কৌশলপত্র তৈরি এবং সে অনুযায়ী বিয়ে নিবন্ধকদের দায়িত্ব নির্ধারণ করতে বলা হয়। মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন (আইন)-১৯৭৪-এ মোবাইল কোর্টকে তফসিলভুক্ত করার বিষয়টিও পরীক্ষান্তে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়।

2349512_orig

যাহা ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশনের ১৯৭৪-এর আইন ও প্রচলিত বিধানের সহিত সাংঘর্ষিক এবং মাননীয় হাইকোর্টের ডি.এল.আর-৫৫-১৯৯৯/২৫ এর প্রতি অশ্রদ্ধার শামিল ও বাস্তবতা বিবর্জিত। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগকে ইসলামের বিপরীতমুখী অবস্থানে চিহ্নিত করানোর যে চক্রান্ত হয়েছিল, সেই চক্রান্তকারীরা আজ অদৃশ্যে থেকে ম্যারেজ রেজিস্ট্রারদের নিগৃহিত করার হীন উদ্দেশ্যে অযৌক্তিক, অমানবিক কিছু বিধি বিধান যুক্ত করে আলেম-ওলামাদের সহিত দ্বন্দে জড়িয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে আওয়ামীলীগকে আলেম-ওলামাদের বিপরীতমূখী অবস্থানে চিহ্নিত করার হীন ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বর্তমানে দেশে সরকার অনুমোদিত প্রায় ৭,০০০ (সাত হাজার)- এর অধিক মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রার আছেন। এছাড়াও হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক ও খ্রিষ্টান বিবাহ নিবন্ধক ও বিশেষ বিবাহ নিবন্ধক আছে আরো প্রায় হাজার খানেক। সামাজিকভাবে তাহারাও কাজী হিসাবে পরিচিত। তাদের সাথে সহায়ক হিসেবে আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার আলেম-ওলামা, ঠাকুর, পাষ্টর ও পাদ্রী কাজ করছেন। এ্যাডভোকেট, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, মুফতী, মোহাদ্দেছ, বিভিন্ন ধর্মের সংস্কৃতিক শিক্ষায় শিক্ষিত ঠাকুর, পাদ্রী, পাষ্টর, পুরোহীত, প্রভাষক এবং প্রিন্সিপালের মতো উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ও সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিগন বর্তমানে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন পেশায় নিয়োজিত। সমাজে তাদের সম্মানজনক একটা অবস্থান রয়েছে। তাঁদের কথা মানুষ শ্রদ্ধাভক্তির সাথে মান্য করে। অহেতুক বাল্যবিবাহের দায় চাপিয়ে নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদেরকে নিগৃহিত করার বিষয়টি সমাজের সহজ সরলমনা মানুষ ভালো চোখে দেখবে না। তৎকালিন সময়ে কাজী সাহেবগন চেয়ারম্যান-মেম্বারদের হাতে লাঞ্চিত হতেন বিধায় আলেম প্রিয় বঙ্গবন্ধু স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের কালো হাত থেকে মুক্ত করে ১৯৭৪ খ্রিঃ আইন ও ১৯৭৫ এ বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে ম্যারেজ রেজিস্ট্রারদের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানের সকল দায়-দায়িত্ব আইন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে গেছেন, এটা এক প্রকার বঙ্গবন্ধুর ভালবাসারই প্রতিদান বলে আলেম সমাজ মনে করেন। বাস্তবতা হলো যে, সি.এস, এস.এ আরএস. বিএস খতিয়ান সহ যে  কোন ধরনের ভুল তথ্য দ্বারা রেজিস্ট্রীকৃত জমি জমার দলিল আদালত কর্তৃক বাতিল হইলে যেমন রেজিস্ট্রীকারক সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে জাল দলিল রেজিস্ট্রীর দায়ে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তেমনি বর বা কনে পক্ষ কর্তৃক ভুল তথ্য প্রদানের মাধ্যমে কোন বিবাহ রেজিস্ট্রী করা হইলে সংশ্লিষ্ট ম্যারেজ রেজিস্ট্রার তার জন্য দায়ী থাকবে না – এটাই স্বাভাবিক। যেহেতু বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ, তাই বাল্য বিবাহ রোধে আইনের লেবাছে ম্যারেজ রেজিস্ট্রারদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের বিষয়টি সরকারের সাথে আলেম ওলামাদের পরিকল্পিত দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ বাধানোর ষড়যন্ত্রের অংশ  বলে মনে করেন আলেম সমাজ।

485069170

১৮ বছরের নিচে কোন মেয়ের বিবাহ্ রেজিস্ট্রী করা হইলেই বাংলাদেশের আইনে বাল্য বিবাহের অন্তর্ভূক্ত হয়। কিন্তু বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেই ১৮ বছর বয়সের নিচে মেয়েদের বিবাহ দেওয়ার বিষয়টি আইন সিদ্ধ এবং যৌক্তিক। ১৬ বছর বয়সে মেয়ের বিবাহের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের বিষয়টি সর্বজন গ্রহনযোগ্য। শরিয়ত মোতাবেক মেয়েদের হায়েজ নেফাস বা  ঋতু¯্রাব হইলেই একটি মেয়ে বিবাহ যোগ্য। কাজী সাহেব, সমাজপতি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গ্রাম পর্যায়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমেই গ্রামের মানুষদেরকে বাল্যবিবাহ রোধে সচেতন করার পদক্ষেপ গ্রহন করিলে বাল্য বিবাহ হ্রাসে দ্রুত কার্যকারীতা আসতে পারে।

১৮ বছরের নিচে কোন মেয়ের বিবাহ্ রেজিস্ট্রী করা হইলেই বাংলাদেশের আইনে বাল্য বিবাহের অন্তর্ভূক্ত হয়। কিন্তু বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেই ১৮ বছর বয়সের নিচে মেয়েদের বিবাহ দেওয়ার বিষয়টি আইন সিদ্ধ এবং যৌক্তিক। ১৬ বছর বয়সে মেয়ের বিবাহের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের বিষয়টি সর্বজন গ্রহনযোগ্য। শরিয়ত মোতাবেক মেয়েদের হায়েজ নেফাস বা  ঋতু¯্রাব হইলেই একটি মেয়ে বিবাহ যোগ্য। কাজী সাহেব, সমাজপতি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গ্রাম পর্যায়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমেই গ্রামের মানুষদেরকে বাল্যবিবাহ রোধে সচেতন করার পদক্ষেপ গ্রহন করিলে বাল্য বিবাহ হ্রাসে দ্রুত কার্যকারীতা আসতে পারে।

সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় দেখা যাচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৩৭ প্রস্তাবনার অন্যতম হচ্ছে ১৯৭৪ খ্রিঃ মুসলিম ম্যারেজ এন্ড ডিভোর্স (রেজিস্ট্রেশন) আইনের সাথে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট অর্ন্তভূক্ত করার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। ইহা বাস্তবায়নের পূর্বে মাননীয় হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত আছে যে, নিকাহ্ রেজিস্ট্রারগণ “পাবলিক সার্ভেন্ট”। মাননীয় হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে পাবলিক সার্ভেন্টকে মোবাইল কোর্টের অন্তর্ভূক্ত করা যায় কিনা বিষয়টি গভীর ভাবে বিবেচনায় এনে সরকারকে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় পাবলিক সার্ভেন্ট আইনে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। বিবাহ শাদির সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শুধুমাত্র বিবাহ রেজিস্ট্রী করার সময় পক্ষগণ ম্যারেজ রেজিস্ট্রারদেরকে ডাকেন। ঐ মূহুর্তে প্রচলিত বিধান মোতাবেক বর এবং কনের জাতীয় পরিচয় পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ বা জে.এস.সি বা এস.এস.সি বা সমমানের পরীক্ষার সনদ যে কোন একটির মাধ্যমে বয়স বিষয়ে নিশ্চিত হইয়া বিদ্যমান বিধান মোতাবেক ম্যারেজ রেজিস্ট্রারগণ বিবাহ নিবন্ধন করে থাকেন। ফলে প্রচলিত বিধানের ২৩“ক” মোতাবেক বর বা কনে পক্ষ কর্তৃক মিথ্যা তথ্য দিলে এবং উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিকাহ্ রেজিস্ট্রারগণ বিবাহ রেজিস্ট্রী করিলে তজ্জন্য কোন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার দায়ী হইবে না মর্মে বিদ্যমান বিধানটি যৌক্তিক।

images (2)

বিদ্যমান এই বিধানটি বহাল রাখিয়া এবং দাখিলকৃত তথ্যাদি যাচাইকরার মতো প্রয়োজনীয় ডিজিটালাইজড প্রশিক্ষনের পদক্ষেপ গ্রহন করা দরকার। এছাড়াও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ এবং নাবালিকাদের অপহরণ পূর্বক বিয়ে ও পালিয়ে গিয়ে দূরবর্তী এলাকায় বিবাহ রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করতে হলে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা-২০০৯ এর বিধিঃ ২৫ এ নিবন্ধনের স্থান যে এলাকায় বিবাহ বা তালাক অনুষ্ঠিত হইবে সে এলাকার নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কর্তৃক বিবাহ বা তালাক নিবন্ধনের বিদ্যমান বিধান পরিবর্তন করে গ্রাম এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যানের বাসিন্দাগত সার্টিফিকেটের মাধ্যমে কন্যার সর্বশেষ/বর্তমান বসবাসরত এলাকার নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কর্তৃক বিবাহ নিবন্ধনের বিধান করিলে প্রতি বছর শত শত নাবালিকা / কনে অপহরণ পূর্বক জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে বিবাহ করার প্রবণতা দ্রুত রোধ করা সম্ভব হইবে। বাল্যবিবাহ নিরোধ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বৈঠকে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন ও গ্রাম এলাকার বাস্তবতা নিযে কথা বলার মত বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোক না থাকায়, মাঠের সঠিক চিত্র  সরকার অবহিত হতে পারে না, এর ফলে বিভিন্ন এন.জি.ও থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে যত পদক্ষেপই গ্রহণ করা হউক; তেমন কোন কার্যকারিতা আসার সম্ভাবনা নেই।

বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে বাল্যবিবাহ বিষয়ক মাঠের চিত্র বা প্রতিবেদন সঠিক নয় বলেও অভিযোগ দৃশ্যমান। জাতীয় পরিচয়পত্র সহ অন্যান্য তথ্যাদি বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধানের জন্য কাজী সাহেবকে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ৮ই সেপ্টেম্বর-২০১৪ প্রকাশিত “প্রথম আলো” পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায় যে, ভারতের দিল্লির আদালতে একটি মামলার শুনানিতে বাল্য বিবাহের শিকার শিশুর মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিবাহিতা শিশুর মা-বাবার দায়ের করা মামলার শুনানীর সময় সংশ্লিষ্ট আদালত এ নির্দেশ দেন, বাংলাদেশেও তাই হওয়া উচিত।

images (3)

যেহেতু মুসলিম ম্যারেজ এন্ড ডিভোর্স (রেজিস্ট্রেশন) আইন ১৯৭৪ ও বিধি ১৯৭৫ দ্বারা অত্যন্ত শক্তিশালী ভাবে নিকাহ্ রেজিস্ট্রারগণ পাবলিক সার্ভেন্ট (জনসেবক) হিসেবে মাননীয় হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত মতে প্রমাণিত সেহেতু পাবলিক সার্ভেন্টদের আইনী সুযোগ সুবিধা মতে রাষ্ট্রের প্রচলিত দন্ড বিধির ২১ ধারার আলোকে উক্ত আইনের আদলে পাবলিক সার্ভেন্ট(জনসেবক) হিসেবে নিকাহ্ রেজিষ্ট্রারদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয় আইন সংযোজন করা সরকারের প্রায়োজন। নিকাহ্ রেজিষ্ট্রারদের ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৯৭ (১) ধারা ও প্রস্তাবিত আইনে সংযোজনে যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে। সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিকাহ্ রেজিস্ট্রোরের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের বা কোন ফৌজদারী অভিযোগ আমলে না নিয়ে জন্ম নিবন্ধন আইন-২০১৪-২৯নং আইনের ১৯ ধারায় নিবন্ধক কর্মকর্তাকে যে রূপ আইনী নিরাপত্তা এবং রেজিষ্ট্রেশন আইনের ধারা ৮৪ তে নিবন্ধক গণকে পাবলিক সার্ভেন্ট(জনসেবক) বলে অভিহিত করে ধারা ৮৬ তে তৎকর্তৃক সরল বিশ্বাসে কৃত কার্যের ব্যাপারে যেরূপ সুরক্ষা / আইনী নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে, একইভাবে মুসলিম বিবাহ্ ও তালাক (রেজিষ্ট্রেশন) আইন ১৯৭৪ ও বিধি-১৯৭৫ আইন ও বিধানে ইহা সংযোজন করা প্রয়োজন।  কাজী সাহেবদের এভাবে মোবাইল কোর্টের আওতায় না এনে বাল্য বিবাহ রোধে কাজী সাহেবদের সমন্বয়ে স্তর ভিত্তিক কমিটি গঠন করে গ্রাম ও শহরে জন সচেতনতা সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করিলে সরকার ও জাতির জন্য কল্যাণকর হবে। বাল্য বিবাহ রোধের কার্যকারিতা আসবে।

12744464_1674928459428716_7347003289092512771_n

লেখক- ছাবের আহাম্মদ – (ছাব্বীর), ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন আইন বিশ্লেষক ও মহাসচিব, বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস. কেন্দ্রীয় কমিটি।

দেশ ও জাতির কল্যানে আইন প্রণয়ন করা হয়। সেই আইন যদি জনস্বার্থ পরিপন্থী হওয়ার আশংকা থাকে তাহলে ইহা থেকে বিরত থাকাই উত্তম। সর্বোপরি বলা যায়, বাল্য বিবাহের জন্য কাজী, ঠাকুর, পাষ্টর ও পাদ্রীদের ওপর দায় না চাপিয়ে বরং প্রতিটি ছেলে-মেয়ের মা-বাবাকে আইনের আওতায় আনাই শ্রেয়। এতে করে বাংলাদেশ একটি আধুনিক, বিজ্ঞান সম্মত, অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াবেÑ যা ছিল আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আজন্ম লালিত স্বপ্ন। এহেন অবস্থায় উল্লেখিত যৌক্তিক বর্ণনা সমুহ গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়া দেশ ও দশের স্বার্থে উপরোল্লেখিত ৩৭টি প্রস্তাবনা সংশোধন ও জনস্বার্থে অত্র সুপারিশ সমূহ পূনঃ বিবেচনা পূর্বক বাল্য বিবাহ রোধে বাস্তবমুখী কর্মসুচী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনে মাধ্যমে বাল্য বিবাহ হ্রাস করা সম্ভব হতে পারে ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *