“প্রথম প্রেম” লিখেছেন, সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

3500শ্রীপর্ণা ভাবছিল।বাড়ি ভর্তি লোকজন,আত্মীয়-স্বজন।হইচই।আনন্দ আর তার সাথে সানাই এর সুর।তার ভাবার ফুরসত কোথায়।তবু তার মন বারবার চলে যাচ্ছিল দুরে বহুদুরে বেশ কয়েক বছর আগে।আকাশের পানে তাকিয়ে ছিল।কমলাটে এক আলো এসে পড়েছিল তার চন্দন চর্চিত মুখে।আরো অপরুপা দেখাচ্ছিল তাকে।
কি রে পর্ণা,ওমন উাদস হয়ে কি ভাবছিস?হইহই করে ঘরে ঢুকলো তনয়া।
শ্রীপর্না ঘোরের মধ্যে থেকে সম্বিত ফিরিয়ে বলল,ভাবছি এই প্রেমহীন বিয়েটাকে নিয়ে,আচছা আমি অর্ককে ঠকাচ্ছি নাতো?
তনয়া-আবার ওসব কথা!অর্ক খুব ভালো ছেলে, তুই খুব সুখে থাকবি।

তনয়া যেমন এসে ছিল তেমনি ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেল।তার প্রাণের বন্ধুর বিয়ে বলে কথা। খুব ব্যস্ত সে।

কিরে শ্রীপর্ণা তোর হিরোর কি খবর?কলেজে ঢুকতেই ছেঁকে ধরল বন্ধুরা।আজ একই ট্রেনে এলিতো?আজ কথা বলেছিস?
শ্রীপর্না শুধু মাথা নাড়ে।কি কথা বলবে সে? মেয়েরা কি পারে?
শ্রীপর্না রোজ আট পাঁচের ট্রেনে শ্রীরামপুর থেকে শিয়ালদায় নামে।সেখান থেকে বাসে করে কলেজ।প্রায় দু সপ্তাহ যাবদ একই সময় একই ট্রেনে ও বাসে ওঠে সেই ছেলেটি।এমন কিছু একটা ঐ ছেলেটির মধ্যে আছে যা মুখচোরা শান্ত শ্রীপর্ণার মনেও ঝড় তুলেছে।প্রায় ফাঁকা ট্রেনের মধ্যে একদিন চোখ চলে যায় ছেলেটির দিকে।দেখে ছেলেটি তার দিকে একরাশ বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে। চোখে চোখ পরতেই ছেলেটি চোখ নামিয়ে নেয়।
কলেজে এসে শ্রীপর্না বন্ধুদের কাছে গল্প করে।দেখে মনে হয় ছেলেটি চাকরি করে।শ্রীপর্ণা বাস থেকে কলেজের গেটে নেমে যায়।ছেলেটি চলে যায়।তাদের কলেজ ছাড়িয়ে দুটো অফিস।সিজিএস আর বানতলা লেদার কমপ্লেক্স।মনে হয় এই দুটোর মধ্যে যেকোনো একটাতে সে চাকরি করে।
নাম জানে না ঠিকানা জানে না,কিচ্ছু জানেনা।শুধু শ্রীপর্ণা জানে তার মত লাজুক মেয়েটিও বোধহয় প্রেমে পড়ে গেছে।
আজ নিয়ে আট দিন হয়ে গেল তার দেখা নেই।চোখ ফেটে জল আসছে শ্রীপর্ণার।ট্রেন ও বাসে কোথাও তার দেখা নেই। তবে কি ও হারিয়ে গেল? শরীর ঠিক আছে তো? না,শ্রীপর্ণা এবার বোধয় পাগল হয়ে যাবে।সামনে ইঞ্জিনিয়ারিং এর ফাইনাল পরীক্ষা।জানালা দিয়ে আনমনে বাইরে তাকিয়ে ছিল।হঠাৎ দেখে মহারাজ দাঁড়িয়ে আছে বাসস্ট্যান্ডে।শ্রীপর্না তাড়াহুড়ো করে নেমে পড়ে বাস থেকে।খানিক পরে আরেকটি বাস এলে দুজনেই উঠে পড়ে।পাশাপাশি সিটে বসে।ছেলেটিই প্রথম কথা বলে,”এই ভাবে বাস থেকে নামার কি দরকার ছিল? বসার জন্য তো সীট পেয়েছিলে”।
শ্রীপর্ণা তাও চুপ করে থাকে।ছেলেটি আবার বলে,আমি বানতলা লেদার কমপ্লেক্সেস কাজ করি। রোজ তোমায় কলেজের স্টপে নেমে যেতে দেখি।
বন্ধুরা প্রচুর গালাগালি করে।ছাগলি একটা,নামটা জিঞ্জাসা কেন করলি না? তুই মরবি এবার।
আগামী কাল ভ্যালেনটাইন ডে।আজ মন বেঁধেছে শ্রীপর্ণা,মনের কথা বলবেই।
বাসে বসে আছে দুজন পাশাপাশি।
ছেলেটি-কাল কি স্পেশাল কিছু প্রোগ্রাম?
শ্রীপর্না-না না আমার তো।মানে আমার কোন।
ছেলেটি-ওকে ওকে আমার নাম সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য।
শ্রীপর্না-আমি শ্রীপর্ণা।
শ্রীপর্না-আপনার কি প্রোগ্রাম কাল? মানে তেমন হলে কাল একবার।
অবাক করা চাউনিতে ছেলেটি-আমার পাঁচ বছর হল বিয়ে হয়ে গেছে এখন আর স্পেশাল কি?
পায়ের তলার মাটি সরার উপায় ছিল না কারন সেটা বাস।শুধু শ্রীপর্ণা এতটুকু বুঝলো যে সব প্রথম প্রেম সফল হয় না সবার সে ভাগ্য হয় না।

AIbEiAIAAABDCNS546auuqOfXSILdmNhcmRfcGhvdG8qKGJlNjIxZDFjMDhlNzI0NTA3ZjUzYjczZmEwY2Q4ODc4YTk5OThkODIwAZysZUvWdCMmHMbpImch9e2zYBc3

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *