“পথে নামেন ভক্তের ভগবান”

rath-647_071815050511ফিচার টেবিলঃ  কথিত আছে দারুব্রম্ভ জগন্নাথদেবের রথের রশিতে স্পর্শ করলে মোক্ষপ্রাপ্তি হয়।অনাদিকাল থেকে রথযাত্রা চলে আসছে এবং একে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নানা ইতিবৃত্ত।আজ সারা বিশ্বজুড়ে মহা সমারোহে রথযাত্রার বিজয়োৎসব পালিত হয়।

শ্রীজগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি,জগন্নাথ মন্দির থেকে এক ক্রোশ দূরে।এটাকেই গুন্ডিচা মন্দির বলা হয়।বলা হয় মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্নের স্ত্রী গুন্ডিচার নামে মন্দিরের নামকরন করা হয়।শ্রীজগন্নাথ, শ্রীবলরাম ও বোন শ্রীসুভদ্রা সাতদিন গুন্ডিচা মন্দিরে অবস্থান করে উল্টোরথের দিন ফিরে আসেন।ভগবান শ্রীচৈতন্য রথযাত্রার আগে গুন্ডিচা মন্দির ঘষেমেঝে পরিষ্কার করার দায়িত্ব নিতেন।তিনি ভক্তদের লোকশিক্ষা দিতেন।বলতেন,হৃদয়ে ভগবানকে স্থান দেওয়ার আগে মনের মন্দিরকে পরিষ্কার করতে হয়।

প্রতিবছর রথনির্মাণ নিমিত্তে কাঠ সংগ্রহ শুরু হয় বসন্ত পঞ্চমী থেকে এবং রথনির্মাণ কার্য্য শুরু হয় অক্ষয় তৃতীয়া থেকে।পুরীতে আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়ায় রথযাত্রা শুরু হয়।রথযাত্রা প্রসঙ্গে ভিন্নজনের ভিন্ন মত আছে।কেউ বলেন গোকুল থেকে মথুরা যাত্রা।অনেকে বলেন কুরুক্ষেত্র থেকে বৃন্দাবন যাত্রা আবার ভিন্ন মতে দ্বারকা থেকে ব্রজে যাত্রা।সে,গুণীজনদের ভিন্নমত থাকলে থাকতে পারে কিন্তু মোদ্দা কথা হল রথযাত্রা ভগবানের অন্তরাত্মার যাত্রা।রথের চারচক্র ঐক্য,স্বাধীনতা,জ্ঞান ও শক্তি এই চারটি মর্মার্থই বহন করে এবং অবশ্যই অহঙ্কার শূন্যতা।মান- অভিমান বিসর্জন দিয়ে শ্রীজগন্নাথের শ্রীচরনে সম্পূর্ণ সমর্পণ করতে পারাটাই রথযাত্রার অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা।এই মর্মার্থকে লোকশিক্ষা দিয়েছিলেন ভাগবান শ্রীচৈতন্য।এই জগতের একমাত্র অধীশ্বর শ্রীজগন্নাথ তাই তার রথের পথ পরিষ্কার করেদিতে রাজাকেও ঝাড়ু হাতে রথের আগে আগে রাস্তা ঝাঁট দিতে হয়।শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ভক্তবৃন্দকে নিয়ে রাস্তা ঝাড়ু দিতে দিতে দারুব্রম্ভের রথের পথ করে দিতেন।

রথযাত্রা এক উন্মাদনা।লক্ষ লক্ষ মানুষ ধর্মের উর্ধে উঠে রথের রশি স্পর্শ করে।ভক্তের ভগবান ভক্তের জন্য পথে নামেন আর ভক্ত তাকে স্পর্শ করে জীবন ধন্য করে।শ্রীজগন্নাথের এই রথযাত্রাকে বলা হয় “পন্ডাহি বিজয়”।রথযাত্রার পুন্যদিনে আমদের শপথ হোক-“ধর্মীয় সহিষ্ণুতা”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *