‘নিঃস্ব’ পরিবেশ দিবস-অনির্বাণ ভট্টাচার্য

1eb17e1936e8d921fdfeef62f0fd6860বাজিকরের খেলা মনে পড়ে?হাত থেকে রঙ বেরঙের কতগুলো ছোট ছোট গোলক পর্যায়ক্রমে ঊর্ধমুখে নিক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপরে ওঠার ক্ষমতা ফুরোলে নিম্নমুখী যাত্রান্তে ঐ বাজিকরের হাতে ফেরত আসে।পুনরাবর্তিত হয়ে চলেছে চক্রবত। বিনাসুতোয় বাঁধা আন্তর্জাল এমনই একটা বিশ্ব।যার খণ্ডিত সত্তায় আটকে গেলে কেবল একটা গোলককে দেখার মত অনুভূতি হবে।অর্থাৎ দর্শক খালি হয় গোলকের উপরে ওঠা বা নিচে নামা দেখবে।সার্বিক গোলকধাঁধা তাঁর দৃষ্টি এড়ালো।বাজিকরের হাতে ছন্দোবদ্ধভাবে ছেড়ে দেওয়া(বর্জন) আর ধরে নেওয়া(গ্রহণ) এর গতিতে ছন্দপতন ঘটলে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সামঞ্জস্য নষ্ট হয়।স্বনিয়ন্ত্রন প্রক্রিয়াতে দীর্ঘমেয়াদি গ্রহণ – বর্জনের  মাত্রাজ্ঞানহীনতা চিরস্থায়ী ক্ষতির জন্ম দেবে।সার্বিক প্রভাব ভিন্ন পরিনতির জন্ম দেবে।

পৃথিবীর চারটি প্রাথমিক সম্পদ – মাটি,জল,বায়ু এবং জীব বৈচিত্র্য – এ সবই আজ আক্রান্ত। অরণ্য অপসারণ, জমির অপব্যবহার,মরুভূমির আগ্রাসন, জমির বন্ধ্যাত্বকরণ,ভৌমজলের যথেচ্ছ উত্তোলন ইত্যাদির কারণে আমাদের প্রিয় পৃথিবী আজ চরম বিপদের মুখোমুখি।

জল আর স্থল মিলিয়ে গোটা ভূপৃষ্ঠ, ভূপৃষ্ঠের নীচে,কিছুদূর,উপর দিকে বায়ুর চৌহদ্দিরো কিছুটা – মোট আঠারো কিলোমিটার পুরু একটা খোসার মত পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে জীবমণ্ডল। পৃথিবীপৃষ্ঠের এই সীমিত অঞ্চলে পড়েছে প্রাণের ছাপ।প্রাণের বিচিত্র প্রকাশ সেখানেই।উদ্ভিদ,জীবানু,প্রাণীর আবাসস্থল।ভৌত পরিবেশের উপর সজীব জগতের অর্থাৎ প্রকৃতির এই যে প্রচ্ছন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাটি তত্ত্বের আকারে উঠে আসে বিজ্ঞানী লাভলকের “গায়া হাইপোথিসিস” এর মধ্যে দিয়ে(গ্রিক ভাষায় “গায়া” হলেন ধরিত্রী মাতা)।প্রযুক্তির অপপ্রয়োগ,প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার,অবক্ষয় প্রাণের অস্তিত্বের সঙ্কট সৃষ্টি করেছে।দিনকে দিন কমছে বাইগ্রাস্ ল্যাট্রা, অ্যানাসজি বেরিফ্রন্স অ্যালবোগুলারিস,ক্যালোনাস্ নিকোবোরিকার সংখ্যা।

উপযুক্ত উন্নয়নমূলক ব্যবস্থাপনা এবং দারিদ্রের দরুন প্রাকৃতিক বনসম্পদ আজ বিপন্ন।ধুঁকছে ” পৃথিবীর ফুসফুস ” ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্ট। জ্বালানীর প্রয়োজনে,শহরায়নের প্রয়োজনে, শিল্পায়নের প্রয়োজনে,শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে কাঠের যোগান দিতে গিয়ে প্রায় ফাঁকা হয়ে আসছে এই বিশাল বনভূমি।

পৃথিবীর পিছিয়ে থাকা মানুষদের উন্নয়ন না করলে এই অবক্ষয় ও অবনমন চলতেই থাকবে।দারিদ্রের দরুন পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদে হাত পড়ছে,নির্বিচারে চলছে গাছকাটা।চলবে নির্বিচারে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ।সেটা না হলে পদযাত্রা করে,মোমবাতি মিছিল করে,সবুজ বাঁচানোর আর্জি লেখা টি শার্ট পড়ে,পথনাটিকা করে,সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপ্লবের প্লাবন তুললে আর যাই হোক বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা যাবে না।

অনির্বান ভট্টাচার্য

অনির্বান ভট্টাচার্য

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *