“নাহয় একটু বেহিসেবি হোতাম” লিখেছেন, তন্দ্রা বিশ্বাস(বাংলাদেশ)

La-muerteমাঝে মাঝে একটু বেহিসেবী হলে মন্দ কি?  যদি আনন্দ মেলে।  আকাশটার আজ মন খারাপ।ধূসর মেঘের চাদরে ঢেকে রেখেছে নিজেকে। মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টির ঝাপটা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় আনমনে। বারান্দায় বসে আকাশ দেখছি, ঘোলাটে অন্ধকার। বহু….বহুদিন হয় তারা ভরা আকাশ দেখা হয় না। খোলা আকাশের নীচে বসে দেখা হয় না নক্ষত্রের আল্পনা।  কি নিখুঁত সুঁচের ফোঁড়ে জন্ম নেয় নীলাভ জমিনে রুপালী তারার নকশী কাঁথা। আমাদের গ্রামের বাড়ির ছোট্ট ছাদটা ছিলো এই খুব সাধারন মেয়েটার বিশাল সাম্রাজ্য।  আমার সকল সুখ- দুঃখের সঙ্গী ছিলো এই একফালি ছাদ আর তার মাথার উপর ছড়ানো ঐ বিশাল নকশী কাঁথার মতো রুপবতী আকাশ। যখনই একা হওয়ার ইচ্ছে জাগতো মনে তখনই চুপচাপ ছাদে উঠে যেতাম, কবিতা পড়তাম, গান শুনতাম। নিজের সাথে নিজেই গল্প করতাম কত্ত। আকাশ দেখতাম।  তারা গুনতাম। আমার মাথায় এই তারা গোনার নেশাটা ঢুকিয়ে দেয় তপু ভাই। তপুভাই,আমার মেজদাদা শুভর বন্ধু। আমার মেজদার মতই ছিলো আমার কাছে, জেমসের গান শুনতো খুব। দেখা হলেই জানাতো গুরুর কোন গানটা নতুন আসলো। এমনি এক রোজার দিনে সন্ধ্যার পর নামাজে  যাবার আগে কি এক কাজে যেন আমাদের বাসায় এসেছিলেন, সাদা পাঞ্জাবি – পাজামা আর সাদা টুপি পড়া শুভ্র চেহারার সেই তপুভাইয়ের চেহারাটা আজও আমি স্পস্ট দেখতে পাই। আকাশ নিয়ে কথা হচ্ছিলো, কি এক কথাপ্রসঙ্গে যেন  বলেছিলো জোছনা ভরা আকাশ দেখে কি মজা পাবি, আকাশ দেখতে হয় অন্ধকারে তারার আলোয়। ঘোর অমাবস্যায় চলে যাবি কালীপুর, সেখানে খোলা আকাশের নীচে বসে তারা ভরা আকাশ দেখবি, তখন বুঝতে পারবি আকাশ কতো সুন্দর। তপু ভাই, আমার ঘোর অমাবস্যায় কোনদিন কালীপুর গিয়ে খোলা মাঠে বসে তারা ভরা আকাশ দেখা হয়নি। কিন্তু যেদিন অসময়ে তুমি কোন পূর্বাভাষ না দিয়েই তোমার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার মাত্র কদিন আগে না ফেরার দেশে চলে গেলে। ঐ আকাশের তারা হতে সেদিন আমি আমার ঐ এক ফালি সাম্রাজ্যে গিয়ে হতবাক। এতো তারা  এতো তারা গোটা আকাশ যেন নক্ষত্রে খচিত। কি অদ্ভুত এক মায়াময় আলো।  তোমার হাসির মতই যেন তোমাকেই স্বাগত জানাতে তাদের মাঝে তাদের সমস্ত রূপ ঢেলে দিয়েছিলো অকৃপণ ভাবে। যেখানেই থাকো, ভালো থাকো ঐ আকাশের তারা হয়ে। তারার কথা হলে আজও তোমায় মনে পড়ে। এখনতো চাঁদ  তারা বৃষ্টি আকাশ দেখা মানে জানালার গ্রীলের ফাঁক- ফোঁকরে হাত বাড়িয়ে যতটুকু মেলে ধরা যায়। শশুড়বাড়ি ছাদে ওঠা বারণ।  ইচ্ছে করলে নিয়ম ভাঙ্গা যায় কিন্তু উৎসাহ পাই না। কাছের লোকেরা মজা করে আমাকে বলে আমি নাকি ভাদ্যাইমাগিরীর দীক্ষা দিতে ওস্তাদ। গুরু । অনেকের মনেই নাকি এই জল জোছনা, আকাশ আর রাস্তার নেশা ধরিয়েছি। সেই আমি শত চেষ্টাতেও আমার পতিদেবের মনে এই নেশা ঢোকাতে পারিনি ।  তিনি অনড়।  কি এমন ক্ষতি হতো যদি নেশা ধরতো একটু এসবে?  তবে কার কি লাভ ক্ষতি হতো জানি না। আমার লাইফটা সিম্পলী মিষ্টি হয়ে যেতো। এসবই হচ্ছে বেঁচে থাকার টক— ঝাল— নুন।  বড় আলুনি লাগে জীবন। তাই বলি মাঝে মাঝে একটু নিয়মের বাইরে যাও। খুব ক্ষতির কিছু নাই। লাভ অনেক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *