“দুঃসাহসী শিকারি জিম করবেট”

Corbett4ফিচার টেবিলঃ  জিম করবেটের পুরো নাম এডওয়ার্ড জেমস করবেট। যাকে আমরা জিম করবেট নামে চিনি।জিম করবেট ১৮৭৫ সালের ২৫ জুলাই ভারতের নৈনিতালে জন্মগ্রহণ করেন।
আইরিশ বাবা ক্রিস্টোফার গার্নি ও মা মেরী জেনের চতুর্থ সন্তান জিম।ক্রিস্টোফার গার্নি নৈনিতালে পোস্টমাস্টারের চাকরি করতেন।করবেট চার বছর বয়সেই বাবাকে হারান।

করবেটের শিকারি জীবনের সূচনা দাদা টমের হাত ধরে অত্যন্ত ছোটবেলায়। বড়ো হয়ে নামকরা শিকারি হয়ে উঠলেন। শিকারি হিসাবে খ্যাতি পাওয়ার পরও তিনি তার রোমহর্ষক শিকার কাহিনি একদমই প্রচার করতে রাজি ছিলেন না। কিছু নিকট বন্ধুর অনুরোধে, বিশেষ করে শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য লিখতে শুরু করেন।১৯৪৬ সালে তার প্রথম বই ‘ম্যান ইটার্স অব কুমায়ূন’ বইটি প্রকাশিত হয়। এই বইটি সাড়া বিশ্বে এতো জনপ্রিয়তা পায় যে পাঠক ও প্রকাশকদের অনুরোধে আবার লিখতে শুরু করেন। ১৯৪৮ সালে বই প্রকাশ হোল ‘ম্যান ইটিং লেপার্ড অফ রুদ্রপ্রয়াগ’, ১৯৫২ সালে ‘মাই ইন্ডিয়া’, ১৯৫৩ সালে ‘জাঙ্গল লোর’, ১৯৫৪ সালে ‘দ্য টেম্পল টাইগার অ্যান্ড মোর ম্যান
ইটার্স অফ কুমায়ন’ ইত্যাদি অসাধারণ সব শিকার কাহিনী।

১৯০৭ সালে তিনি প্রথম মানুষখেকো চম্পাবতের বাঘিনী শিকার করেন।জিম তার সমগ্র শিকারি জীবনে অনেক মানুষখেকো বাঘ মেরেছেন কিন্তু কোনদিনও  নিছক শিকারের রোমাঞ্চ আর আনন্দ পাবার জন্য প্রাণী হত্যা করেন নি। তিনি শুধু সেইসব প্রাণীকেই শিকার করেছিলেন যারা মানুষের জন্য মূর্তিমান ত্রাস হয়ে উঠত। জন্তু জানোয়ারের আচরণ সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান,শিকারের চাতুর্য ও দুরন্ত সাহসকে সম্বল করে জিম নিজেকে শিকারি মহলে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।

মানুষখেকো শিকারে যখন সব শিকারি ব্যর্থ হতো তখনই ডাক পড়তো জিম করবেটের।তিনি বরাবর এলাকাবাসী ও সরকারের অনুরোধেই একমাত্র শিকার করতেন।১৯৩৮ সালে এক মানুষখেকো বাঘিনীকে শিকার করার পর তিনি তার বন্ধুক বরাবরের জন্য তুলে রাখেন। জিম তার সারা জীবনে শুধু যে শিকারই করে গেছেন এমনটা নয়। বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণেও তার বিরাট ভূমিকা ছিলো। আজও তার শিকার কাহিনির বই বিশ্ব বইয়ের বাজারে গরম কেকের মতো বিক্রি হয়–আজও ভারতের জঙ্গলে জঙ্গলে ধ্বনিত হয় তার নাম।

১৯৪৭ সালে জিম করবেট আফ্রিকার কেনিয়ার অন্তর্গত নিয়েরিতে চলে যান।
সেখানে বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৫৫ সালে কেনিয়াতে থাকার সময় ‘ট্রি টপস’ নামের বইটির লেখা শেষ করেন।এপ্রিল ১৯, ১৯৫৫ সালে তিনি মৃত্যুবরন করেন। আজও ভারতীয় মানুষরা ভারত প্রেমিক এই বিখ্যাত শিকারিকে স্মরন করে। ভারতের এক বিখ্যাত অভয়ারণ্য তার নামাঙ্কিত- জিম করবেট পার্ক। ভারত সরকার তো তাঁর বাড়িটাকে জাদুঘরে রুপান্তরিত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *