“জয় মা,উড়োচিঠী”– সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

21917058809_df27eeafaa_bএবছরের মহালয়াযোগ অন্যরকম, প্রায় ১৫০ বছর পর এমন তিথি। তন্ত্রমতে বড়োই পবিত্র। যদিও পিতৃপক্ষের অবসানে আলোর বেণু বাজার সাথেই ভূবন মেতে ওঠে মাতৃপক্ষের শুরুর, তাঁর আরাধনায়।
ত্যাগ আর ভোগের সম্বন্বয় আর তিতিক্ষার দিশারী আদ্যাশক্তি মহামায়ার আগমনী। সূচনা দেবীপক্ষের।
“অয়ি গিরী নন্দিনী” বড়ো আদোরের তপস্যার সন্তান পার্বতী, বড়ো কঠিন সাধনায় ঊমা, স্বর্ণ চক্ষুর অধিকারী সোনাক্ষী, শিব অর্ধাঙ্গীনি শিবাঙ্গী, মাতৃ স্বরূপা জগন্মাতা, দূর্গম দৈত্য বিনাশীনি দূর্গা, মাহিষাসুর দলনী মহিষাসুরমর্দীনি, পতিনিন্দা প্রতিবাদী সতী, গরবীনি গণেশ জননী, কার্তিকেয় ষ্কন্দমাতা, ভয়ঙ্করী কালরাত্রি, সর্বপরি ঘরের মেয়ে বৎসরান্তে বাপের গৃহে আগমন।
মর্তে সাজো সাজো রব, মা আসছেন। প্রস্তুতি চলছে চূরান্ত। বাস্তব কল্পনা স্যোশাল সাইটের ট্রল সব মিলিয়ে উৎসব সার্বজননী রুপ পেতে উন্মুখ।

অনেকেই বললেন মাটির দূর্গা, বাস্তবের দূর্গা ইত্যাদি ইত্যাদি। মা মানেই দূর্গা, মেয়েও দূর্গা। ঠিক তাই। মাকে সম্মান করুন সেবা করুন, বাস্তব অভিজ্ঞতা সব বিপদ কেটে যাবে। জীবন্ত দূর্গা যে গর্ভধারীনি। যদিও সেবা কর্ত্তব্য সব পালনের পরেও আজও জেদ করলে ঝাঁটা আর তর্ক করলে গরম খুন্তি ছুরে মারেন মা জননী, আমার মতে ওটাই আশীর্বাদ তবে যারা এটা পরখ করতে চাইবেন বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ মাথায় রাখবেন। আর কন্যা সন্তান যার গৃহে আলো করে আসেন জানবেন সহস্র জনমের সুকর্মের ফল। মালামাল যাকে বলে, এটাও বাস্তব অভিঞ্জতা। যারা কন্যা ভ্রুণ হত্যা করে আসুন না সবাই মিলে তাদের দড়িকলশী সরবরাহ করি বিনামূল্যে।

খুব ছোটবেলায় মহালয়ার অভিঞ্জতা মানে ভোর ভোর মা ডেকে তুলতেন আমাদের, রেডিওতে চলতো বীরপুরুষ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চন্ডীপাঠ, মা ঘর ঝাড়তেন বাবা বাপুজি দুটো কেক এনে আমাদের তিন ভাইবোনকে ভাগ করে দিতেন, বেলায় বাবা মার সাথে জামা কাপড় কিনতে যেতাম। দিন গরিয়েছে রেডিও থেকে টিভিতে সম্প্রচারিত হয়েছে আর এখন তো এইচ ডি জামানায় বিভিন্ন চ্যানেলে বিভিন্ন দূর্গা মহিষাসুর বধ করছেন তবে ছোটো বেলার সেই হাফ বাপুজি কেক মহালয়া আর ফিরে আসেনি জীবনে।

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *