চিঠি লেখা কি অবলুপ্ত হতে চলেছে? (পর্ব-২) (লেখক- অনির্বাণ ভট্টাচার্য)

12669441_488874214630981_8736521561867880527_nদৈনিক সংবাদ পত্রগুলি সম্পাদকীয় কলামের আসে পাশে তবু কিছু  চিঠিপ্ত্র প্রকাশিত হতে দেখা যায়,অবশ্য তার মধ্যে বেশ কিছু বলিষ্ঠ লেখা থাকে, সংরক্ষণযোগ্য তথ্য থাকে। এতো গেল গতানুগতিক চিঠিপত্রের পরিসর, কিন্তু স্বহস্তে লেখা চিঠি,তাতে পারিপার্শ্বিক খোঁজ খবর দেওয়া, পরিজনদের কুশল সংবাদ পরিবেশন করা, সমস্ত কিছুর মধ্যে যে মমতা, গভীর অনুভূতি, পরামর্শ, সহৃদয় হৃদয়বত্তার বহিঃপ্রকাশ দেখা যেত, কালক্রমে তা হারিয়ে গেছে। চিঠি লেখার বিষয়ে আসার আগে বলি, চিঠি লেখার কতকগুলি পর্ব আছে। যেমন কি দিয়ে চিঠি লেখা হত? কি ভাবে চিঠি পাঠানো হত ইত্যাদি।

যতদূর জানা গেছে পৃথিবীর প্রথম হাতে লেখা চিঠিটি পারস্যের (ইরান) ইরান রানী আটোসসা (ATOSSA)-র । এটি লেখা হয়েছিল আনুমানিক পাঁচশো খ্রিস্ট পূর্বে, সে যুগে পারস্যে এক নাগাড়ে একশো মাইল দৌড়তে পারে এমন ঘোড়াতে করে ‘বার্তা’ পাঠানো হত। ঘোড়া ক্লান্ত হলে, সেখান থেকে আবার নতুন তরতাজা ঘোড়া করে বার্তা পৌঁছনোর জন্য দৌড়নো শুরু হত। খ্রিস্টের জন্মের বছর ছয়েক আগেও প্রাচীন গ্রীসে খবরাখবর পত্র মারফত আদান প্রদান করার জন্য রীতিমতো দৌড়ের প্রতিযোগিতা করে শ্রেষ্ঠ দৌড়বীরকে বার্তা বাহকের কাজে লাগাত। আরবে আবার অনেক আগে থেকেই পায়রার মাধ্যমে চিঠি-পত্রের চিঠি-পত্রের রীতি প্রচলিত ছিল। বিখ্যাত রোম সম্রাট জুলিয়াস সিজার প্রথম ঘোড়াগুলির বিশ্রাম এবং পরিবর্ত ঘোড়াগুলোর আশ্রয়ের জন্য “পোস্ট হাউস” তৈরি করান। অবশ্য রোম সাম্রাজ্য ধ্বংস হবার পরে সেই পোস্ট হাউসগুলো নষ্ট করে দেওয়া হয়। সে সময়ে প্রধানত সম্রাট বা রাজার দূতরা হাতে হাতে পত্র নিয়ে আসত। অবশ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দূতের পরিনতি হত মর্মান্তিক। সত্য খবর আনার জন্য তার শিরোচ্ছেদ থেকে যাবজ্জীবন কারাবাসের শাস্তি ভোগ করতে হত। দুর্মূল্য ঘোড়া, বস্ত্র, অস্ত্রশস্ত্রের জন্য বার্তাবাহককে পথমধ্যে চুরি, ছিন্তাই বা ডাকাতির কবলে পড়তে হত। এই সম্ভাবনার থেকেই মানুষের পরিবর্তে ঘোড়া, পায়রা প্রভৃতি জীবজন্তুর বিশেষ দক্ষতাকে কাজে লাগানোর প্রথা প্রচলন হয় । ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে মহারাণী ভিক্টোরিয়ার মাধ্যমে প্রথম স্ট্যাম্প সহ চিঠিটি প্রেরনের আগে চিঠি পাঠানোর কোন সুনির্ধারিত মুল্য ছিল না। ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে আনুষ্ঠানিক ভাবে পোস্ট অফিস চালু হয়। ফল হয় হাতে নাতে। গোটা ইউরোপ জুড়ে শিক্ষার কদর বাড়ে। প্রথমিক শিক্ষা গ্রহনের আগ্রহ বাড়ে পাল্লা দিয়ে। অশিক্ষা দূরীকরণের সূচনালগ্নে পত্ররচনা ও পত্রপাঠ এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল, একথা স্বীকার করতে বাধা নেই। সুইডেনের মানুষের মধ্যে শিক্ষিতের হার একশোশতাংশে পৌঁছয়। ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ইউরোপের অনেকগুলি দেশে প্রথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *