গল্প #প্রকৃত সুন্দরি পাত্রী# লেখিকা, সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

277985-sucideছেলের বাড়ি থেকে আসা সকলেই কেমন হাঁ করে তাকিয়ে ছিল। ছেলের গরবিনী মাতার গোলগাল চেহারা । কপালে বড় করে আঁকা লাল সিন্দুরের টিপটাই বলে দিচ্ছল উনি কতটা সৌভাগ্যবতী। পানের রসে ভেজা টুকটুকে লাল ঠোঁট। সোনার বাউটি পরা হাতটা নেড়ে এমন ভাবে মুখ ঘোরালো যেন কৃষ্ণাকে নয় কোন কালো মাছি বা পোকাকে উড়িয়ে দিলেন।

ছেলের মা: তা রুপতো দেখলাম,যাকগে কি আর করা যাবে,আমার আবার দয়ার শরীর।তা রান্নাবান্না, সেলাই, আর সব ঘরকন্নার কাজ জানতো-না কি?
কৃষ্ণার মা: পারে দিদি,  সব আমি নিজে হাতে শিখিয়েছি। পড়াশুনাতেও তো খারাপ নয়। এ বছরই গ্যাজুয়েসান শেষ করলো। ইতিহাসে অর্নাস নিয়ে।

ছেলের মা: সবই তো বুঝলুম তবে কিনা আমরাতো আর মাস্টারনি র্খুঁজতে আসিনি, এয়েছি বেটার বউ খুঁজতে। আর আমার রবে হল সোনার টুকরো ছেলে। বড় ব্যওসা ধান কলও আছে। এই তো সেদিন পাশের গাঁয়ের দাসেরাই তো বললো নগদ এক লাখ আরও গয়নাগাটি পাওনা সবই দেবে। তবে ঐ যে বললুম আমার দয়ার শরীর আর আপনার মেয়েরোতো গতি হচ্ছেনি তাই। নয়তো রুপ দেখেতো ডুব দিতে…..তা যাই হোক আপনারা ঐ দু লাখ ই না হয় দেবেন আর ছেলের চেন, আংটি, বোতাম। মেয়ের হাতের, কানের, গলার। খাট আলমারি মেয়ের ঘরের জন্য টিভি আর আমার রবে কে একটা মোটরসাইকেল।
চাঁপাডালির রবীন্দ্রনাথ ঘোরুই আর তার বাবা মা সবাই চলে গেছে। অতিথি আপ্যায়নের  আয়োজনের সবটাই ওনারা স্বদব্যবহার করে গেছেন। আশার কথা তেমন কিছু শোনাননি। কৃষ্ণার বাবা দিলীপ চন্দ্র দও। ওনার আর্থিক সঙ্গতি তেমন কোথায়? চাকরি আর মাত্র দু বছর। চাপা গায়ের রঙ অবিবাহিতা মেয়েকে নিয়ে তার দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। যদিও কৃষ্ণার বিয়ের তেমন ইচ্ছে নেই। নিমরাজি হয়েছে, আসলে দু বউদি তাকে গলগ্রহ মনে করে। পাত্র পক্ষ তাকে নাকচ করেই যাচ্ছে আর সে চাকরির পরীক্ষা দিয়েই যাচ্ছে।

বড় বউদি: হাঁগা ঠাকুরঝি বলি বাজারে কিসব ফর্সা হওয়ার ক্রীম স্নো পাওয়া যায় সেগুলো মাখলেওতো পার- নাকি।
ছোট বউদি: কি যে বল দিদি তুমি, কয়লাকে যে দুধে চুবোলেও ফর্সা হবে নাকো।দু বউ মুখ টিপে হাসতে লাগলো।

বড়বউদি: এই নাও দিকিনি এই বাটিটা ধরো। রেতে শোওয়ার সময় মুখে গায়ে হাতে মেখো। ওমা হাঁ করে দেকচ কি। এ হল রুপসুদ্ধি পাতা বাটা তাতে হলুদ আর গোলপ পাপড়ি দেছি। তুমি আর শাউরি মা তো আমাদের শত্তুর মনে ঠাওরাও।

ছোট বউদি: অপমানে আমাদেরও লাগে গো যখন সব পাত্রই তোমায় বাদ দে দেয়।

কৃষ্ণা রান্নাঘর থেকে চলে যাওয়ার পর দু বউ হেসে গড়িয়ে পড়ল। পাতার মধ্য যে বিচুটি মেশানো ছিল।
পরের দিন কৃষ্ণার মুখ গা হাত পায়ে বড় বড় ঘা হয়ে গেল।
কৃষ্ণার মা সারাদিন সেদিন কেঁদেছিল। “ওমন শান্ত মেয়েটা কার কি ক্ষতি করেছে যে সবাই ওকে এমন করে যাতনা দেয়। কেন ও জন্মাল ঠাকুর”?
সেদিন রাতে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিল কৃষ্ণার মা। ভাবছিল, তুই পেটেই বোধহয় ভালো ছিলিরে মা।

কৃষ্ণার বাবার মৃতদেহ শোয়ানো আছে উঠানে। কাল রাতে উনি মারা গেছেন। বাড়ি ভর্তি পাড়াপ্রতিবেশী আত্মীয় স্বজন। কৃষ্ণার মা পাথর হয়ে গেছেন। বুক ফাটা কান্নায় যখন কৃষ্ণা বাবার বুকের ওপর আছারড় খাচ্ছে তখন ধীর পায়ে মেয়েকে বুকে টেনে নিলেন। মা তো বুঝলেন এ যে শুধু পিতৃহারার কান্না নয় এ যে শিকড় ছেড়া ছিন্নমুল হওয়ার আতঙ্ক।

বড় বউএর বাপের বাড়ি থেকে তার ছোট মামা নৃপেণ এসেছে। ধুরন্ধর এই লোক শকুন নজরে চারপাশ যেন শুধু মাপছে। এর কাজ কর্ম তেমন নেই। লোক ঠকিয়ে দিন ভালই চলে যায়। বড়বউকে শুধু বুদ্ধি দিচ্ছে বাড়িটা কি করে নিজের নামে করে নেওয়া যায়।
কৃষ্ণা দুপুর বেলা নিজের ঘরে শুয়ে ছিল। তার মা নিচের তলায় কয়েকজন প্রতিবেশী এসেছেন তাদের সাথে কথা বলছেন। দু বউও এক তলার ঘরে। হঠাৎ বড় বউ এর মামা নৃপেণ ঘুমন্ত কৃষ্ণার ওপর ঝাপাল। ছিরে ফেললো কৃষ্ণার নাইটির ওপরের ভাগ। কামড়ে ধরলো তার ঠোঁট সাথে পা দিয়ে নাইটি ওপরের দিকে তুলতে লাগলো। কৃষ্ণার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে কৃষ্ণার স্তনে কামড় দিল। মুখ বন্ধ কৃষ্ণা ঝটপট করতে করতে তার হাত লেগে খাটের পাশে রাখা টেবিলের ওপর জলের গ্লাশটা মেঝেতে পড়ে গেল। সম্পুর্ণ নগ্ন নৃপেন কৃষ্ণার মুখ চেপে ধরে সারা শরীরে জিভ বোলাচ্ছিল। হঠাৎ ঝনঝন শব্দে কৃষ্ণার মা বউদিরা দৌড়ে ওপরে গেল। এদিকে নৃপেণ কৃষ্ণার শরীরে উপগত হওয়ার মুহুর্তে কৃষ্ণার মা বউদিরা হুড়মুড় করে  ঘরে ঢুকল।

কৃষ্ণার বড় বউদি তার স্বামীকে ডেকে বলে দিল “তোমার বোনের চরিত্রি খারাপ। ঠিক বয়েসে ঠিক জিনিস না পেয়ে তার মাথা গেছে। আমার ওমন সচ্চরিত্তির মামার বদনাম করে ছাড়লো গা। তোমার বাবার কাজ শেষ হলেই ওদের এ বাড়ি থেকে বিদেয় করবে এই বলে রাখলুম বুয়েছো?”

না সেটা তারা পারেনি। কারণ বাড়ি কৃষ্ণার মায়ের নামে। এর মধ্যে কৃষ্ণা কলকাতায় চাকরি পেয়েছে। তার বয়সও প্রায় ত্রিশের কোঠায় হতে চললো। সে সংসারে টাকাও দেয় তবু তার মাকে একজন ঠিকে কাজের লোকের বেশী ভাবেনা তার দাদা বউদিরা। কৃষ্ণা কতবার তার মাকে বলেছে “চলোনা মা আমরা কলকাতাতেই ঘর ভাড়া করে থাকি, বাড়ি ওদের দিয়ে দাও তুমি”।
তার মা রাজী হয়নি কারণ তার মা ভাবে দাদা বউদিরা যতই যাতনা দিক তবু তারাই কৃষ্ণার সহায়। আজ বাদে কাল তিনি মারা গেলে কৃষ্ণার কি হবে।কিন্তু তিনি, কৃষ্ণার বউদিরা সবাই সেদিন ছিলেন বাড়িতে তবুতো কৃষ্ণাকে ঐ নৃপেণ জানোয়ারটা আর একটু হলেই…… ..নারীর শরীর সে যে বড় বালাই। রুপ যাই হোক।
কৃষ্ণা ভাবে তার গায়ের রঙ চাপা কিন্তু একজন পুর্ণ যুবতীর যা যা থাকে তারও তাই আছে। সে বরাবরই একটু ভরাট চেহারার। ষোলো বছরেই তাকে মনে হত বাইশের যুবতী। সে দিন বৃষ্টির সন্ধ্যে অঙ্কের কোচিং এ কেউ আসে নি। সে বরাবর অঙ্কে কাঁচা তাই কামাই করতো না টিউশান ক্লাশ। ফাঁকা কোচিং ঘরে মাস্টার মশাই উপপাদ্য বোঝাতে বোঝাতে হঠাৎ বললেন “আয় তোর জ্যামিতিক মাপটা একটু দেখি” বলেই দেওয়ালে ঠেসে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে এক হাত ঢুকিয়ে দিল টপের ভিতর আরেকটা হাত প্যান্টির নিচে গিয়ে পাগলের মত…
শরীরের সর্ব শক্তি দিয়ে তাকে ঠেলে ফেলে দিয়ে কোন মতে দৌড়ে বাড়ি এসে দম নিল। আর আধবুড়ো নৃপেন তো সেদিন তাকে…যগি না মা বৌদিরা ঠিক সময় এসে পড়তো তবে আজ তার গায়েও ধর্ষিতার ছাপ লেগে যেত। অবশ্য কমও তো কিছু লাগে নি কাদা। গাঁ ঘরে চাউর হয়ে গেল দুপুর বেলা কৃষ্ণাই নাকি নৃপেণকে ভুলিয়ে ঘরে ডেকেছিল। যদি ওকে ফাঁসিয়ে বিয়েটা করে নেওয়া যায়। রাতে মা যখন তার রক্তজমা ঠোঁটে আর নখেদাঁতে দগদগে হওয়া বুকে বোরোলিন লাগাছিল হঠাৎই সে তার মায়ের হাতটা চেপে ধরে বললো “থাক মা দাগটা থাকুক। নিজের কাছে এটুকু প্রমাণ থাক জীবনে অনন্ত কোন  পুরুষ তার শরীরটাকে আর্কষণীয় মনে করেছিল।”
তার মা পাথর হয়ে গিয়েছিল।  সত্যি তো তার মেয়ের গায়ের রঙটা চাপা কিন্তু চোখ মুখ টানাটানা যেন দুগ্গা প্রতিমা। আসলে তার স্বামীর আর্থিক সামর্থ আর তার কপাল তাই আজ তার মেয়ের এই অবস্থা। না হলে তার বড়ো ছেলের বাজারে মাছের ব্যবসা ছোট ছেলের বড় মনহারির দোকান তার স্বামীর পেনসান তার গয়না সব মিলিয়ে ঐ একটা মাত্র মেয়েকে একটু ভাল পাত্রস্থ করা যেত না কি?
এখন কৃষ্ণার মা দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবু মেয়ের কথা মত বাড়ি ছেড়ে শহরে গিয়ে থাকবে না। এ তল্লাটও দিনকে দিন কেমন বাজে হয়ে উঠছে। তার মেয়েটার বাড়ি ফিরতে ফিরতে প্রায় রাত আটটা বাজে। এপাড়ায় আজকাল মদ জুয়ার আসর বসে যায় সন্ধ্যা নামতেই।রোজ কৃষ্ণার মা বড় দুশ্চিন্তায় থাকে মেয়েটা না বাড়ি ফেরা অবধি।
আজ দুপুর থেকেই মুষল ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে।  সন্ধ্যায় বৃষ্টি ধরছে কিন্তু  বারাসাত লাইনের ট্রেনে প্রচুর ভীড়। কৃষ্ণা ষ্টেশনে নেমে বাইরে এসে দেখে একটাও রিক্সা নেই। হাত ঘড়িতে দেখল দশটা বাজে। হেঁটেই ফিরছিল, চৌরাস্তা পেরোতেই আমবাগানের সামনে পাড়ার উঠতি মস্তান গণেশ দুলুই  ধরল তাকে “কে গো তুমি সুন্দরি এতো রেতে একাকিনী অভিসারে!”
জড়িয়ে ধরে কৃষ্ণাকে টেনে হিচড়ে নিয়ে গেল আমবাগানে। কৃষ্ণা কোন বাধা দিল না। কেন? স্বেচ্ছায় সমর্পন? কেন? শারীরীক চাহিদা পুরণ?
কৃষ্ণা জগত।আসলে পরিচিতজনকে বোঝাতে চাইছিল পুরুষের কাছে তারও দাম আছে, সেও আকর্ষণীয়। ঐ মদপ্য লোকটি গণেশ যখন তার ব্লাউজটা ছিঁড়ে দিল তখনতো সে পারত সজোরে ধাক্কা মারতে, টান মেরে শাড়ীটা খুলে ছুড়ে দিল, যখন তার সায়ার দড়িটা টান মেরে খুলে দিল তখন তো সে পারত সজোরে লাথি মেরে তাকে ফেলে দিতে। যখন লোকটি নিজেকে পুরোপুরি কৃষ্ণার ওপর মেলে দিল কৃষ্ণাতো পারতো আঁচড়ে কামড়ে ক্ষত বিক্ষত করতে লোকটাকে, এসব না করে স্বেচ্ছায় অত্যাচার সহ্য করল।
ভোরের আলো ফুটছে সবে সবে। কৃষ্ণা বুঝতে পারছে তার মা মাথা কুটছে, বড় বৌউদি বলছে “মিটেছে তো শিক্ষার গুমোর”, ছোট বৌউদি বলছে “চাকরি না ছাই শরীর বেচেইতো খেত”।

কৃষ্ণা কিছুই বলছেনা শুধু তার শরীরটা সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলছে।
সুরতহাল করতে পুলিশ এল ।

ডিউটি অফিসার : তা দেখতে শুনতে তো মন্দ নয় বরং মুখশ্রী তো বেশ সুন্দর বিয়ে তো দিতে পারতেন ? কেন যে রাত বিরেতে এই এলাকায় সুন্দরী মেয়েরা বেরোয়। জমাদার বডি তোলো।

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *