কেন্দুলি মেলা(প্রসঙ্গ- অনুষঙ্গ- অপ্রাসঙ্গিকতা )(৭তম পর্ব)(লেখক- অনির্বাণ ভট্টাচার্য )

011(৭তম পর্ব)   কবি শ্রী অরুন চক্রবর্তীর

পৃষ্ঠপোষকতায়,প্রখ্যাত গবেষক শক্তিনাথ সা এর সক্রিয় সহায়তায় এই সংগ্রহশালা সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।আগে থেকে জানিয়ে আসলে মেলা চলাকালীন থাকার বন্দবস্ত হতে পারে “ভক্তিভবনে”।

জয়দেবে একটি স্থায়ী বাজার প্রাঙ্গন আছে,১৯৯৯ সালে তৎকালিন কৃষিমন্ত্রী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন,পরের বছর পয়লামাঘ বাউল সম্রাট ‘পূর্ণদাস’ বাজার উদ্বোধন করেন।তবে বাউলমেলা কতটা বাউল কেন্দ্রিক হয়েছে বা প্রকৃত সাধনপিঠ হয়ে উঠেছে সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে। কেননা মঞ্চ বেঁধে, মাইক্রোফোন হাতে, সাউন্ডমিক্সিং যন্ত্র নিয়ে, ডি,জে বক্স সঙ্গী করে আধুনিক বাউলরা গান গাইছেন,গানের মাঝে তার চলভাষ নম্বর থেকে গ্রাহকের সঙ্গেও কথা বলছেন। বাউলের সঙ্গীরা হ্যান্ডবিল ও ভিজিটিং কার্ড বিলি করছেন। ঢুলু ঢুলু চোখে শ্রোতারাও আমোদিত ভঙ্গিতে ঝোলায় ঢোকাচ্ছেন। কখনও কখনও অতি উৎসাহে স্রোতরা মঞ্চে উঠে বাউলের জোব্বা বা আলখাল্লার সঙ্গে সেফটিপিন দিয়ে টাকা গেঁথে আসছেন।গায়ক বাউলও উৎসাহিত হয়ে চটুল আধুনিক গানের সুরে রসের কথা বসিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করছে, উদ্দাম ছন্দে বাজছে সিন্থেসাইজার, অক্টোপ্যাড,হ্যান্ডসানিক, ব্যাঞ্জর মত যন্ত্র। রাত যত বাড়ে সুর আর সুরার প্রভাব শ্রোতাদের ঊর্ধ্ববাহু ও কোমর দোলানো দেখেই মালুম হয়। কোনো গান শুরু করে তারপর “সঞ্চারী” “অন্তরা” হয়ে শেষে “স্থায়ী”তে কেউ কেউ পৌঁছচ্ছে , কেউবা স্থায়ী অংশ বাদ দিয়ে সোজা অন্তরা থেকে শুরু করছে. কতটা অজ্ঞতা আর কতটা আধুনিকতা সেটা বুঝতে বেশী পরিশ্রম করতে হয় না। একটা আদ্ভুত ব্যাপার শ্রবণে আসে, কোন কোন গায়ক গায়িকা একটা গানের “স্থায়ী” থেকে অন্য গানের “অন্তরাতে” যাচ্ছেন।গানের যে সব অংশে রস বেশ গাড় বা সুরের মায়াজাল বোনা গেলে শ্রোতারা “খাবে”সেটা গায়ক গায়িকারা মোটামুটি বুঝে গেছে… এক কথায় “কমপ্লিট প্যাকেজ”।যে আখড়ায় ঢোকার মুখে জমাট ভিড়, বুঝে নিতে হবে প্যাকেজিং এখানে বাকিদের থেকে ভাল। এর মাঝেও তমালতলীতে সত্যনন্দ,অনাথদাস,তারকদাস,লক্ষণদাস অথবা মনের মানুষ আখড়ায় মোমের আলোয় নির্ভেজাল বাউল সঙ্গীত পরিবেশিত হয়, শুধু মাত্র একতারা,তবলা,খোল,ডুগী বা গমক নিয়ে, সত্যি, ওই আবেশ ভোলা যায়না।তখন বার বার ফিরে আসতে ইচ্ছে করে। হয়তো পরের বার আরও কিছু পাবো।

(ধারাবাহিক)

026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *