“কলকাতা কলকাতাতেই থেকে গেল”(ধারাবাহিক-২ পর্ব) হোসেনুর রহমান।

durgapuja15 (1)এবার বিনিময়ের ওপর জোর দিতে হবে।এদেশে পাকিস্তানের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা আসবে।অনুরূপভাবে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা পাকিস্তানে যাবে।তাহলে একদিন আমাদের দেশের মেয়েরা দেখবে পাকিস্তানের মুসলমান মেয়েরা কতটা উন্নত,প্রগতিবাদী এবং সমস্থ অর্থে আধুনিক।আমরা কখনো কখনো পাকিস্তানের নায়িকাকে টেলিভিশনে দেখে চমৎকৃত হয়েছি।তখনি ভেবেছি আমাদের দেশের বিশেষত পশিমবঙ্গের মৌলভিরা মুসলমান মেয়েরা এরকম হয় না কেন?কে কিংবা কারা এদের বাঁধা দিয়েছে।শুনতে পাই রাতের অন্ধকারে ওপার থেকে মৌলভিরা এপারে আসে।তারা নাকি এখানে মুসলমানদের খাঁটি মুসলমান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে যান।এদের কাছে পাসপোর্ট ভিসা থাকে?আদৌ নয়।ওরা মৌলভি এই তো জথেস্ত।ভারতবর্ষে কি কিছু কম মৌলভি আছেন?তারা কি আমাদের যথেষ্ট মুসলমান হবার সৎ পরামর্শ দিতে পারেন না।

jorasanko

কিংবা দিচ্ছেন না।নাকি এটা একটা আলোচনার বিষয় হতে পারে।এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল জনৈক পাকিস্তানী সম্ভ্রান্ত মহিলা এ দেশে এসেছিলেন ব্যক্তিগত কাজে,তার মধ্যে ঈদ পড়ল।কলকাতার পথে ঘাটে উৎসবমুখর মুসলমানদের দেখা গেল।এই দেখে ভদ্রমহিলা আনন্দে অস্থির হয়ে বললেন আপনাদের দেশে এভাবে মুসলমানেরা ঈদ পালন করে,না দেখলে তো বিশ্বাসই করতে পারতাম না।আমার প্রচণ্ড হাসি পেল।ভদ্রমহিলাকে বললাম ইন্দোনেশিয়ার পর এত মুসলমান কেবল ভারতবর্ষেই বাস করে।এবং এরা ঈদের দিন ঈদ উৎসব পালন করে।বোধকরি আপনাদের বোঝাতে/দেখাতে যে ভারতবর্ষে মুসলমান বকরিদের দিনে গরু কোরবানি দেয় তাই নয়,আজকাল আবার উটও আমদানি করছে।তাহলে প্রমান হবে যে তারা কত খাঁটি মুসল্মান।ভদ্রমহিলা যত শুনলেন, যত দেখলেন বিস্ময়ে হতবাক হলেন।এদিকে আমরাও কম অবাক হই না ওপারের মেয়েদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে।তারা যে আদৌ মোল্লাতন্ত্রের শাসনে মৃত্যুবরন করেনি কিংবা করবে না এটা আমাদের সময় লাগে বুঝতে।কারন পাকিস্তানের ধর্মতন্ত্র আমাদের বলে পাকিস্তানের মেয়েরা কোনমতেই স্বাধিন,মুক্ত,উচ্চশিক্ষিতা হতে পারে না।কিন্তু ঘটনাটা আদৌ তা নয়।অ-পারের মেয়েরা আমাদের দেশের মেয়েদের মতই স্বাধিন,মুক্ত,প্রেমিকা,গায়িকাতো বটেই।হ্যাঁ,ওপারের মেয়েদের দেখে বোঝা যায় কাকে বলে প্রগতি ও পরিবর্তন।শিল্প ও সাহিত্য তাদের জীবনকে এত সমৃদ্ধ করেছে,এত মহৎজীবন জিজ্ঞাসায় আনুষ্ঠানিক ধর্মতন্ত্রকে লোকতন্ত্রের কাছে পরাস্ত করেছে;আমরা এসব বুঝতে অনেক সময় নিয়েছি।

Maharshi_Bhavan_-_Western_Facade_-_Jorasanko_Thakur_Bari_-_Kolkata_2015-08-04_1665

এবার আর যেন এত সময় না লাগে একটা আসল কথা বুঝতে-কি এপারে কি ওপারে নর-নারী একই ভাষায় কথা বলে,একই ভাষায় মূর্তি গড়ে একই ভাষায় গান রচনা করে একই ভাষায় একে অপরকে আলিঙ্গন করে এবং বলে আমাদের একটা ভবিষ্যৎ আছে।

সেই ভবিষ্যৎ এক মহৎ মনুষত্বসাধনের নতুন ধর্ম।নতুন চেতনা।যে চেতনা বলে চল যাই একটা নতুন বিচিত্র,নতুন ধর্ম,নতুন দুর্গাপুজো,নতুন ঈদ,নতুন বড়দিন রচনা করি।এই নতুন উৎসবগুলিতে আগামিকালের মানুষ আজকের ছেলে মেয়েরা আনুষ্ঠানিক ধর্ম-কর্ম বিস্মৃত হয়ে রবীন্দ্রনাথের শিল্পকর্মকে নিজেদের নতুন ধর্ম বলে ঘোষণা করবে।রবীন্দ্রনাথ তাকেই মানুষের ধর্ম বলেছেন।আমাদের বোঝা দরকার রবীন্দ্রনাথ কেবলই কবিতা লিখলে আমরা কবিকে নিয়ে এত অস্থির হতাম না।রবীন্দ্রনাথের গান ও অসংখ্য ছোটগল্প(যেমন নস্তনির,ছুটি,খোকাবাবুর প্রত্যাবরতন)আমাদের মেরুদণ্ড তৈরি করে দিয়েছে।কলকাতাকে বাদ দিয়ে যেমন বাংলাদেশ তথা ভারতবর্ষ সম্পূর্ণ হতে পারেনা তেমনই রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে আধুনিক বাঙ্গালির কোনও অস্তিত্ব থাকে না।তাই বলছিলাম রবীন্দ্রনাথ কেবলই কবি নন।রবীন্দ্রনাথ অবিশ্বাস্য চিত্রকর এবং নিশ্চয়ই অবিশ্বাস্য সংগীত রছয়িতা।আমাদের দুঃখে,কষ্টে,বেদনায় আছেন রবীন্দ্রনাথ।শেষ পর্যন্ত তিনি চিন্তাবিদ,দার্শনিক,মানবতাবাদী এবং রবীন্দ্রনাথ কলকাতাকে বাদ দিয়ে নয়।কলকাতা রবীন্দ্রনাথকে নিয়েই বিশ্বের সেরা এক মহানগর।দিল্লি কিংবা মুম্বাই আমাদের সচকিত করে কিন্তু কলকাতার দরিদ্র মধ্যবিত্ত বাঙ্গালী কলকাতায় বসে সত্যজিত রায়কে বোঝে।ক্ষিতিমোহন সেনকে পড়ে এবং বোঝে এবং অবাক হয়ে যায় যে এমন এক মহাপণ্ডিত রবীন্দ্রনাথের সাহচর্য এবং বন্ধুত্ব লাভ করেছিলেন।

**পরের অংশ ক্রমশ প্রকাশ হবে।লেখাটি পড়তে চোখ রাখুন একবিংশ’র পাতায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *