কবিশেখর কালিদাস রায়…

1477380022777কবি, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্য-সমালোচক কালিদাস রায় ২২সে জুন ১৮৮৯ বর্ধমানের কড়ুই গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। রবীন্দ্রনাথের ভাবধারায় তিনি কাব্য রচনা শুরু করেন।প্রগাঢ় পল্লীপ্রীতির সঙ্গে রোমান্টিক রসকল্পনা এবং কবিতার সহজ, সরল ও অনাড়ম্বর ভাষার ব্যবহার কাব্য রচনাগুলিকে পাঠকদের কাছে আজও হৃদয়গ্রাহী করে রেখেছে। আখ্যানমূলক কবিতা রচনাতেও সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

কালিদাস রায় রচিত কাব্যগন্থগুলি : কুন্দ (১৯০৮), কিশলয় (১৯১১), পর্ণপুট (প্রথম ভাগ ১৯১৪, ২য় ভাগ ১৯২১), ব্রজবেণু (১৯১৫), বল্লব (১৯১৫), ঋতুমঙ্গল (১৯১৬), ক্ষুদকুঁড়া (১৯২২), রসকদম্ব (১৯২৩), লাজাঞ্জলি (১৯২৪), হৈমন্তী (১৯২৪), চিত্তচিতা (১৯২৫), আহরণী (সঙ্কলন ১৯৩২), বৈকালী (১৯৪০), ব্রজবাঁশরী (১৯৪৫), আহরণ (সঙ্কলন ১৯৫০), গাথাঞ্জলি (১৯৫৭), সìধ্যামণি (১৯৫৮), শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৬৪) এবং পূর্ণাহুতি (১৯৬৮)। কালিদাস রায়ের রচিত প্রবন্ধ পুস্তকের মধ্যে প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্য, বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয়, শরৎ সাহিত্য, সাহিত্য প্রসঙ্গ (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড) ও পদাবলী সাহিত্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার রচিত চণক সংহিতা, রঙ্গচিত্র ও চালচিত্র গ্রন্থ রম্যসাহিত্য হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

১৯২০ সালে রংপুর সাহিত্য পরিষদ তাকে ‘কবিশেখর’ উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৫৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’প্রদান করে। ১৯৬৩ সালে ‘সরোজিনী স্বর্ণপদক’ ও ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন। ১৯৬৩ সালে নিখিল ভারত বঙ্গ-সাহিত্য সম্মেলনের মূল সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ সালে ‘পূর্ণাহুতি’ কাব্য গ্রন্থের জন্য ‘রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার’ লাভ। এ ছাড়া বিশ্বভারতী ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি ও রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানচূক ডি-লিট উপাধি দেয়। ১৯৭৫ সালের ২৫ অক্টোবর কলকাতায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *