কবিতা- ‘ছেলেবেলা’, গৌতম বিশ্বাস

ratha-yatra-in-our-days-nature-and-passion-talk-more

দুষ্টুমিতে চূড়ান্ত বলে কিছু হয়

কিনা আজও জানিনা।

ছোট্টকালে তো কেবল দুষ্টুমিটাই জানতাম।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুষ্টুমির ধরন বদলেছে।

বদলেছে শারীরিক আকার আয়তন, মানসিক চিন্তাধারা।

আজ খুব মনে পড়ছে ছেলেবেলার রথের দিনের কথা।

হাফপ্যান্টের হুক আর বোতাম কিছুই থাকতো না।

কোন রকমে প্যান্টের দু-মুখ এক জায়গায় এনে জড়ো করে গিঁটের মতো করে আটকে রাখা।

স্বাস প্রশ্বাসের সঞ্চালন দ্রুত হলেই খুলে যেত।

আর সঙ্গে সঙ্গে একটি হাত দিয়ে প্যান্ট ধরে সম্ভ্রম বাঁচানোর চেষ্টা।

খোলা পোস্ট অফিসে প্যান্ট হাতে ধরে রাখতে পারলেই ইজ্জত রক্ষা।

বিকেল বেলার দিকে খুব মজা।

বাঁ হাতে প্যান্টের কোনা ধরে ডান হাতে একটা গোল পাঁপড় ভাজা নিয়ে ছুট।

ছুট ছুট ছুট।

এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার বৃথা চেষ্টা।

ছুটতে গিয়ে হাওয়ার সামান্য ধাক্কাতেই পাঁপড় পড়তো নিচে মাটিতে।

থেকে যেত ছোট্ট টুকরো হাতের মুঠিতে। ছুট যেত থেমে।

অবাক দৃষ্টি নিচে পড়ে থাকা পাঁপড়ে।

কেন ছুটতে গেলাম

কেন পড়লাম ফাঁফড়ে।

ডান হাতের মুঠোয় যে টুকরো

তাকেই উদয় গহ্বরে চালান করে দু হাতে

প্যান্টের দু-মুখ ধরে গিঁট বেঁধে মুখ বেজার করে ঘরে ফেরা।

এখন তো তেলে ভাজা পাঁপড় খেলেই অম্বল।

তাই স্মৃতিই সম্বল। 

গৌতম বিশ্বাস

গৌতম বিশ্বাস

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *