‘একাবিংশ’র প্রাচীন পুজো পরিক্রমায় আজ, বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ি, রায়কতপাড়া (জলপাইগুড়ি) পুজো নিয়ে জানবো।

Baikunthapur-Rajbari-Durga-Puja-Jalpaiguri

রাজা ধর্মদেব জলপাইগুড়ি জেলার করলা নদীর তীরে স্থাপন করেছিলেন বৈকুণ্ঠপুর-রায়কত রাজবংশের রাজধানী। রায়কতরা ছিলেন শাক্ত। পরবর্তী কালে সাড়ম্বরে প্রচলিত হয় এই দুর্গোৎসব। নানা ভাবে এই উৎসব ব্যতিক্রমী। ১৯৭০ সালে প্রকাশিত ‘জলপাইগুড়ি জেলা শতবার্ষিকী স্মারক গ্রন্থ’-এ চারুচন্দ্র সান্যাল এই দুর্গোৎসব প্রসঙ্গে লিখেছিলেন, “রাজবাড়ির দুর্গা প্রতিমা ছিল বিরাট আকারের, ঘোর লাল রং। বাঘের উপর দাঁড়িয়ে একটি মাত্র মূর্তি। প্রায়, ষাট বছর আগে লক্ষ্মী-সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ বাহন-সহ জুটে গেল এই বিরাট মূর্তির পাশে। দুর্গার রং-ও একটু ফিঁকে হয়ে গেল। বাঘটি ধীরে ধীরে হয়ে গেল সিংহ।…শুনতে পাওয়া যায় প্রায় পঁচাত্তর বছর আগেও নবমীর গভীর রাতে কি যেন একটা অতি গোপনে বলি দিয়ে তখনই করলার ধারে জঙ্গলে পুঁতে ফেলা হতো। দশমীর রাত শেষে সূর্য দেখা দেবার আগেই প্রতিমা বিসর্জন দেবার নিয়ম আছে বৈকুণ্ঠপুরের রাজাদের। …পুজোর তিনদিন তিন রাত চলত নাচ ও গান। …রায়কত সাহেব ছিলেন সঙ্গীতবিলাসী।” অতীতের মতো আজও মেলা বসে রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে। পুজোয় আজও পশুবলি হয়। গবেষকদের মতে প্রাচীন এই পুজোয় নানা আচার অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *