এই সপ্তাহের বাংলা বই– “হারবার্ট”-লেখক, নবারুন ভট্টাচার্য

4759fe27f_73348হারবার্ট চলচ্চিত্র ধরা পড়েছে সত্তরের দশকের নকশাল আন্দোলন প্রেক্ষাপটে। সেই আন্দোলনের চেতনা যে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় নি যেকোনো মূহুর্তেই তা আবার ফেটে পড়তে পারে তা বোঝানো হয়েছে। নবারুন ভট্টাচার্যের রচিত হারবার্ট উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। হারবার্ট চলচ্চিত্রটি  ৫৩তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ ছবি নির্বাচিত হয়।

পিতৃমাতৃহীন হারবার্ট সরকার উত্তর কলকাতার ক্ষয়িষ্ণু যৌথ পরিবারের বাসিন্দা। বাড়ির বৃদ্ধা জেঠিমা ছাড়া সকলের কাছেই অবহেলার পাত্র। তবে পাড়ার ছেলেছোকরারা হারবার্টকে পছন্দ করে। সত্তর দশকে হারবার্টের ভাইপো বিনু একবার আশ্রয় নিয়েছিল হারবার্টের ঘরে তখন সে নকশাল আন্দোলনের সাথে যুক্ত। পরে পুলিশের গুলিতে বিনু মারা যায়। ক্রমশ হারবার্ট তন্ত্র মন্ত্র জ্যোতিষ ইত্যাদি বুজরুকি করে পয়সা রোজগার করতে থাকে। এক যুক্তিবাদী প্রনব ঘোষ দলবল নিয়ে এসে হারবার্টকে শাসিয়ে যায় যে এই ব্যবসার ফলে তাকে জেলে যেতে হবে। এরপরই হারবার্ট আত্মহত্যা করে। তার মৃতদেহের সাথে যাবতীয় বিছানা তোষক বিদ্যুৎবাহী চুল্লীর ভেতর ঢোকানোর কিছু পরে প্রবল বিষ্ফোরণ ঘটে শ্মশানে। প্রশাসনিক তৎপরতায়, পুলিশের ঘেরাটোপে হারবার্টের মৃতদেহাংশ কোনো রকমে পোড়ানো হলে যে সত্যটা উঠে আসে তা হল বিস্ফোরক ঘুমন্ত অবস্থায় বহুকাল ছিল। হঠাৎ কোন পরিস্থিতিতে তা ধ্বংসাত্মক হবে তা রাষ্ট্র বুঝে উঠতে পারেনা! আসলে মৃত নকশাল ভাইপো বিনু অনেক ডায়নামাইট  সেল ঢুকিয়ে রেখেছিল হারবার্টের বিছানায়। নিরাপদে রাখার জন্যে। ভবিষ্যতে হয়ত কোনো বিপ্লবাত্মক কাজের উদ্দেশ্য ছিল তার। তাই ফেটে পড়েছে বহুদিন পরে। হারবার্টের মৃতদেহের সাথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *