এই সপ্তাহের বই- “শ্রীরামকৃষ্ণ ও গিরিশচন্দ্র”, লেখক- ডঃ শান্তি সিংহ

t_1ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণের অমৃতস্রোতের একটি অচঞ্চল ঢেউ গিরিশচন্দ্র। বাংলা নাটকের নটসূর্য, জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, শোক-দুঃখ ভরা জীবনের অর্থ একসময় হারিয়ে ফেলেছিলেন। ফলে ধর্ম সংক্রান্ত অবজ্ঞা, ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাস তার জীবনে প্রভাব বিস্তার করেছিল। নিজের প্রতিভাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল দম্ভ ও অহঙ্কারের বলয়।

একদিন হটাত তৎকালীন ইন্ডিয়ান মিরর কাগজের পাতা ওলটাতে ওলটাতে রামকৃষ্ণকে নিয়ে একটি ছোট্ট সংবাদ পড়লেন। তাচ্ছিল্যের সঙ্গে ভাবলেন, এই রামকৃষ্ণটি আবার কে? বেশ কিছুদিন পর দীননাথ বসুর বাড়িতে প্রথম রামকৃষ্ণকে দর্শন করেন। উপস্থিত কেশব চন্দ্র সেন মগ্ন হয়ে শ্রী রামকৃষ্ণের অমৃতকথা শ্রবণ করছেন। ঠাকুরের রকম সকম দেখে গিরিশের চোখে ঢং মনে হয়েছিল।

এরপর তিনবার ঠাকুরের সঙ্গে গিরিশের সাক্ষাৎ হয় কিন্তু গিরিশচন্দ্র ঠাকুরকে একজন সাধারন মানুষ হিসাবেই গন্য করেছেন। বহুদিন বাদে বলরাম বসুর বাড়িতে ঠাকুরের আগমন হয়। গিরিশ ঘোষও গিয়েছিলেন। ঠাকুর ভাবাবস্তায় গিরিশ ঘোষ কে দেখে, চোখে চোখ রেখে বলে উঠলেন, ‘না না, ঢং নয়-ঢং নয়! গিরিশ ঘোষ স্তম্ভিত- একি তার সন্দেহের মোক্ষম জবাব! গিরিশ ঘোষ নিজের রোগ ধরে ফেললেন, দম্ভ ও অহংকারই তার রোগ।

শ্রী রামকৃষ্ণলীলায়, গিরিশ ঘোষ এক বহুবর্ণচর্চিত চরিত্র। ডঃ শান্তি সিংহ রচিত শ্রীরামকৃষ্ণ ও গিরিশচন্দ্র একটি অনবধ্য আখ্যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *